০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বিপাকে পাট চাষীরা

সুজানগর উপজেলায় এখন পাট কাটা ও ধোয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। কিন্তু পাট কাটতে ও ধোয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আর এর ফলে এ এলাকার কৃষকেরা সঠিক সময়ে জমি থেকে পাট কাটতে ও ধুতে হিমশিম খাচ্ছে।
কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও দিনপ্রতি তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০-৬৫০টাকা।

এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশ পাটের সুদিন আবার ফিরে এসেছে। এতে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন পাবনার সুজানগরের কৃষকেরা। পাট শিল্পের প্রতি উদাসীনতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে বছরের পর বছর পাটের বাজারে মন্দা অবস্থা চলছিল। এতে কৃষকরা পাট চাষ করে ক্রমাগত লোকসান খাচ্ছিল। ফলে এ অবস্থায় এক সময়ে পাট চাষে খ্যাত সুজানগরের কৃষকেরা পাট চাষ প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। কিন্তু গত দুই তিন বছর পাটের বাজার ভাল হওয়ায় এ জনপদের কৃষকেরা আবার পাট চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এবারে অনুকূল আবহাওয়া আর ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সার বিষ ও কীটনাশক পাওয়ায় আবাদ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে যা, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

ইতিমধ্যে মাঠে মাঠে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধুয়া এবং শুকানোর পাশাপাশি হাট-বাজারে নতুন পাট বিক্রি করা শুরু হয়েছে। এবার পাটের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও বেশ ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে সুখের হাসি দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের কৃষক মো. আখতার জানান, এবারে পাটের ফলন ভাল হয়েছে।

দুর্গাপুর গ্রামের পাট চাষী আমিরুজ্জামান বলেন, পাটের বর্তমান বাজারে কৃষকের কিছুটা লাভ হচ্ছে তবে শ্রমিকের মূল্য বেশি না হলে বেশি পরিমাণ লাভের মুখ দেখত সুজানগরের কৃষকেরা।

কেষ্টপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এবছর প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। আর প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮হাজার টাকা।

পাট ব্যবসায়ী মো. আমিন উদ্দিন ও আব্দুর রউফ বলেন, বর্তমান বাজারে উপজেলার হাট-বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২১শত টাকা দরে।

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ময়নুল হক সরকার বলেন, এ উপজেলায় পাটের যে বাম্পার ফলন হয়েছে তাতে কৃষকেরা খুশি হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে বেশ বেশ লাভবান হবে বলে আমি মনে করি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বিপাকে পাট চাষীরা

প্রকাশিত : ১২:২৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সুজানগর উপজেলায় এখন পাট কাটা ও ধোয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। কিন্তু পাট কাটতে ও ধোয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আর এর ফলে এ এলাকার কৃষকেরা সঠিক সময়ে জমি থেকে পাট কাটতে ও ধুতে হিমশিম খাচ্ছে।
কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও দিনপ্রতি তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০-৬৫০টাকা।

এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশ পাটের সুদিন আবার ফিরে এসেছে। এতে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন পাবনার সুজানগরের কৃষকেরা। পাট শিল্পের প্রতি উদাসীনতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে বছরের পর বছর পাটের বাজারে মন্দা অবস্থা চলছিল। এতে কৃষকরা পাট চাষ করে ক্রমাগত লোকসান খাচ্ছিল। ফলে এ অবস্থায় এক সময়ে পাট চাষে খ্যাত সুজানগরের কৃষকেরা পাট চাষ প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। কিন্তু গত দুই তিন বছর পাটের বাজার ভাল হওয়ায় এ জনপদের কৃষকেরা আবার পাট চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এবারে অনুকূল আবহাওয়া আর ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সার বিষ ও কীটনাশক পাওয়ায় আবাদ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে যা, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

ইতিমধ্যে মাঠে মাঠে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধুয়া এবং শুকানোর পাশাপাশি হাট-বাজারে নতুন পাট বিক্রি করা শুরু হয়েছে। এবার পাটের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও বেশ ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে সুখের হাসি দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের কৃষক মো. আখতার জানান, এবারে পাটের ফলন ভাল হয়েছে।

দুর্গাপুর গ্রামের পাট চাষী আমিরুজ্জামান বলেন, পাটের বর্তমান বাজারে কৃষকের কিছুটা লাভ হচ্ছে তবে শ্রমিকের মূল্য বেশি না হলে বেশি পরিমাণ লাভের মুখ দেখত সুজানগরের কৃষকেরা।

কেষ্টপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এবছর প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। আর প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮হাজার টাকা।

পাট ব্যবসায়ী মো. আমিন উদ্দিন ও আব্দুর রউফ বলেন, বর্তমান বাজারে উপজেলার হাট-বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২১শত টাকা দরে।

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ময়নুল হক সরকার বলেন, এ উপজেলায় পাটের যে বাম্পার ফলন হয়েছে তাতে কৃষকেরা খুশি হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে বেশ বেশ লাভবান হবে বলে আমি মনে করি।