০৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্কটিশ সোয়েটারের নামে বাহারের অভিনব প্রতারণা

স্কটিশ সোয়েটারের নামে অবৈধ ব্যাংক একাউন্ট খুলে পরিচালনা পরিষদকে না জানিয়ে প্রতারণা করে আসছে মো: আতিকুল্লাহ বাহার। কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের ভুয়া রেজ্যুলেশন দিয়ে গোপন একাউন্ট খুলে প্রতারণা করত। এ বিষয়ে গত ২ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কোম্পানির অন্যতম মালিক মো: শাহিনুর আলম। বর্তমানে আতিকুল্লাহ বাহার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জেলহাজতে আটক রয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় স্কটিশ সোয়েটার নামে একটি গার্মেন্টস রয়েছে মো: শাহিনুর আলমের। ওই গার্মেন্টের জমি কেনার সূত্রে মো: আতিকুল্লাহ বাহারের সাথে স্কটিশ সোয়েটারের মালিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাহারকে স্কটিশ সোয়েটারের ১০ শতাংশ শেয়ার দিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট জয়েন্ট স্টকে কোম্পানির নাম নিবন্ধন করা হয়।

পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর কিছু ভালো কাজ করে সবার আস্থা অর্জন করে নেয় বাহার। স্কটিশ সোয়েটারের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু রূপালী ব্যাংকেই হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধু রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমেই ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনা করে আসছে কোম্পানিটি। অন্য কোনো ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়নি। কিন্তু গত ৩০ অক্টোবর মতিঝিলে অবস্থিত পেডেলকো লিমিটেড জানায়, তাদের পরিচালক মো: আল আমিনকে আতিকুল্লাহ বাহার স্কটিশ সোয়েটারের পরিচালক হিসেবে স্বাক্ষর করে কোম্পানির সিলযুক্ত ১৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করে। ওই একাউন্টটি এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেডের উত্তরা শাখায় খোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোম্পানির মালিক মো: শাহিনুর আলম এনআরবিসি ব্যাংকের উত্তরা শাখায় সরাসরি গেলে ব্যাংক ম্যানেজার জানান, কোম্পানির পরিচালক আতিকুল্লাহ বাহার তাদেরকে স্কটিশ সোয়েটারের নামে একাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেয়।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, এনআরবিসি ব্যাংকের উত্তরা শাখায় বাহার স্কটিশ সোয়েটারের বোর্ড মিটিংয়ের জাল কাগজ প্রদান করে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালকদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়। ৫০ পাতার চারটি চেক বই নেয়। বর্তমানে তার কাছে দুইশ’ পাতার চেক বই রয়েছে। কোম্পানির মালিক শাহিনুর আলম আশংকা করছেন উক্ত রূপে আরও একাধিক একাউন্ট খোলে প্রতারণা করে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে স্কটিশ সোয়েটারের অন্যতম মালিক মো: শাহিনুর আলম জানান, আমি আশংকা করছি বাহার স্কটিশ সোয়েটারের নামে হিসাব খুলে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করে থাকতে পারে। তার কাছে থাকা চারটি বইয়ে দুইশ’ চেকের পাতা রয়েছে। এরমধ্যে কতটি পাতা সে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাহার পল্টন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার হয়। বর্তমানে সে জেলহাজতে আটক রয়েছে। আতিকুল্লাহ বাহার অজ্ঞাতনামা লোকদের নিয়ে জয়েন্ট স্টকে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এনআরবিসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে হিসাব খুলে চেক সংগ্রহ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। এ অবস্থায় যদি কারও কাছে স্কটিশ সোয়েটারের রূপালী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকের চেক দেওয়া হয়ে থাকে তার দায়-দায়িত্ব কোম্পানি গ্রহণ করবে না।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় বাহারকে তার অপকর্ম থেকে সরে আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলেও সে গুরুত্ব দেয়নি। মূলত সে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সে টাকার জন্য কোনো অপকর্ম করতে ভয় পায় না। তাই স্কটিশ সোয়েটারের কোনো বিষয়ে লেনদেন না করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, শিগগিরই সব ধরনের তথ্যসহ গণমাধ্যমে স্কটিশ সোয়েটারের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিবি / ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

স্কটিশ সোয়েটারের নামে বাহারের অভিনব প্রতারণা

প্রকাশিত : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ নভেম্বর ২০১৮

স্কটিশ সোয়েটারের নামে অবৈধ ব্যাংক একাউন্ট খুলে পরিচালনা পরিষদকে না জানিয়ে প্রতারণা করে আসছে মো: আতিকুল্লাহ বাহার। কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের ভুয়া রেজ্যুলেশন দিয়ে গোপন একাউন্ট খুলে প্রতারণা করত। এ বিষয়ে গত ২ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কোম্পানির অন্যতম মালিক মো: শাহিনুর আলম। বর্তমানে আতিকুল্লাহ বাহার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জেলহাজতে আটক রয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় স্কটিশ সোয়েটার নামে একটি গার্মেন্টস রয়েছে মো: শাহিনুর আলমের। ওই গার্মেন্টের জমি কেনার সূত্রে মো: আতিকুল্লাহ বাহারের সাথে স্কটিশ সোয়েটারের মালিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাহারকে স্কটিশ সোয়েটারের ১০ শতাংশ শেয়ার দিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট জয়েন্ট স্টকে কোম্পানির নাম নিবন্ধন করা হয়।

পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর কিছু ভালো কাজ করে সবার আস্থা অর্জন করে নেয় বাহার। স্কটিশ সোয়েটারের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু রূপালী ব্যাংকেই হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধু রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমেই ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনা করে আসছে কোম্পানিটি। অন্য কোনো ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়নি। কিন্তু গত ৩০ অক্টোবর মতিঝিলে অবস্থিত পেডেলকো লিমিটেড জানায়, তাদের পরিচালক মো: আল আমিনকে আতিকুল্লাহ বাহার স্কটিশ সোয়েটারের পরিচালক হিসেবে স্বাক্ষর করে কোম্পানির সিলযুক্ত ১৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করে। ওই একাউন্টটি এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেডের উত্তরা শাখায় খোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোম্পানির মালিক মো: শাহিনুর আলম এনআরবিসি ব্যাংকের উত্তরা শাখায় সরাসরি গেলে ব্যাংক ম্যানেজার জানান, কোম্পানির পরিচালক আতিকুল্লাহ বাহার তাদেরকে স্কটিশ সোয়েটারের নামে একাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেয়।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, এনআরবিসি ব্যাংকের উত্তরা শাখায় বাহার স্কটিশ সোয়েটারের বোর্ড মিটিংয়ের জাল কাগজ প্রদান করে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালকদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়। ৫০ পাতার চারটি চেক বই নেয়। বর্তমানে তার কাছে দুইশ’ পাতার চেক বই রয়েছে। কোম্পানির মালিক শাহিনুর আলম আশংকা করছেন উক্ত রূপে আরও একাধিক একাউন্ট খোলে প্রতারণা করে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে স্কটিশ সোয়েটারের অন্যতম মালিক মো: শাহিনুর আলম জানান, আমি আশংকা করছি বাহার স্কটিশ সোয়েটারের নামে হিসাব খুলে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করে থাকতে পারে। তার কাছে থাকা চারটি বইয়ে দুইশ’ চেকের পাতা রয়েছে। এরমধ্যে কতটি পাতা সে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাহার পল্টন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার হয়। বর্তমানে সে জেলহাজতে আটক রয়েছে। আতিকুল্লাহ বাহার অজ্ঞাতনামা লোকদের নিয়ে জয়েন্ট স্টকে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এনআরবিসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে হিসাব খুলে চেক সংগ্রহ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। এ অবস্থায় যদি কারও কাছে স্কটিশ সোয়েটারের রূপালী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকের চেক দেওয়া হয়ে থাকে তার দায়-দায়িত্ব কোম্পানি গ্রহণ করবে না।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় বাহারকে তার অপকর্ম থেকে সরে আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলেও সে গুরুত্ব দেয়নি। মূলত সে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সে টাকার জন্য কোনো অপকর্ম করতে ভয় পায় না। তাই স্কটিশ সোয়েটারের কোনো বিষয়ে লেনদেন না করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, শিগগিরই সব ধরনের তথ্যসহ গণমাধ্যমে স্কটিশ সোয়েটারের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিবি / ইএম