স্বপ্নের ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে মেট্রোপলিটন এলাকার জনগণকে অধিকতর আইনি ও পুলিশি সেবা দিতে গাজীপুর ও রংপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।
রবিবার সকাল ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করেন তিনি।
তিস্তার এক পারে রংপুর, আরেক পারে লালমনিরহাট। ফলে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ চারটি উপজেলার লোকজনকে রংপুরসহ সারা দেশে যাতায়াত করতে হতো প্রায় ৫০ কিলোমিটার ঘুরে। এ অবস্থায় তিস্তার ওপর একটি সেতুর স্বপ্ন সেখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো আজ।
মূল সেতু নির্মাণে ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের সেতুতে ১৬টি পিলার, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ও ১৭টি স্প্যানে ৮৫টি গার্ডার রয়েছে। এর বাইরে সেতু রক্ষায় উভয় পাশে এক হাজার ৩০০ মিটার নদীশাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা থেকে সেতু পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক।
বর্তমান সরকারের মেয়াদে ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সভায় রংপুরকে বিভাগ করার বিষয়টি অনুমোদিত হয়। একই বছর ৯ মার্চ এই বিভাগের বাস্তবায়ন হয় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে।
রংপুর বিভাগ বাস্তবায়নের পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। পরে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেন।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদে রংপুর মহানগর পুলিশ বিল-২০১৮ পাস হয়।
রংপুর সদর, সিটি করপোরেশন, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার ২৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে একটি পুলিশ লাইন্সসহ ছয়টি থানা থাকবে রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতায়।
অপরদিকে ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর পৌরসভাকে ১১তম সিটি করপোরেশন হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিটি করপোরেশনে মহানগর পুলিশ গঠনে আইনের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।
এছাড়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় থাকবে আটটি থানা। জিএমপির নতুন থানা ও এর অধিভুক্ত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আওতাধীন আটটি নতুন থানা হলো সদর (বর্তমান জয়দেবপুর থানা), বাসন, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, গাছা, পূবাইল, টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানা।
























