১০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষুদ্রঋণ খেলাপিরাও নির্বাচনে অযোগ্য হবেন

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১২:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৮
  • 175

ক্ষুদ্রঋণ খাতের খেলাপিরাও জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হতে যাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদি ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হবে তারাও কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

তবে চলমান ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হবে তারা অবশ্য এর আওতায় পড়বে না। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। তবে এ নিয়ম আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এটি কার্যকর করার আগে ক্ষুদ্রঋণের জন্য আলাদা ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো (সিআইবি) গঠন করা হবে। এরপর এটি কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) কাজ করছে। তাদের সহায়তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এটি গঠন করতে কমপক্ষে দু’বছর সময় লেগে যেতে পারে। এটি গঠনের পর যখন পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করবে তখন এ বিধান কার্যকর করা হবে। এটি কার্যকর করতে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন করতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপিরা জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য।

মনোন্নয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখের সাত দিন আগে থেকে প্রার্থীকে খেলাপি ঋণের দুর্নাম মুক্ত হতে হবে। সাত দিনের কম সময়ের আগে ঋণ পরিশোধ বা নবায়ন করলেও তিনি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবেন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন করে শুধু ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যাংকের পাশাপাশি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, আঞ্চলিক অফিস ও শাখাগুলো ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছিল। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোনো সিআইবি ছিল না। ১৯৯২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআইবি গঠন করা হয়। এর পর থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রেখে আসছে।

২০০৮ সাল থেকে সিআইবি অনলাইনে কাজ শুরু করে। ওই সময় থেকে ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করা সহজ হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিতে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণগ্রহীতাদেরও তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়।

ওই সময়ে সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া যে কোনো ঋণ বা তার কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি খেলাপি বলে গণ্য হবেন।

আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘কৃষিকাজের জন্য ক্ষুদ্রঋণ’ অর্থ চা, তামাক ব্যতীত ফসল ঋণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত স্বল্প ও মেয়াদি ঋণ এবং সেচ যন্ত্রপাতি, পশু পালন, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি যন্ত্রপাতি, নার্সারি ও উদ্যানভিত্তিক ফসল, পানের বরজ, জলমহাল ব্যবস্থাপনা, এবং রেশমগুটি উৎপাদন, তুঁতগাছ, লাক্ষাগাছ, খয়েরগাছ ইত্যাদি উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রদত্ত মেয়াদি ঋণ যার পরিমাণ প্রতিটি ঋণের বিপরীতে সুদ ও আসলসহ এক লাখ টাকার অধিক নয়।’ অর্থাৎ কৃষিকাজের জন্য ক্ষুদ্রঋণের খেলাপিরা এর আওতায় পড়বে না। তবে কৃষি খাতে ক্ষুদ্রঋণের আওতায় মেয়াদি ঋণ নিলে এবং এর পরিমাণ সুদাসলসহ এক লাখ টাকার বেশি হলে খেলাপি বলে গণ্য হবে। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবে।

বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিরা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে কেউ খেলাপি হলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বড় অঙ্কের মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে। অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছে।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকানোর জন্য আইনগত কাঠামো করা উচিত। এটি করা হলে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও কমে আসবে। যদিও এখন এ খাতে খেলাপি ঋণের হার খুবই কম।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণের বাজার বেড়েছে। অর্থনীতিতে এর অবদানও বেড়েছে। সারা দেশে এমআরএ’র নিবন্ধন নিয়ে ৭৫৮টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ১২১টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি থেকে লাইসেন্স নিয়েছে।

এদের ঋণগ্রহীতা প্রায় দুই কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার। তারা মোট ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও সমবায় অধিদফতর, সমাজসেবা অধিদফতর থেকে অনুমোদন নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর বাইরে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক), পল্লী উন্নয়ন অধিদফতরসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকারও বেশি। এতদিন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে কেউ খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতে পারত না।

ফলে এক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিরা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারত। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের জন্য ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো বা সিআইবি ছিল না। ফলে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো না। সিআইবি হলে সব খাতের খেলাপিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তখন সব খাতের খেলাপিদেরই নির্বাচন করার অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে।

এ বিষয়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নকারী সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতটি এখন অনেক বড় হয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পে মেয়াদি ঋণ দেয়া হচ্ছে। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। ফলে এ খাতের খেলাপিদের নিয়ে চিন্তাভাবনা হতেই পারে। আগে সিআইবি হোক, এরপর এটি দেখা যাবে।

এমআরএ’র সিআইবি গঠিত হলে এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবির সংযোগ দেয়া হবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব খেলাপির তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে অন্যসব ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানকেও এর আওতায় নিয়ে আসা যাবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপিরাও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের আওতায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। এগুলো বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিশেষভাবে এগুলোর নাম আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর বাইরে আরও বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে যেগুলোর খেলাপিরা নির্বাচন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংক। আগামীতে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপিদেরও নির্বাচন করার অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক আগে বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকিং ব্যবসা করলেও ইতিমধ্যে তারা বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে লাইসেন্স নিয়েছে। ফলে এ ব্যাংকের খেলাপিরা নির্বাচন করার অযোগ্য এখন থেকেই।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ক্ষুদ্রঋণ খেলাপিরাও নির্বাচনে অযোগ্য হবেন

প্রকাশিত : ১২:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

ক্ষুদ্রঋণ খাতের খেলাপিরাও জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হতে যাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদি ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হবে তারাও কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

তবে চলমান ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হবে তারা অবশ্য এর আওতায় পড়বে না। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। তবে এ নিয়ম আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এটি কার্যকর করার আগে ক্ষুদ্রঋণের জন্য আলাদা ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো (সিআইবি) গঠন করা হবে। এরপর এটি কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) কাজ করছে। তাদের সহায়তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এটি গঠন করতে কমপক্ষে দু’বছর সময় লেগে যেতে পারে। এটি গঠনের পর যখন পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করবে তখন এ বিধান কার্যকর করা হবে। এটি কার্যকর করতে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন করতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপিরা জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য।

মনোন্নয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখের সাত দিন আগে থেকে প্রার্থীকে খেলাপি ঋণের দুর্নাম মুক্ত হতে হবে। সাত দিনের কম সময়ের আগে ঋণ পরিশোধ বা নবায়ন করলেও তিনি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবেন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন করে শুধু ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যাংকের পাশাপাশি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, আঞ্চলিক অফিস ও শাখাগুলো ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছিল। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোনো সিআইবি ছিল না। ১৯৯২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআইবি গঠন করা হয়। এর পর থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রেখে আসছে।

২০০৮ সাল থেকে সিআইবি অনলাইনে কাজ শুরু করে। ওই সময় থেকে ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করা সহজ হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিতে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণগ্রহীতাদেরও তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়।

ওই সময়ে সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া যে কোনো ঋণ বা তার কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি খেলাপি বলে গণ্য হবেন।

আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘কৃষিকাজের জন্য ক্ষুদ্রঋণ’ অর্থ চা, তামাক ব্যতীত ফসল ঋণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত স্বল্প ও মেয়াদি ঋণ এবং সেচ যন্ত্রপাতি, পশু পালন, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি যন্ত্রপাতি, নার্সারি ও উদ্যানভিত্তিক ফসল, পানের বরজ, জলমহাল ব্যবস্থাপনা, এবং রেশমগুটি উৎপাদন, তুঁতগাছ, লাক্ষাগাছ, খয়েরগাছ ইত্যাদি উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রদত্ত মেয়াদি ঋণ যার পরিমাণ প্রতিটি ঋণের বিপরীতে সুদ ও আসলসহ এক লাখ টাকার অধিক নয়।’ অর্থাৎ কৃষিকাজের জন্য ক্ষুদ্রঋণের খেলাপিরা এর আওতায় পড়বে না। তবে কৃষি খাতে ক্ষুদ্রঋণের আওতায় মেয়াদি ঋণ নিলে এবং এর পরিমাণ সুদাসলসহ এক লাখ টাকার বেশি হলে খেলাপি বলে গণ্য হবে। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবে।

বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিরা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে কেউ খেলাপি হলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বড় অঙ্কের মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে। অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছে।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকানোর জন্য আইনগত কাঠামো করা উচিত। এটি করা হলে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও কমে আসবে। যদিও এখন এ খাতে খেলাপি ঋণের হার খুবই কম।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণের বাজার বেড়েছে। অর্থনীতিতে এর অবদানও বেড়েছে। সারা দেশে এমআরএ’র নিবন্ধন নিয়ে ৭৫৮টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ১২১টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি থেকে লাইসেন্স নিয়েছে।

এদের ঋণগ্রহীতা প্রায় দুই কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার। তারা মোট ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও সমবায় অধিদফতর, সমাজসেবা অধিদফতর থেকে অনুমোদন নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর বাইরে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক), পল্লী উন্নয়ন অধিদফতরসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকারও বেশি। এতদিন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে কেউ খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতে পারত না।

ফলে এক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিরা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারত। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের জন্য ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো বা সিআইবি ছিল না। ফলে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো না। সিআইবি হলে সব খাতের খেলাপিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তখন সব খাতের খেলাপিদেরই নির্বাচন করার অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে।

এ বিষয়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নকারী সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতটি এখন অনেক বড় হয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পে মেয়াদি ঋণ দেয়া হচ্ছে। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। ফলে এ খাতের খেলাপিদের নিয়ে চিন্তাভাবনা হতেই পারে। আগে সিআইবি হোক, এরপর এটি দেখা যাবে।

এমআরএ’র সিআইবি গঠিত হলে এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবির সংযোগ দেয়া হবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব খেলাপির তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে অন্যসব ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানকেও এর আওতায় নিয়ে আসা যাবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপিরাও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের আওতায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। এগুলো বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিশেষভাবে এগুলোর নাম আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর বাইরে আরও বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে যেগুলোর খেলাপিরা নির্বাচন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংক। আগামীতে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপিদেরও নির্বাচন করার অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক আগে বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকিং ব্যবসা করলেও ইতিমধ্যে তারা বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে লাইসেন্স নিয়েছে। ফলে এ ব্যাংকের খেলাপিরা নির্বাচন করার অযোগ্য এখন থেকেই।

বিবি/জেজে