০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

রোহিঙ্গাদের কারণে চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর ওপরও প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে ছয় হাজার একর জমির গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা বা ৮৬.৬৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইসিসিবির এই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট একটি নিকৃষ্টতম মানবিক বিপর্যয়। কোনো যুদ্ধ বা বিবাদ ছাড়াই বাংলাদেশ মিয়ানমারের মানুষের তৈরি নিকৃষ্টতম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এটি বাংলাদেশে বহুমাত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সংকট মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা দরকার।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে এসেছে। সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বিকল্প ছিল না।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের একটি বড় অংশ হচ্ছে মহিলা ও শিশু। এর মধ্যে নবজাতক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষও রয়েছে, যাদের বাড়তি সুবিধা এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে গত জানুয়ারিতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করলেও এখন পর্যন্ত এ চুক্তির অধীনে একজন রোহিঙ্গাও তার দেশে ফিরে যেতে পারেনি। আবার যারা নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে গেছে তাদের অনেককেই আটকে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি এবং এপ্রিলের মধ্যে ৫৮ জন রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরেছিল। তাদের সবাইকে আটক করেছে দেশটির সরকার।

পরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় নিয়ে বুথিডং কারাগার থেকে তাদের তথাকথিত ‘রিসেপশন সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় খোঁজা অব্যাহত থাকে।

গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করে বলেন, বিগত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারে যা ঘটেছে; এটা সম্ভবত বিশ্বে সুসংবদ্ধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত নজির আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ছিলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সাহায্যার্থে ৫০ কোটি ডলার অনুদানভিত্তিক সহায়তার ঘোষণা দেন। বিশ্বব্যাংক প্রধান সবাইকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন পেতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সামাজিক সংগঠন সুহৃদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

রোহিঙ্গাদের কারণে চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে

প্রকাশিত : ০৪:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর ওপরও প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে ছয় হাজার একর জমির গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা বা ৮৬.৬৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইসিসিবির এই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট একটি নিকৃষ্টতম মানবিক বিপর্যয়। কোনো যুদ্ধ বা বিবাদ ছাড়াই বাংলাদেশ মিয়ানমারের মানুষের তৈরি নিকৃষ্টতম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এটি বাংলাদেশে বহুমাত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সংকট মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা দরকার।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে এসেছে। সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বিকল্প ছিল না।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের একটি বড় অংশ হচ্ছে মহিলা ও শিশু। এর মধ্যে নবজাতক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষও রয়েছে, যাদের বাড়তি সুবিধা এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে গত জানুয়ারিতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করলেও এখন পর্যন্ত এ চুক্তির অধীনে একজন রোহিঙ্গাও তার দেশে ফিরে যেতে পারেনি। আবার যারা নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে গেছে তাদের অনেককেই আটকে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি এবং এপ্রিলের মধ্যে ৫৮ জন রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরেছিল। তাদের সবাইকে আটক করেছে দেশটির সরকার।

পরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় নিয়ে বুথিডং কারাগার থেকে তাদের তথাকথিত ‘রিসেপশন সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় খোঁজা অব্যাহত থাকে।

গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করে বলেন, বিগত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারে যা ঘটেছে; এটা সম্ভবত বিশ্বে সুসংবদ্ধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত নজির আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ছিলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সাহায্যার্থে ৫০ কোটি ডলার অনুদানভিত্তিক সহায়তার ঘোষণা দেন। বিশ্বব্যাংক প্রধান সবাইকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন পেতে পারে।