১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ইউএস-বাংলার পাইলট আবিদের ওপর দোষ চাপাল নেপাল

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার সময় পাইলট প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন বলে সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি রিপোর্ট বলা হয়েছে।

পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে এতে পাইলট আবিদ সুলতান প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভুল নির্দেশনার কোনো কথা উল্লেখ নেই।

দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরিভাবে পাইলটকেই দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নেপাল সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনটির একাংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নেপালের কাঠমাণ্ডু পোস্টে। রিপোর্টে দেখা যায়, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে পাইলট প্রচণ্ড রকম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এছাড়াও কম ঘুমের কারণে তাকে অবসাদগ্রস্ত ও ক্লান্ত বলে মনে হয়েছে। ককপিটে বসে তিনি একাধিক বার কান্নাকাটি করেছিলেন।

অবতরণের ছয় মিনিট আগে আবিদ নিশ্চিত করেছিলেন বিমানের ল্যান্ডিংগিয়ার নিচে নেমে আটকে গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানের ককপিটের ইলেকট্রিক নির্দেশক লাইটের উল্লেখ করে পাইলট বলেন, গিয়ার নিচে নেমেছে, তিনটি সবুজ বাতি জ্বলছে। সহকারী পাইলট পৃথুলা রশিদ যখন চূড়ান্ত ল্যান্ডিং তালিকা পরীক্ষা করছিলেন তখন ধরা পড়ে গিয়ার নিচে নামেনি। কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় অবতরণ চেষ্টার সময় বিমানটি রানওয়েতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগুন ধরে যায়।

তদন্তকারীরা বলছেন, এক ঘণ্টার ওই ফ্লাইটে সুলতান ক্রমাগত ধূমপান করেছিলেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক এই পাইলটের সাড়ে ৫ হাজার ঘণ্টার উড্ডয়নের রেকর্ড ছিল। তবে তিনি তার ধূমপানের অভ্যাস থাকার তথ্য বিমানসংস্থাকে জানাননি। এ থেকে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ককপিটে থাকার সময়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর দিন ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কনট্রোলারের সঙ্গে কথোপকথনের যে অংশ ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে পাইলট আবিদ সুলতানের কথা বা আচরণ উদ্বিগ্ন বা বেপরোয়া বলে মনে হয়নি। উড়োজাহাজটি রানওয়ের কোন দিক থেকে অবতরণ করবে সেটিই ছিল তাদের কথোপকথনের বিষয়। তবে তার আগের কথোপকথনকে ভিত্তি ধরে নেপালের এ রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে।

গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১, ৭১ জন আরোহী নিয়ে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় চারজন ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশি, ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা যাত্রী নিহত হন। আহত হন নয়জন বাংলাদেশি, ১০ জন নেপালি ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।

তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেপাল সরকার প্রকাশ করেনি। এমন সময় সম্পূর্ণ দায় পাইলটের ওপর চাপিয়ে রিপোর্ট প্রকাশকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন।

রোহিঙ্গাদের কারনে চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে ২০১৮ আগস্ট ২৭ ১৬:১৩:০৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর ওপরও প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে ছয় হাজার একর জমির গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা বা ৮৬.৬৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইসিসিবির এই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট একটি নিকৃষ্টতম মানবিক বিপর্যয়। কোনো যুদ্ধ বা বিবাদ ছাড়াই বাংলাদেশ মিয়ানমারের মানুষের তৈরি নিকৃষ্টতম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এটি বাংলাদেশে বহুমাত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সংকট মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা দরকার।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে এসেছে। সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বিকল্প ছিল না।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের একটি বড় অংশ হচ্ছে মহিলা ও শিশু। এর মধ্যে নবজাতক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষও রয়েছে, যাদের বাড়তি সুবিধা এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে গত জানুয়ারিতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করলেও এখন পর্যন্ত এ চুক্তির অধীনে একজন রোহিঙ্গাও তার দেশে ফিরে যেতে পারেনি। আবার যারা নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে গেছে তাদের অনেককেই আটকে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি এবং এপ্রিলের মধ্যে ৫৮ জন রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরেছিল। তাদের সবাইকে আটক করেছে দেশটির সরকার।

পরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় নিয়ে বুথিডং কারাগার থেকে তাদের তথাকথিত ‘রিসেপশন সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় খোঁজা অব্যাহত থাকে।

গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করে বলেন, বিগত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারে যা ঘটেছে; এটা সম্ভবত বিশ্বে সুসংবদ্ধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত নজির আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ছিলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সাহায্যার্থে ৫০ কোটি ডলার অনুদানভিত্তিক সহায়তার ঘোষণা দেন। বিশ্বব্যাংক প্রধান সবাইকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন পেতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ইউএস-বাংলার পাইলট আবিদের ওপর দোষ চাপাল নেপাল

প্রকাশিত : ০৪:২৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার সময় পাইলট প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন বলে সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি রিপোর্ট বলা হয়েছে।

পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে এতে পাইলট আবিদ সুলতান প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভুল নির্দেশনার কোনো কথা উল্লেখ নেই।

দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরিভাবে পাইলটকেই দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নেপাল সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনটির একাংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নেপালের কাঠমাণ্ডু পোস্টে। রিপোর্টে দেখা যায়, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে পাইলট প্রচণ্ড রকম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এছাড়াও কম ঘুমের কারণে তাকে অবসাদগ্রস্ত ও ক্লান্ত বলে মনে হয়েছে। ককপিটে বসে তিনি একাধিক বার কান্নাকাটি করেছিলেন।

অবতরণের ছয় মিনিট আগে আবিদ নিশ্চিত করেছিলেন বিমানের ল্যান্ডিংগিয়ার নিচে নেমে আটকে গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানের ককপিটের ইলেকট্রিক নির্দেশক লাইটের উল্লেখ করে পাইলট বলেন, গিয়ার নিচে নেমেছে, তিনটি সবুজ বাতি জ্বলছে। সহকারী পাইলট পৃথুলা রশিদ যখন চূড়ান্ত ল্যান্ডিং তালিকা পরীক্ষা করছিলেন তখন ধরা পড়ে গিয়ার নিচে নামেনি। কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় অবতরণ চেষ্টার সময় বিমানটি রানওয়েতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগুন ধরে যায়।

তদন্তকারীরা বলছেন, এক ঘণ্টার ওই ফ্লাইটে সুলতান ক্রমাগত ধূমপান করেছিলেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক এই পাইলটের সাড়ে ৫ হাজার ঘণ্টার উড্ডয়নের রেকর্ড ছিল। তবে তিনি তার ধূমপানের অভ্যাস থাকার তথ্য বিমানসংস্থাকে জানাননি। এ থেকে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ককপিটে থাকার সময়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর দিন ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কনট্রোলারের সঙ্গে কথোপকথনের যে অংশ ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে পাইলট আবিদ সুলতানের কথা বা আচরণ উদ্বিগ্ন বা বেপরোয়া বলে মনে হয়নি। উড়োজাহাজটি রানওয়ের কোন দিক থেকে অবতরণ করবে সেটিই ছিল তাদের কথোপকথনের বিষয়। তবে তার আগের কথোপকথনকে ভিত্তি ধরে নেপালের এ রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে।

গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১, ৭১ জন আরোহী নিয়ে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় চারজন ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশি, ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা যাত্রী নিহত হন। আহত হন নয়জন বাংলাদেশি, ১০ জন নেপালি ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।

তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেপাল সরকার প্রকাশ করেনি। এমন সময় সম্পূর্ণ দায় পাইলটের ওপর চাপিয়ে রিপোর্ট প্রকাশকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন।

রোহিঙ্গাদের কারনে চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে ২০১৮ আগস্ট ২৭ ১৬:১৩:০৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর ওপরও প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে ছয় হাজার একর জমির গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা বা ৮৬.৬৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইসিসিবির এই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট একটি নিকৃষ্টতম মানবিক বিপর্যয়। কোনো যুদ্ধ বা বিবাদ ছাড়াই বাংলাদেশ মিয়ানমারের মানুষের তৈরি নিকৃষ্টতম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এটি বাংলাদেশে বহুমাত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সংকট মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা দরকার।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে এসেছে। সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বিকল্প ছিল না।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের একটি বড় অংশ হচ্ছে মহিলা ও শিশু। এর মধ্যে নবজাতক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষও রয়েছে, যাদের বাড়তি সুবিধা এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে গত জানুয়ারিতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করলেও এখন পর্যন্ত এ চুক্তির অধীনে একজন রোহিঙ্গাও তার দেশে ফিরে যেতে পারেনি। আবার যারা নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে গেছে তাদের অনেককেই আটকে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি এবং এপ্রিলের মধ্যে ৫৮ জন রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরেছিল। তাদের সবাইকে আটক করেছে দেশটির সরকার।

পরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় নিয়ে বুথিডং কারাগার থেকে তাদের তথাকথিত ‘রিসেপশন সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় খোঁজা অব্যাহত থাকে।

গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করে বলেন, বিগত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারে যা ঘটেছে; এটা সম্ভবত বিশ্বে সুসংবদ্ধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত নজির আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ছিলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সাহায্যার্থে ৫০ কোটি ডলার অনুদানভিত্তিক সহায়তার ঘোষণা দেন। বিশ্বব্যাংক প্রধান সবাইকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন পেতে পারে।