০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভালুকায় তীব্র নির্বাচনী জোয়ার: সভা-সমাবেশ, প্রতিশ্রুতি ও ভোটারদের মাঝে ব্যস্ত প্রার্থীরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে প্রার্থীদের ব্যস্ততাও ততই তুঙ্গে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তারা দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি, পেশ করছেন এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে ও আহ্বান জানাচ্ছেন ভোটারদের।

দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনায় এই উপজেলার ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি, স্বতন্ত্র, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামায় উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্রতা বেড়েছে।

বিএনপি প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। তিনি তার বক্তৃতায় দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। সেইসাথে ভালুকায় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষি বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নারী শিক্ষার প্রসারে। তিনি দাবি করেন, কোনো দলীয় চাপ নয়, ভোটারদের সরাসরি প্রত্যাশা পূরণ করাই তার লক্ষ্য।

এনসিপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম শাপলাকলি প্রতীকে কৃষি ভর্তুকি, সারের সহজলভ্যতা ও গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীকে মূলত ইসলামিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে উন্নয়নের অঙ্গীকার করছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা ও জনবহুল স্থানে নতুন বাংলাদেশ ও গণভোট সম্পর্কিত ব্যানার-বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলোর প্রচার চলছে।

ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন ভোটার রয়েছেন। এখানে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। মোট ১০৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭টি মহিলা কেন্দ্র, ৭টি পুরুষ কেন্দ্র ও ৯৩টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরে এতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সরগরম প্রচারণা তারা আগে দেখেননি।

ভালুকা পৌরসভার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, এবার প্রচারণা অনেক জমজমাট। সব প্রার্থীই নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তবে আমাদের চাওয়া হলো যিনি জিতবেন, তিনি যেন কথার বাইরে গিয়ে কাজ করেন।

সজিব খান বলেন, কৃষি কার্ড বা ভর্তুকির কথা বললেও আমাদের আসলে দরকার সঠিক দামে ফসল বিক্রির নিশ্চয়তা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভালুকায় নির্বাচন হবে চার থেকে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে জোরদার প্রচারণা ও ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই আসনে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ভালুকায় তীব্র নির্বাচনী জোয়ার: সভা-সমাবেশ, প্রতিশ্রুতি ও ভোটারদের মাঝে ব্যস্ত প্রার্থীরা

প্রকাশিত : ০৪:১৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে প্রার্থীদের ব্যস্ততাও ততই তুঙ্গে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তারা দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি, পেশ করছেন এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে ও আহ্বান জানাচ্ছেন ভোটারদের।

দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনায় এই উপজেলার ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি, স্বতন্ত্র, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামায় উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্রতা বেড়েছে।

বিএনপি প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। তিনি তার বক্তৃতায় দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। সেইসাথে ভালুকায় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষি বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নারী শিক্ষার প্রসারে। তিনি দাবি করেন, কোনো দলীয় চাপ নয়, ভোটারদের সরাসরি প্রত্যাশা পূরণ করাই তার লক্ষ্য।

এনসিপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম শাপলাকলি প্রতীকে কৃষি ভর্তুকি, সারের সহজলভ্যতা ও গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীকে মূলত ইসলামিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে উন্নয়নের অঙ্গীকার করছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা ও জনবহুল স্থানে নতুন বাংলাদেশ ও গণভোট সম্পর্কিত ব্যানার-বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলোর প্রচার চলছে।

ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন ভোটার রয়েছেন। এখানে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। মোট ১০৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭টি মহিলা কেন্দ্র, ৭টি পুরুষ কেন্দ্র ও ৯৩টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরে এতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সরগরম প্রচারণা তারা আগে দেখেননি।

ভালুকা পৌরসভার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, এবার প্রচারণা অনেক জমজমাট। সব প্রার্থীই নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তবে আমাদের চাওয়া হলো যিনি জিতবেন, তিনি যেন কথার বাইরে গিয়ে কাজ করেন।

সজিব খান বলেন, কৃষি কার্ড বা ভর্তুকির কথা বললেও আমাদের আসলে দরকার সঠিক দামে ফসল বিক্রির নিশ্চয়তা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভালুকায় নির্বাচন হবে চার থেকে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে জোরদার প্রচারণা ও ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই আসনে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএস./