সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এনবিআরের আয়কর মেলা ছিল জমজমাট। সকাল থেকে করদাতাদের মেলায় প্রবেশ ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা এই ছুটির দিনে রিটার্ন জমা দেয়াকে শ্রেয় মনে করছেন। তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল শুক্রবার করদাতাদের পদচারণায় মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ
আয়কর মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার প্রতিটি বুথে ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। করদাতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিতে দেখা গেছে। সুশৃঙ্খলভাবে সেবা নিচ্ছেন করদাতারা। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে করদাতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। কেউ দ্রুত রিটার্ন পরিশোধ করতে দিনের প্রথম প্রহরে এসে মেলায় হাজির হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বিকেলেও এসেছেন রিটার্ন জমা দিতে। তবে মেলা শুরুর প্রথম প্রহরে করদাতাদের ভিড় ছিল অনেক বেশি। তবে শুক্রবার নামাজের বিরতি ছিল এক ঘণ্টা।
মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, দেশ পরিচালনার অর্থ জনগণের কাছ থেকে নিয়ে থাকে সরকার। ওই অর্থ দেশের উন্নয়নে ব্যয় হয়। আমরা অর্থ না দিলে সরকার কোথায় পাবে। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবার কর দেয়া উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
মেলায় কথা হয় কর অঞ্চল-১১ এর উপসহকারী কমিশনার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করদাতাদের অনেক ভিড় ছিল। কিন্তু আমাদের আশা ছিল আরো বেশি হবে। তবে আগামীকাল অর্থাৎ আজ শনিবার করদাতাদের ভিড় অনেক বেশি হবে।
আয়কর মেলায় কর দিতে মিরপুরের বাসিন্দা জব্বর আলী। তিনি বলেন, সকালে মেলায় খুব একটা ভিড় থাকে না। তাই সকালেই এসেছি। অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পেরেছি। কর অঞ্চলগুলোতে গেলে অনেক প্রশ্ন করা হয়, খুটিনাটি ভুল ধরা হয়। কিন্তু মেলায় কর্মকর্তারা হয়রানি করেন না। এ জন্য মেলায় কর দিতে এসেছি। আয়কর মেলায় আয়করদাতাদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন ভোরের কাগজকে জানান, তৃতীয় দিনে ২৪৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৩ টাকার আয়কর সংগ্রহ হয়েছে। কাল এ আয়ের হার দ্বিগুণ হতে পারে।
এদিকে নবমবারের মতো আয়োজিত আয়কর মেলা এবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে চলছে। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৫১টি জেলা এবং ১৮টি উপজেলাসহ মোট ৭৭টি স্পটে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় ব্যাংক বুথ ছাড়াও ই-পেমেন্টের মাধ্যমে অনলাইনেও জমা দেয়া যাচ্ছে আয়কর। করা যাচ্ছে ই-ফাইলিং। কর নিবন্ধন (ই-টিআইএন) নিতেও সময় লাগছে খুবই কম। যাবতীয় বিড়ম্বনা ছাড়া সহজে আয়কর জমা দিতে পেরে সন্তুষ্ট করদাতারা। মেলায় মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা বুথ রাখা হয়েছে। বুথ রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্যও। ই-পেমেন্টের মাধ্যমেও কর দিচ্ছেন অনেক করদাতা। এনবিআর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে খুব সহজেই জমা দেয়া যাচ্ছে আয়কর।
এ ক্ষেত্রে ২৮টি ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে। গেটওয়ে পেমেন্ট সিস্টেম কিউ ক্যাশ এ সেবা দিচ্ছে। কিউ ক্যাশের বুথে কর্মরত হাসান মাহমুদ বলেন, গত তিন দিনে ১১৯ জন করদাতা ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কর জমা দিয়েছেন। মেলায় এগিয়ে চলছে ই-ফাইলিং কার্যক্রমও। ই-ফাইলিং বলতে অনলাইনেই রিটার্ন জমা দেয়াকে বোঝায়। সেক্ষেত্রেও দুই শতাধিক রিটার্ন জমা পড়েছে।
আয়কর মেলার আহবায়ক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুক্র ও শনিবারের জন্য আমাদের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি, কেউ ফিরে যাবে না। মেলায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। করদাতাদের আশা যাওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলছে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
বিবি/রেআ


























