ঢাকা রাত ৯:০১, বুধবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি মায়ানমার: কামাল

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গত দু’মাসে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মায়ানমার রাজি হয়েছে।
নাইপেদোতে মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল চ সুয়ি এবং পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠকের পর আসাদুজ্জামান খান টেলিফোনে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দুই দেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে এই যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন তিনি। খবর বিবিসির।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তিনি মায়ানমার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথ এই কমিটি ঠিক করবে রোহিঙ্গাদের কিভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
‘তারা ফেরত নেওয়ার কথা বলেছে, তারা জানিয়েছে তাদের সরকার প্রধান কফি আনান কমিশন বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি কমিটি তৈরি করেছেন.. কিন্তু আমরা বলেছি বাংলাদেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির তত্বাবধানেই কফি আনান কমিশনের বাস্তবায়ন হতে হবে।’
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের ঐ কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে যা নিয়ে মায়ানমার সরকারের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তিনি রাখাইনে নির্যাতন বন্ধের দাবি করেছেন যাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়। ‘তারা বলেছেন কোনো নির্যাতন হচ্ছেনা, তারা (রোহিঙ্গারা) নিজেরাই চলে যাচ্ছে। আমি বলেছি চলে যাওয়া ঠেকান আপনারা।’
এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্বীকার করেন, তিনি নিজে রাখাইনে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাননি।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে মাইন পাতার প্রসঙ্গ তোলার পর, মায়ানমার কর্তৃপক্ষ ‘অন্যদের’ দোষারোপ করেছে। ‘তবে মিয়ানমার বলেছে তারা মাইন অপসারনের উদ্যোগ নেবেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল (বুধবার) তার সাথে অং সান সূ চির বৈঠক হবে। বাংলাদেশের এসব দাবি, প্রস্তাব এবং বক্তব্য তখন তিনি আবারো তুলবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ‘আরসা জঙ্গিদের’ ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে।
দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশ-মায়ানমারের
বাংলাদেশ ও মায়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মায়ানমারের রাজধানী নাইপেদোর হরিজন লেকভিউ রিসোর্টে দ্বি-পাক্ষিক এই বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১২টা পর্যন্ত বৈঠক চলবে।
এরপর বেলা ২টা-৪টা পর্যন্ত সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে দুই দেশের ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড ল ইনফোর্সমেন্ট’ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হবে।
জ্যেষ্ঠ কর্মকতাদের (সিনিয়র অফিসিয়ালস) বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং মায়ানমারের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব ইউ টিন মায়েন্ট।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ অপু এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবার বিকেলে মায়ানমারে পৌঁছান। তার সঙ্গে আছে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাইপেদো বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান মায়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মেজর জেনারেল অং সয়ি।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‌স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব ছাড়াও বিজিবি প্রধান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক, পুলিশ প্রধান, কোস্টগার্ড প্রধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল রয়েছে।
মায়ানমার যাওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি হবে প্রধান আলোচ্য।’
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মায়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশটি সফরে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলটি ২৫ অক্টোবর দেশে ফিরবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনার মাধ্যমে সকল অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে চাই এবং আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিও স্থান পাবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর আগে মায়ানমারের ৫ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে এসেছিল এবং সম্প্রতি মায়ানমার থেকে আরো ৫ লাখেরো বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ