০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

এখনো সক্রিয় তিতাসের সেই দুর্নীতিবাজ চক্র

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের দুর্নীতিবাজ চক্রটি এখনো সক্রিয় রয়েছে। পেট্রোবাংলার তদন্তে আর্থিক দুর্নীতি প্রমাণের পর নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। চক্রের সদস্যরা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা তিতাস ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের নিজেদের পক্ষে নিতে নতুন করে চেষ্টা শুরু করেছে।

তিতাস সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ও বিতরণ ছাড়াও কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে। এই চক্রের মূল হোতা হচ্ছেন আব্দুল ওহাব তালুকদার। তিনি বর্তমানে তিতাসের গাজীপুর শাখার ডিএমডি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর যাদের শোকজ ও বদলি করা হয়েছে তারা সবাই ওহাব তালুকদারের সিন্ডিকেটের সদস্য।

দুর্নীতির কারণে সাবেক এমডির সময়ে তাকে একবার ওএসডি করা হয়েছিল। সর্বশেষ দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে ওহাব তালুকদারকে শোকজ করা হলেও জোরালো লবিংয়ের কারণে তিনি আবারো তার সিন্ডিকেট নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সূত্র আরো জানায়, ওহাব তালুকদার বেশ কিছুদিন ধরে তিতাসের এমডি হতে জোর লবিং চালিয়েছেন। এ জন্য তিনি আর্থিকভাবেও শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে তিনি জামায়াত-বিএনপির আদর্শের রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে জড়িত। তিনি তিতাসের প্রকৌশলী এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর ওহাব তালুকদারকে শোকজ করা হলেও তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গত কয়েক বছর চক্রের সদস্যরা সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিতরণের মাধ্যমে মাসিক চুক্তির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেট্রোবাংলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই সিন্ডিকেট তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা কামাল বলেন, ‘পেট্রোবাংলার তদন্তের আলোকেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দোষীদের সাময়িক বরখাস্ত করাসহ বিভাগীয় মামলা দায়ের করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাকরিবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাতজনকে শোকজ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা ৫ জন ছাড়াও দুজন জিএম রয়েছে। জিএম পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া পেট্রোবাংলা আরো কোনো নির্দেশ দিলে তাও বাস্তবায়ন করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, গ্যাস বিতরণে ঘুষ-দুর্নীতি ও তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে পেট্রোবাংলা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে গ্যাস বিতরণে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর তিতাসের গাজীপুর শাখার বর্তমান ডিএমডি হিসেবে কমরত আব্দুল ওহাব তালুকদারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর সাতজনের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা করে।

তিতাসের গাজীপুর শাখার বর্তমান ডিএমডি হিসেবে কর্মরত আব্দুল ওহাব তালুকদার ও তিতাসের সাবেক পরিচালক (অর্থ) এবং বর্তমানে বাপেক্সে কর্মরত জিএম শংকর কুমার দাসকে শোকজ করা হয়। এ ছাড়া উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) আব্দুর রশিদ, ব্যবস্থাপক (হিসাব) হুমায়ুন কবির খান, উপ-ব্যবস্থাপক (বেতন ও তহবিল বিভাগ) নাজমুল হক, মিটারিং ও ভিজিল্যান্স টিমের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মহিদুর রহমান ও পাইপলাইন নির্মাণ বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। অপর ২২ জনকে বদলি করা হয়।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

এখনো সক্রিয় তিতাসের সেই দুর্নীতিবাজ চক্র

প্রকাশিত : ১১:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের দুর্নীতিবাজ চক্রটি এখনো সক্রিয় রয়েছে। পেট্রোবাংলার তদন্তে আর্থিক দুর্নীতি প্রমাণের পর নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। চক্রের সদস্যরা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা তিতাস ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের নিজেদের পক্ষে নিতে নতুন করে চেষ্টা শুরু করেছে।

তিতাস সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ও বিতরণ ছাড়াও কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে। এই চক্রের মূল হোতা হচ্ছেন আব্দুল ওহাব তালুকদার। তিনি বর্তমানে তিতাসের গাজীপুর শাখার ডিএমডি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর যাদের শোকজ ও বদলি করা হয়েছে তারা সবাই ওহাব তালুকদারের সিন্ডিকেটের সদস্য।

দুর্নীতির কারণে সাবেক এমডির সময়ে তাকে একবার ওএসডি করা হয়েছিল। সর্বশেষ দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে ওহাব তালুকদারকে শোকজ করা হলেও জোরালো লবিংয়ের কারণে তিনি আবারো তার সিন্ডিকেট নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সূত্র আরো জানায়, ওহাব তালুকদার বেশ কিছুদিন ধরে তিতাসের এমডি হতে জোর লবিং চালিয়েছেন। এ জন্য তিনি আর্থিকভাবেও শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে তিনি জামায়াত-বিএনপির আদর্শের রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে জড়িত। তিনি তিতাসের প্রকৌশলী এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর ওহাব তালুকদারকে শোকজ করা হলেও তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গত কয়েক বছর চক্রের সদস্যরা সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিতরণের মাধ্যমে মাসিক চুক্তির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেট্রোবাংলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই সিন্ডিকেট তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা কামাল বলেন, ‘পেট্রোবাংলার তদন্তের আলোকেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দোষীদের সাময়িক বরখাস্ত করাসহ বিভাগীয় মামলা দায়ের করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাকরিবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাতজনকে শোকজ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা ৫ জন ছাড়াও দুজন জিএম রয়েছে। জিএম পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া পেট্রোবাংলা আরো কোনো নির্দেশ দিলে তাও বাস্তবায়ন করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, গ্যাস বিতরণে ঘুষ-দুর্নীতি ও তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে পেট্রোবাংলা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে গ্যাস বিতরণে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর তিতাসের গাজীপুর শাখার বর্তমান ডিএমডি হিসেবে কমরত আব্দুল ওহাব তালুকদারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর সাতজনের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা করে।

তিতাসের গাজীপুর শাখার বর্তমান ডিএমডি হিসেবে কর্মরত আব্দুল ওহাব তালুকদার ও তিতাসের সাবেক পরিচালক (অর্থ) এবং বর্তমানে বাপেক্সে কর্মরত জিএম শংকর কুমার দাসকে শোকজ করা হয়। এ ছাড়া উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) আব্দুর রশিদ, ব্যবস্থাপক (হিসাব) হুমায়ুন কবির খান, উপ-ব্যবস্থাপক (বেতন ও তহবিল বিভাগ) নাজমুল হক, মিটারিং ও ভিজিল্যান্স টিমের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মহিদুর রহমান ও পাইপলাইন নির্মাণ বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। অপর ২২ জনকে বদলি করা হয়।

বিবি/রেআ