১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অঘোষিত সেমিফাইনাল টপকানোর মিশন টাইগারদের

  • পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১২:১৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • 145

এশিয়া কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। অঘোষিত সেমিফাইনাল টপকাতে পারলেই বাংলাদেশ ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালে লড়বে ভারতের বিপক্ষে।

আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের এ খেলায় পাকিস্তানের সামনে টাইগার বাহিনী। তাদের মূল লক্ষ্য সুপার ফোরের শেষ খেলা টপকানো।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারতের কাছে টানা দুই ম্যাচে হার-পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরারই কথা। পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থারও স্বীকার করেছেন, তার দলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এশিয়া কাপের অঘোষিত সেমিফাইনালে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

শক্তিমত্তায় বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশ তাই এই ম্যাচে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই খেলতে নামবে। টাইগার কোচ স্টিভ রোডসও স্বীকার করছেন, তার দল এই ম্যাচে ফেবারিট নয়। তবে পাকিস্তানকে হারানোর সুযোগ আছে বলেই মনে করেন তিনি। রোডস বলেন, ‘পাকিস্তান এই ম্যাচে ফেবারিট। তবে সেটাই আমাদের জন্য ভালো। কারণ তারা জানে আমরাও ভয়ংকর দল। এই ম্যাচে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নামা আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। আমরা এই সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারি।’

ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ দিয়েই বিচার করলে তো হবে না। দল হিসেবে সম্প্রতি ওরা অনেক ভালো খেলছে। ভালো দল ওরা। তবে ওরা ভালো মানেই যে আমরা ভালো খেলতে পারব না, তা তো নয়। আজকের ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেভারিটের তকমা দিয়েও জয়ের আকাঙ্ক্ষায় বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই বাংলাদেশ দলের হেড কোচ স্টিভ রোডসেরও।

হারের ধরন নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া কতটা কঠিন, লোকে এসব বুঝবে না। বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ নেই। মূল কথা হলো, লোকে চায় খেলতে হবে এবং জিততেও হবে। আমাদের কাছেও সে রকমই প্রত্যাশা করে। কাজেই জেতার জন্যই খেলতে হবে। কিভাবে জেতা যায়, মাঠে করতে হবে সেই চেষ্টাই।

সেরাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কমতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ। সে জন্য একাদশে আজ দেখা যেতে পারে বেশ কিছু পরিবর্তনও। তামিম ইকবালের জায়গায় ওপেনিংয়ে লিটন কুমার দাশের সঙ্গী হয়ে তিন ম্যাচ খেলেও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারা নাজমুল হোসেনের আজ একাদশ থেকে ছিটকেই পড়ার কথা।

স্টিভ রোডসও কাল দুবাই স্পোর্টস সিটির আইসিসি একাডেমি মাঠে দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনের পর সেই ইঙ্গিত দিলেন, দল নির্বাচনী সভায় ওর (নাজমুল) ব্যাপারেও কথা বলব আমরা। নাজমুলের জায়গায় যাঁকে ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে আনা প্রায় নিশ্চিত, সেই তিনিও অনেক দিন থেকে রানে নেই। টানা ব্যর্থতায় বাদ পড়া সেই সৌম্য সরকারের আবার আছে ব্যাট হাতে পাকিস্তানকে চুরমার করার দুর্দান্ত স্মৃতিও।

২০১৫-র সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তাঁর হার না মানা ১২৭ রানের ইনিংসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ-কাণ্ড সম্পন্ন করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সব শেষ ম্যাচ হয়ে আছে সেটিই। এর পরও দুই দলের দেখা হয়েছে এবং তাতে পাকিস্তানও জিতেছে।

কিন্তু সেটি ছিল গত বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওয়ার্ম আপ ম্যাচ। ওই আসরেও বাজেভাবে হেরে শুরু করা পাকিস্তান কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে উড়িয়ে দিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কাজেই তাদের খেলার ধরনের অনিশ্চিত চরিত্রের কথাও মাথায় রাখছে বাংলাদেশ শিবির।

সংবাদ সম্মেলনে রোডস সে কথা বারবার মনেও করিয়ে দিলেন। তাই বলে নিজেরাও বসে নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুখস্মৃতি যদি সৌম্যকে ফর্মে ফেরাতে পারে, তাহলে টপ অর্ডারের সমস্যাও মিটে যায় অনেকটা।

আফগানিস্তান ম্যাচে ৫ নম্বরে নামলেও এই ম্যাচে আবার তিনে ফিরছেন সাকিব আল হাসানও। মোহাম্মদ মিঠুনও ৫ নম্বরেই ফিরছেন। ইমরুল কায়েস থাকছেন ছয়েই। আর একাদশে আরেকটি পরিবর্তন আসাও প্রায় নিশ্চিত। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামের জায়গায় তৃতীয় পেসার হিসেবে ফিরছেন রুবেল হোসেনও।

আফগানিস্তান ম্যাচে যিনি থাকলে মুস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে জোর করে আর বোলিং করাতে হতো না। ওই ম্যাচও এই বার্তাই দিচ্ছে যে শরীর ভেঙে পড়তে চাইলেও মনের জোর দিয়ে ঠিক চালিয়ে নিতে পারছে বাংলাদেশ।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :

অঘোষিত সেমিফাইনাল টপকানোর মিশন টাইগারদের

প্রকাশিত : ১২:১৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এশিয়া কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। অঘোষিত সেমিফাইনাল টপকাতে পারলেই বাংলাদেশ ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালে লড়বে ভারতের বিপক্ষে।

আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের এ খেলায় পাকিস্তানের সামনে টাইগার বাহিনী। তাদের মূল লক্ষ্য সুপার ফোরের শেষ খেলা টপকানো।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারতের কাছে টানা দুই ম্যাচে হার-পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরারই কথা। পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থারও স্বীকার করেছেন, তার দলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এশিয়া কাপের অঘোষিত সেমিফাইনালে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

শক্তিমত্তায় বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশ তাই এই ম্যাচে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই খেলতে নামবে। টাইগার কোচ স্টিভ রোডসও স্বীকার করছেন, তার দল এই ম্যাচে ফেবারিট নয়। তবে পাকিস্তানকে হারানোর সুযোগ আছে বলেই মনে করেন তিনি। রোডস বলেন, ‘পাকিস্তান এই ম্যাচে ফেবারিট। তবে সেটাই আমাদের জন্য ভালো। কারণ তারা জানে আমরাও ভয়ংকর দল। এই ম্যাচে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নামা আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। আমরা এই সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারি।’

ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ দিয়েই বিচার করলে তো হবে না। দল হিসেবে সম্প্রতি ওরা অনেক ভালো খেলছে। ভালো দল ওরা। তবে ওরা ভালো মানেই যে আমরা ভালো খেলতে পারব না, তা তো নয়। আজকের ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেভারিটের তকমা দিয়েও জয়ের আকাঙ্ক্ষায় বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই বাংলাদেশ দলের হেড কোচ স্টিভ রোডসেরও।

হারের ধরন নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া কতটা কঠিন, লোকে এসব বুঝবে না। বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ নেই। মূল কথা হলো, লোকে চায় খেলতে হবে এবং জিততেও হবে। আমাদের কাছেও সে রকমই প্রত্যাশা করে। কাজেই জেতার জন্যই খেলতে হবে। কিভাবে জেতা যায়, মাঠে করতে হবে সেই চেষ্টাই।

সেরাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কমতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ। সে জন্য একাদশে আজ দেখা যেতে পারে বেশ কিছু পরিবর্তনও। তামিম ইকবালের জায়গায় ওপেনিংয়ে লিটন কুমার দাশের সঙ্গী হয়ে তিন ম্যাচ খেলেও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারা নাজমুল হোসেনের আজ একাদশ থেকে ছিটকেই পড়ার কথা।

স্টিভ রোডসও কাল দুবাই স্পোর্টস সিটির আইসিসি একাডেমি মাঠে দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনের পর সেই ইঙ্গিত দিলেন, দল নির্বাচনী সভায় ওর (নাজমুল) ব্যাপারেও কথা বলব আমরা। নাজমুলের জায়গায় যাঁকে ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে আনা প্রায় নিশ্চিত, সেই তিনিও অনেক দিন থেকে রানে নেই। টানা ব্যর্থতায় বাদ পড়া সেই সৌম্য সরকারের আবার আছে ব্যাট হাতে পাকিস্তানকে চুরমার করার দুর্দান্ত স্মৃতিও।

২০১৫-র সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তাঁর হার না মানা ১২৭ রানের ইনিংসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ-কাণ্ড সম্পন্ন করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সব শেষ ম্যাচ হয়ে আছে সেটিই। এর পরও দুই দলের দেখা হয়েছে এবং তাতে পাকিস্তানও জিতেছে।

কিন্তু সেটি ছিল গত বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওয়ার্ম আপ ম্যাচ। ওই আসরেও বাজেভাবে হেরে শুরু করা পাকিস্তান কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে উড়িয়ে দিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কাজেই তাদের খেলার ধরনের অনিশ্চিত চরিত্রের কথাও মাথায় রাখছে বাংলাদেশ শিবির।

সংবাদ সম্মেলনে রোডস সে কথা বারবার মনেও করিয়ে দিলেন। তাই বলে নিজেরাও বসে নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুখস্মৃতি যদি সৌম্যকে ফর্মে ফেরাতে পারে, তাহলে টপ অর্ডারের সমস্যাও মিটে যায় অনেকটা।

আফগানিস্তান ম্যাচে ৫ নম্বরে নামলেও এই ম্যাচে আবার তিনে ফিরছেন সাকিব আল হাসানও। মোহাম্মদ মিঠুনও ৫ নম্বরেই ফিরছেন। ইমরুল কায়েস থাকছেন ছয়েই। আর একাদশে আরেকটি পরিবর্তন আসাও প্রায় নিশ্চিত। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামের জায়গায় তৃতীয় পেসার হিসেবে ফিরছেন রুবেল হোসেনও।

আফগানিস্তান ম্যাচে যিনি থাকলে মুস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে জোর করে আর বোলিং করাতে হতো না। ওই ম্যাচও এই বার্তাই দিচ্ছে যে শরীর ভেঙে পড়তে চাইলেও মনের জোর দিয়ে ঠিক চালিয়ে নিতে পারছে বাংলাদেশ।

বিবি/জেজে