০২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন পর যানজটমুক্ত বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল বন্দরের দীর্ঘদিনের যানজটমুক্ত করলেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এখন যানজটমুক্ত।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত পরামর্শক কমিটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর নেতৃতে শুরু হয় যানজটমুক্ত অভিযান।

ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেইন সড়কে অতিরিক্ত আনসার সদস্য নিয়োজিত করে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাইপাস সড়ক দিয়ে ইজি বাইক ও ভ্যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, ইজিবাইক ও অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ অভিযানে কাস্টমস্, বন্দরসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সংগঠন অংশ গ্রহণ করেন।

ইতিপূর্বে যানজটের কারণে ভারত থেকে আসা পণ্য বোঝাইট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতো বন্দর এলাকায়। বন্দরের প্রধান সড়ক থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে ট্রাক চেসিস। বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট যানজটমুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ফিরে পেয়েছে স্বস্থি।

কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার এবং সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় দেশের আমদানিকৃত পণ্যের সিংহভাগ আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে আমদানিকৃত পণ্য দেশে আনতে পারায় এ বন্দরটি ব্যবসায়ীদের পছন্দের বন্দরে পরিণত হয়। বন্দরে স্থান সংকটের কারণে পণ্যজটে আক্রান্ত হতে থাকে বেনাপোল বন্দর। বিপাকে পড়েন বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর পণ্যজটের সাথে সাথে বন্দর এলাকায় বাড়তে থাকে যানজটও।

দীর্ঘদিন পর যানজটমুক্ত বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল বন্দরের দেড় কিলোমিটার এবং ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে চাকদা রোডের ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের জট লেগেই আছে। বেনাপোল বন্দরের অংশে দেড় কিলোমিটার এখন যানজট মুক্ত হলেও ওপারে এখনও যানজট লেগেই আছে। ওপারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে শত শত ট্রাক। ভারতের রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য বোঝাই ট্রাক ছাড়ার পর পেট্রাপোল বন্দরে আসার পর থেকেই বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ডেমারেজ বাবদ ট্রাক প্রতি আড়াই হাজার রুপি ডেমারেজ আদায় করে থাকেন।

এমন ডেমারেজ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ দিন। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এসব সমস্যা নিরসনে কলকাতা কাস্টম হাউজ এজেন্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পত্র দেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনারকে। চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় চেকপোস্টে যানজট সমস্যা সমাধানের।

এ দিকে বন্দরে স্থান সংকট দেখা দেয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা শতশত ট্রাক ও বাস চেসিস বন্দরের প্রধান সড়কে যত্রতত্র পড়ে থাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। গত দু মাস ধরে বন্দরের সামনের একটি সড়ক ট্রাক চেসিসের দখলে থাকে। বারবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া সত্বেও কোনো ফল হয়নি। যদিও বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকেন। তারপরও বন্দরে তেমন একটা উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি বলে ব্যসায়ীদের অভিযোগ। এ যানজট নিরসনের পরপরই আমদানি বেড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাকে।

বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্সের উপকমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরে এবং প্রধান সড়কে যানজট লেগেই থাকতো। এখন সেটির সমাধান হয়েছে। কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষের উদোগে সেটির সমাধান সম্ভব হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কাস্টম হাউসের কমিশনার নিজ উদ্যোগ নিয়ে মেইন সড়ক থেকে ছোট পরিবহনগুলো সরিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়ে তদারকিও করছেন।

এ সব বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, দু দেশের জয়েন্ট গ্রুপ আব কাস্টমস এর মিটিং এ বেনাপোল চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় ভারতীয় কাস্টমস এর পক্ষ থেকে। যানজটের কারণে আমদানি কমে রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছিল। বিজিবি, পুলিশ, আনসার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস ও ট্রাক শ্রমিকদের সহযোগিতায় চেকপোস্টকে যানজটমুক্ত করায় আমদানি বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, সমস্যা নয় সম্ভাবনার আলোকে বেনাপোলকে গড়তে আধুনিকায়নে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের গতি ফেরাতে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমকে উন্নত করতে একাধিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। অচিরেই বেনাপোল একটি রোল মডেলে পরিণত হবে।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

দীর্ঘদিন পর যানজটমুক্ত বেনাপোল বন্দর

প্রকাশিত : ১১:৪৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮

বেনাপোল বন্দরের দীর্ঘদিনের যানজটমুক্ত করলেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এখন যানজটমুক্ত।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত পরামর্শক কমিটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর নেতৃতে শুরু হয় যানজটমুক্ত অভিযান।

ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেইন সড়কে অতিরিক্ত আনসার সদস্য নিয়োজিত করে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাইপাস সড়ক দিয়ে ইজি বাইক ও ভ্যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, ইজিবাইক ও অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ অভিযানে কাস্টমস্, বন্দরসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সংগঠন অংশ গ্রহণ করেন।

ইতিপূর্বে যানজটের কারণে ভারত থেকে আসা পণ্য বোঝাইট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতো বন্দর এলাকায়। বন্দরের প্রধান সড়ক থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে ট্রাক চেসিস। বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট যানজটমুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ফিরে পেয়েছে স্বস্থি।

কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার এবং সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় দেশের আমদানিকৃত পণ্যের সিংহভাগ আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে আমদানিকৃত পণ্য দেশে আনতে পারায় এ বন্দরটি ব্যবসায়ীদের পছন্দের বন্দরে পরিণত হয়। বন্দরে স্থান সংকটের কারণে পণ্যজটে আক্রান্ত হতে থাকে বেনাপোল বন্দর। বিপাকে পড়েন বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর পণ্যজটের সাথে সাথে বন্দর এলাকায় বাড়তে থাকে যানজটও।

দীর্ঘদিন পর যানজটমুক্ত বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল বন্দরের দেড় কিলোমিটার এবং ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে চাকদা রোডের ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের জট লেগেই আছে। বেনাপোল বন্দরের অংশে দেড় কিলোমিটার এখন যানজট মুক্ত হলেও ওপারে এখনও যানজট লেগেই আছে। ওপারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে শত শত ট্রাক। ভারতের রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য বোঝাই ট্রাক ছাড়ার পর পেট্রাপোল বন্দরে আসার পর থেকেই বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ডেমারেজ বাবদ ট্রাক প্রতি আড়াই হাজার রুপি ডেমারেজ আদায় করে থাকেন।

এমন ডেমারেজ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ দিন। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এসব সমস্যা নিরসনে কলকাতা কাস্টম হাউজ এজেন্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পত্র দেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনারকে। চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় চেকপোস্টে যানজট সমস্যা সমাধানের।

এ দিকে বন্দরে স্থান সংকট দেখা দেয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা শতশত ট্রাক ও বাস চেসিস বন্দরের প্রধান সড়কে যত্রতত্র পড়ে থাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। গত দু মাস ধরে বন্দরের সামনের একটি সড়ক ট্রাক চেসিসের দখলে থাকে। বারবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া সত্বেও কোনো ফল হয়নি। যদিও বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকেন। তারপরও বন্দরে তেমন একটা উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি বলে ব্যসায়ীদের অভিযোগ। এ যানজট নিরসনের পরপরই আমদানি বেড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাকে।

বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্সের উপকমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরে এবং প্রধান সড়কে যানজট লেগেই থাকতো। এখন সেটির সমাধান হয়েছে। কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষের উদোগে সেটির সমাধান সম্ভব হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কাস্টম হাউসের কমিশনার নিজ উদ্যোগ নিয়ে মেইন সড়ক থেকে ছোট পরিবহনগুলো সরিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়ে তদারকিও করছেন।

এ সব বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, দু দেশের জয়েন্ট গ্রুপ আব কাস্টমস এর মিটিং এ বেনাপোল চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় ভারতীয় কাস্টমস এর পক্ষ থেকে। যানজটের কারণে আমদানি কমে রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছিল। বিজিবি, পুলিশ, আনসার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস ও ট্রাক শ্রমিকদের সহযোগিতায় চেকপোস্টকে যানজটমুক্ত করায় আমদানি বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, সমস্যা নয় সম্ভাবনার আলোকে বেনাপোলকে গড়তে আধুনিকায়নে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের গতি ফেরাতে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমকে উন্নত করতে একাধিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। অচিরেই বেনাপোল একটি রোল মডেলে পরিণত হবে।

বিবি/রেআ