০৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দফায় দফায় বাড়ছে ডিমের দাম!

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিম এখন নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ— বাজারে কারও নজরদারি না থাকায় দফায় দফায় বাড়ছে ডিমের দাম। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক ডজন ডিম বিক্রি হতো ৯৫ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা বাজারে এক ডিম ক্রেতা বলেন, বাজারে কারও কোনও মনিটরিং নাই। ফলে আড়তদাররা নানা অজুহাতে যখন যেভাবে পারছে দাম বাড়াচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষেরা।

এব্যাপারে একই বাজারের এক খুচরা ডিম ব্যবসায়ী জানান, এখন ডিমের চাহিদা বেড়েছে। বাজারে যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, খামারিরা তা সরবরাহ করতে পারছে না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে, প্রতি ডজন ডিম ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও ৯৫-১০০ টাকা দরে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে।আর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০-১১ টাকায়। আর হালি হিসেবে ৪০-৪২ টাকা, ডজন বিক্রি করছেন ১১৫-১২০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি আড়তে দাম বেশি হলে খুচরা বাজারে দাম বাড়বেই। তারা যে দামে আনেন তার চেয়ে কিছুটা মুনাফা পেলেই খুশি। গত একমাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে তিন দফা। কেন দাম বাড়ছে সেটা তাদের জানা নেই। ডিমের দাম বাড়ার কারণ খামারিরাই ভালো বলতে পারবেন।

বর্তমানে বাজারে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ অপ্রতুল। কারণ, গত একবছর ধরে ডিমের দাম বিভিন্ন কারণে নিম্নমুখী ছিল। এসময় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

পূঁজির অভাবে তারা আর ব্যবসায় ফিরে আসতে পারেননি। তখন বেশি পরিমাণে ডিম বাজারে সরবরাহ হতো। এখন সরবরাহ কম, কিন্তু চাহিদা কমেনি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পোল্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের কনভেনর মসিউর রহমান খান বলেন, লোকসান দিয়ে দিয়ে যে সব খামারি সর্বস্বান্ত হয়ে চলে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার কোনও উদ্যোগ নেই। বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়বে কোন উপায়ে?

আর বাজারে সরবরাহ না বাড়লে ডিমের ওপর চাপ কমবে কিভাবে? চাপ না কমলে দাম কমবে কিভাবে? এসব সমস্যা নিরসনের কি কোনও উদ্যোগ আছে কারও? এমন অনেক প্রশ্ন তারও।

তিনি জানান, একজন খামারির প্রতি পিস ডিম উৎপাদনের খরচ পড়ে ছয় টাকার ওপরে। কাজেই তাকে টিকে থাকতে হলে প্রতি পিস ডিম কমপক্ষে সাত টাকা দরে ডিম বিক্রি করতে হবে। না পারলে তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাত টিকবে না।

এ ব্যাপারে কাওরান বাজারের ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, সিজনের কারণেই এখন ডিমের চাহিদা বেশি। সে তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বেড়েছে ডিমের দাম। দুই পয়সা মুনাফা না পেলে ব্যবসা করবো কেন? প্রশ্ন আশরাফ আলীর।

এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সফিউল আলম মুনসী বলেন, বাজার মনিটরিং টিম নিয়মিত কাজ করছে। ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে যদি কোথাও কোনও অসঙ্গতি চোখে পড়ে, তাহলে অবশ্যই বাবস্থা নেওয়া হবে।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

দফায় দফায় বাড়ছে ডিমের দাম!

প্রকাশিত : ১২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৮

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিম এখন নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ— বাজারে কারও নজরদারি না থাকায় দফায় দফায় বাড়ছে ডিমের দাম। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক ডজন ডিম বিক্রি হতো ৯৫ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা বাজারে এক ডিম ক্রেতা বলেন, বাজারে কারও কোনও মনিটরিং নাই। ফলে আড়তদাররা নানা অজুহাতে যখন যেভাবে পারছে দাম বাড়াচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষেরা।

এব্যাপারে একই বাজারের এক খুচরা ডিম ব্যবসায়ী জানান, এখন ডিমের চাহিদা বেড়েছে। বাজারে যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, খামারিরা তা সরবরাহ করতে পারছে না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে, প্রতি ডজন ডিম ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও ৯৫-১০০ টাকা দরে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে।আর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০-১১ টাকায়। আর হালি হিসেবে ৪০-৪২ টাকা, ডজন বিক্রি করছেন ১১৫-১২০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি আড়তে দাম বেশি হলে খুচরা বাজারে দাম বাড়বেই। তারা যে দামে আনেন তার চেয়ে কিছুটা মুনাফা পেলেই খুশি। গত একমাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে তিন দফা। কেন দাম বাড়ছে সেটা তাদের জানা নেই। ডিমের দাম বাড়ার কারণ খামারিরাই ভালো বলতে পারবেন।

বর্তমানে বাজারে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ অপ্রতুল। কারণ, গত একবছর ধরে ডিমের দাম বিভিন্ন কারণে নিম্নমুখী ছিল। এসময় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

পূঁজির অভাবে তারা আর ব্যবসায় ফিরে আসতে পারেননি। তখন বেশি পরিমাণে ডিম বাজারে সরবরাহ হতো। এখন সরবরাহ কম, কিন্তু চাহিদা কমেনি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পোল্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের কনভেনর মসিউর রহমান খান বলেন, লোকসান দিয়ে দিয়ে যে সব খামারি সর্বস্বান্ত হয়ে চলে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার কোনও উদ্যোগ নেই। বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়বে কোন উপায়ে?

আর বাজারে সরবরাহ না বাড়লে ডিমের ওপর চাপ কমবে কিভাবে? চাপ না কমলে দাম কমবে কিভাবে? এসব সমস্যা নিরসনের কি কোনও উদ্যোগ আছে কারও? এমন অনেক প্রশ্ন তারও।

তিনি জানান, একজন খামারির প্রতি পিস ডিম উৎপাদনের খরচ পড়ে ছয় টাকার ওপরে। কাজেই তাকে টিকে থাকতে হলে প্রতি পিস ডিম কমপক্ষে সাত টাকা দরে ডিম বিক্রি করতে হবে। না পারলে তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাত টিকবে না।

এ ব্যাপারে কাওরান বাজারের ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, সিজনের কারণেই এখন ডিমের চাহিদা বেশি। সে তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বেড়েছে ডিমের দাম। দুই পয়সা মুনাফা না পেলে ব্যবসা করবো কেন? প্রশ্ন আশরাফ আলীর।

এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সফিউল আলম মুনসী বলেন, বাজার মনিটরিং টিম নিয়মিত কাজ করছে। ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে যদি কোথাও কোনও অসঙ্গতি চোখে পড়ে, তাহলে অবশ্যই বাবস্থা নেওয়া হবে।

বিবি/জেজে