১০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

রমা চৌধুরী আর নেই

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর না ফেরার দেশে চলে গেলেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। সোমবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামে। তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

স্বজনরা জানান, কোমরে আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই ভোর ৪টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রমা চৌধুরী।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক-বাহিনীর হাতে দুই ছেলেকে হারানোর পাশাপাশি নিজেও নির্যাতিত হন এই বীরাঙ্গনা। তবুও থেমে থাকেননি। একে একে লিখেছেন ১৮টি বই।

রমা চৌধুরী ’৭১ এর জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’, ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৯টি বই লিখেছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীতে খালি পায়ে বিচরণ ছিল এই বীরাঙ্গনার। নিজের লেখা বই নিজেই বিক্রি করতেন তিনি।

রমা চৌধুরী ১৯৩৬ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে- তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর (এমএ)ডিগ্রিধারী। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবন শুরু করেন রমা চৌধুরী। পরে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

চার ছেলে সাগর, টগর, জহর এবং দীপংকরকে নিয়ে ছিল তার সংসার। কিন্তু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর গুলিতে দু’পুত্র নিহত ছাড়াও দৈহিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

রমা চৌধুরী আর নেই

প্রকাশিত : ১০:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর না ফেরার দেশে চলে গেলেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। সোমবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামে। তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

স্বজনরা জানান, কোমরে আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই ভোর ৪টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রমা চৌধুরী।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক-বাহিনীর হাতে দুই ছেলেকে হারানোর পাশাপাশি নিজেও নির্যাতিত হন এই বীরাঙ্গনা। তবুও থেমে থাকেননি। একে একে লিখেছেন ১৮টি বই।

রমা চৌধুরী ’৭১ এর জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’, ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৯টি বই লিখেছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীতে খালি পায়ে বিচরণ ছিল এই বীরাঙ্গনার। নিজের লেখা বই নিজেই বিক্রি করতেন তিনি।

রমা চৌধুরী ১৯৩৬ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে- তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর (এমএ)ডিগ্রিধারী। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবন শুরু করেন রমা চৌধুরী। পরে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

চার ছেলে সাগর, টগর, জহর এবং দীপংকরকে নিয়ে ছিল তার সংসার। কিন্তু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর গুলিতে দু’পুত্র নিহত ছাড়াও দৈহিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি।