প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে শিল্পায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আজ বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিএসইসি এর রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ পুঁজিবাজার উন্নয়েনে কাজ করছে সরকার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, সরকার তা চায় না।
শেখ হাসিনা বলেন, খুব বেশি লোভে পড়বেন না। কারণ প্রতিটি ব্যবসায় লাভের একটা সীমা আছে। আপনারা না জেনে বুঝে বিনিয়োগ করে ধরা খান আর দোষ হয় সরকারের।
তিনি আরো বলেন, তাই কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে নয়, নিজে জেনে বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমা রেখেই পা ফেলতে হবে। খুব বেশি যেন লোভে পড়ে না যান। তা হলে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না সেটাই আমার অনুরোধ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল। প্রতিনিয়ত এ বাজারের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজার। আমরাও এ বাজারকে সহায়তা দিচ্ছি। কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করছি। শেয়ার বাজারের লেনদেন ও কারচুপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিকতরণের পাশাপাশি সর্বত্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাসহ নানা কর্মসূচি ও কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে আপনাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। অর্থনীতিকে বেগবান, বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে পুঁজিবাজার। এর বিকাশে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত চীনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আগ্রহী হয়েছে। এরই মধ্যে চীন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এখন নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট দিই। চলতি অর্থবছরে আমরা বাজেট দিয়েছি ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার। এখন আমরা ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট করি।

অতীতের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় তো বাজেট দিতেও অন্যের কাছে হাত পাততে হতো। এখন সেই দিন আর বাংলাদেশের নেই।
শিক্ষা, অর্থনীতি, মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য সবকিছুতে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, সুখী দেশ। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়শীন দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, আমরা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের কথা মাথায় রেখে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই পরিকল্পনাও আমরা নিয়ে রেখেছি। আমরা ডেল্টা প্ল্যান করেছি, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ দেশ উপহার পায়।
ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী পালন করবো। আর ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবো। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে লাখো শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। তাদের যে স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, নিরক্ষরমুক্ত সেটিকে সামনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। শহীদদের স্বপ্ন আমাদের পূরণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

























