আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ধানের শীষ এখন বিষ। এ দেশের মানুষ এই বিষ আর পান করবে না। বিএনপিকে গ্রহণ করবে না। কারণ তারা জনগণের কাছে বিষে পরিণত হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারে ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজার যাওয়ার সময় সফরের দ্বিতীয় দিন রবিবার কর্ণফুলীর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, বিএনপি যেখানে ১০ বছরেও দাঁড়াতে পারেনি, সেখানে একমাসেও তারা কিছু করতে পারবে না। মানুষ এখন নির্বাচনের মুডে আছে, আন্দোলনের মুডে নেই। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কোটা আন্দোলনে ভর করেছে। তারপর তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই আর কাজে আসবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি। তারা গুজব সন্ত্রাস করছে।
তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিরোধ করার আহবান জানান তিনি।
যুক্তফ্রন্টের জাতীয় ঐক্যের ডাকের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটি বিদেশি সংস্থা জরিপ চালিয়েছে, যেখানে বলা আছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ৬৬ শতাংশ। এই ৬৬ শতাংশ বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হতে পারে না। যুক্তফ্রন্ট যে ঐক্যের ডাক দিয়েছে, সেটি জাতীয় ঐক্য নয়, জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে বিএনপি যে প্রচারণা চালিয়েছে, সেটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব যখন জাতিসংঘ দফতরে যান, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব ঘানায় ছিলেন। এসময় তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মকর্তার সঙ্গে মির্জা ফখরুল অনুনয় বিনয় করে কথা বলেছেন। তাই এরকম প্রতারক দল ক্ষমতায় আসলে দেশের নিরাপত্তা থাকবে না, উন্নয়নও হবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবন্ধ থাকলে, আগামী নির্বাচনেও বিজয় নিশ্চিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারীদের জন্য অনেক কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নারী জাতি সবাই কি শেখ হাসিনাকে আগামীতে সম্মান দেবেন? উচ্চস্বরে সকলে হা বলে আওয়াজ দেন সকলে। বিশ্বে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রভাবশালী নেত্রী। আপনাদের আস্থা আছে কি আমাদের নেত্রীর উপর? পুনরায় সবাই উচ্চস্বরে হা বলে আওয়াজ দেন।
প্রায় ২৮ মিনিটের বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,পঙ্গু ভাতা দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ গরিবের দল। বিএনপি কখনো গরিবের দল নয়, বিএনপি মানুষের দল নয়, ক্ষমতার দল, বিএনপি ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কর্ণফুলীতে বিএনপির কি অবস্থা আজ দেখে যান। কর্ণফুলী এখন নৌকার দুর্গ। কর্ণফুলী এখন তরুণ নেতা জাবেদের দুর্গ। শেখ হাসিনার নৌকার দুর্গে পরিণত। চট্টগ্রামের মানুষ বিএনপিকে আর চায় না। যারা পাকিস্তানের দালালি করে তাদেরকে চায় না।
পরে মাদক কে না বলুন, মাদক কে না বলুন বলে কয়েকবার উচ্চারণ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক।
সভায় দক্ষিণ জেলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ জামাল আহমেদ।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ,সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ূয়া।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ভূমিপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক চৌধুরী, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি প্রমুখ।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পৌঁছায় প্রতিনিধি দল। এরপর লোহাগাড়ায় মেহেরুন্নেসা স্কুল মাঠে সুধী সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তাদের। বিকাল ৩টায় কক্সবাজারের চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ৪টায় ঈদগা মাঠে পথসভা হবে।
কর্মসূচি শেষে কক্সবাজারে রাত্রিযাপন করবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল।
এর আগে রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গাড়ি বহর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছে।
রাতে তারা সেখানেই রাত্রিযাপন করে। পরে রবিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে প্রতিনিধি দল। যাত্রাপথে বহরটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কর্ণফুলী থানা এলাকায় পৌঁছে পথসভায় যোগ দিয়েছে।
এদিকে ওবায়দুল কাদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে সার্কিট হাউসে ভিড় জমান নেতাকর্মীরা। কাদের সার্কিট হাউসের ভেতরে ঢোকার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার কাছে যেতে ধাক্কাধাক্কিও করে। এ সময় ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে বারণ করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিবি/জেজে




















