০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন আজ

দীর্ঘদিনের সংস্কারকাজ শেষে আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে অতিশিগগিরই হোটেলটি বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে নানাভাবে জড়িয়ে আছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের নাম। ১৯৭১ সালে দুই দফা গেরিলা হামলা হয় ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত এই হোটেলটিতে। বিশ্ববাসী জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ৩৫ বছর পরে আবারও ফিরে আসছে নতুন রূপে।

রাজধানী ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। এরপর পরিচালনায় আসে আর একটি বিদেশি হোটেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান স্টারউড।

১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এটি হোটেল শেরাটন নামে পরিচালিত হয়। তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রূপসী বাংলা নামে পরিচালিত হয় এই হোটেলটি।

২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কার কাজ শুরু হয়।চার বছর সংস্কার শেষে অবশেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ঐতিহাসিক এই হোটেলটি।

রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর কক্ষের সংখ্যা কমে ২৩১টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ স্কয়ার মিটার।

বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের অবস্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান অন্যদিকে। এখন দুটি এক করে দেওয়া হয়েছে।

হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও সরিয়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে।

হোটেলের ছাদ ছাড়া সব কিছুই নতুন। রুম ছিল ২৬ বর্গমিটার এখন রুম করা হয়েছে ৪০ বর্গমিটার। আগে বল রুমে বসে ৫শ জন মিটিং করতে পারতো। এখন এখানে ১০০০ মানুষ মিটিং করতে পারবে।

ভেতরের সুইমিং পুলটিও সরিয়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি পিছিয়ে ওই বছরের অক্টোবরে নতুন সময় ঠিক হয়। তারও পরে ২০১৭ সালের মার্চে শেষ হবে বলে জানানো হলেও তা হয়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন আজ

প্রকাশিত : ১০:১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দীর্ঘদিনের সংস্কারকাজ শেষে আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে অতিশিগগিরই হোটেলটি বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে নানাভাবে জড়িয়ে আছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের নাম। ১৯৭১ সালে দুই দফা গেরিলা হামলা হয় ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত এই হোটেলটিতে। বিশ্ববাসী জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ৩৫ বছর পরে আবারও ফিরে আসছে নতুন রূপে।

রাজধানী ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। এরপর পরিচালনায় আসে আর একটি বিদেশি হোটেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান স্টারউড।

১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এটি হোটেল শেরাটন নামে পরিচালিত হয়। তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রূপসী বাংলা নামে পরিচালিত হয় এই হোটেলটি।

২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কার কাজ শুরু হয়।চার বছর সংস্কার শেষে অবশেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ঐতিহাসিক এই হোটেলটি।

রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর কক্ষের সংখ্যা কমে ২৩১টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ স্কয়ার মিটার।

বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের অবস্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান অন্যদিকে। এখন দুটি এক করে দেওয়া হয়েছে।

হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও সরিয়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে।

হোটেলের ছাদ ছাড়া সব কিছুই নতুন। রুম ছিল ২৬ বর্গমিটার এখন রুম করা হয়েছে ৪০ বর্গমিটার। আগে বল রুমে বসে ৫শ জন মিটিং করতে পারতো। এখন এখানে ১০০০ মানুষ মিটিং করতে পারবে।

ভেতরের সুইমিং পুলটিও সরিয়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি পিছিয়ে ওই বছরের অক্টোবরে নতুন সময় ঠিক হয়। তারও পরে ২০১৭ সালের মার্চে শেষ হবে বলে জানানো হলেও তা হয়নি।