ঢাকা রাত ৮:২৬, বুধবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আসছে শীত, কেমন হবে শীতের সাজগোজ

আসছে শীত, আর এই শীতের শুরুতেই সবসময় একটু কেমন জানি, ত্বক শুষ্ক, চুল শুষ্ক। তাই মন মেজাজও থাকে রুক্ষ। এই রুক্ষতাকে জয় করতে প্রয়োজন মনযোগ আর একটু যত্ন। আজকাল নতুন ডিজাইনের পোশাক পড়ে, নিজস্ব স্টাইল বজায় রাখতে সবাই খুব সচেতন। শীতকাল অনেকের কাছে খুব আমেজের। আর স্টাইল প্রিয় তরুণ-তরুণীর কাছে এই সময়টা বেশ উপভোগ্য বলা যায়।

১. ত্বকের যত্ন: গরমের দিনে আমরা ত্বক নিয়ে ভাবি না বা ভাবতে হয় না। কিন্তু শীতে চাই নিয়মিত যত্ন। তা নাহলে শীতের শুরুতে দেখা যায় মুখের, গালের কোন অংশ ফেটে গেছে। যা দেখতে খুব বাজে দেখায়। তাই হেমন্ত আসার একদম প্রথম থেকেই যত্ন শুরু করতে হবে। তাহলে রক্ষা পাবে, আপানার সুন্দর ত্বকটি। সাধারণত গোসলের পর, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় শুষ্কতা অনুভূত হয়। তাই রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম আর গোসলের পূর্বে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করতে পারেন।

এছাড়া হারবাল প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করলে- সেখানে সবকিছুর সাথে মধু, গোলাপের পাপড়ি যুক্ত করে নিতে পারেন। যা এই ঋতুতে ত্বকের জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এটি পেস্ট করে ঠোঁটের যত্নেও ব্যবহার করা যায়।

২. ঠোঁট ফেটে যাওয়ার ভয় থাকলে: চ্যাপস্টিক, লিপ বাম সবসময় সাথে রাখতে হবে। সুন্দর ঠোঁটটি আপনার হাসিকে আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলবে। আর আপানার লাবণ্যতা প্রকাশপাবে দ্বিগুণভাবে। এভাবে নিয়মিত পরিচর্যায় আপনি পাবেন সুস্থ, সুন্দর ত্বকের সন্ধান।

৩. চুলের যত্ন: শীতের হাওয়ায় খুব তাড়াতাড়ি উজ্জ্বলতা, স্নিগ্ধতা হারায় আমাদের চুল। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সপ্তাহে দুই/তিনদিন হট অয়েল ম্যাসাজ করা উচিত, যা অত্যন্ত উপকারী। এই সময়টা ঠাণ্ডায় এলার্জি সমস্যা কম বেশি সবার থাকে, তাই চুলে হারবাল কোনকিছু আপ্লাই করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্যপারটা মাথায় রেখে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই লিটার পানি পান করতে হবে। চুলের উঠে যাওয়া বা রুক্ষতা বেশি হলে ই-ক্যেপসুল খেতে পারেন। তেলের সাথে ই-ক্যেপসুল, মাথায় তুলা দিয়ে লাগাতে পারেন। এছাড়া ফলের জুস, সবজি সুপ, ভিটামিন ই জাতীয় খাবার ও ফলমূল চুলের যত্নে এবং শরীরে পানি অংশ পূরণে সাহায্য করে।

৪. পোশাক পরিধান: শীতের সময়টা সবাই নিজেকে নানারকম সাজে সাজিয়ে নিতে পছন্দ করে। তাই তরুণতরুণীর মাঝে রুচিশীল পোশাকে নানারুপে সাজিয়ে নেবার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। সবাই চায় একটু আলাদা সাজে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে। সুন্দর একটা টি-শার্ট সাথে মানানসই লেগিন্স, রঙটা হতে পারে গোলাপি, পার্পেল, কমলা অথবা সাদা। রঙবেরঙের মাফলার সাথে লং-টি-শার্ট, খুব সহজেই মানিয়ে যায়। কালো রঙ প্রায় সবারই খুব প্রিয়, তাই শীতে কালো কার্দিগান বেশি চোখে পড়ে। লং সালয়ার কামিজের সাথে বোতামযুক্ত কার্দিগান সবার নজর কেড়ে নেয়। ফুলস্লিভ কামিজের সঙ্গে পাতলা একটি শাল জড়িয়ে নিলে আরামদায়ক হয়। খোলা হাল্কা রঙের ফুলের ডিজাইনের উলের শাল আজকাল তরুণীদের কাছে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অল্প শীতে হাফ-স্লিভ বা স্লিভলেস শার্টের উপর বিভিন্ন রঙের কটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫. আনুষাঙ্গিক উপকরণ: যে কোন রঙের টি-শার্ট সাথে গোল নকশার ইয়ার-রিংস লম্বা মুখের গড়নের সাথে মানিয়ে যায়। কামিজের সাথে ছোটো টপ কানে পরলে বেশ ভালো দেখায়। হাত-ঘড়ি, বালা টাইপ চুরি সাজগোজের অংশকে অনেক বেশি মজবুত করে। সুন্দর ত্বকের সাথে এসব অনুষঙ্গ আলাদা মাত্রা যুক্ত করে। বাইরে যাবার আগে হ্যান্ড-ব্যাগটি ঠিকঠাক করে গুছিয়ে নিন। লিপগ্লস, সানগ্লাস, ছাতা সঙ্গে রাখুন। চুলটাকে পরিপাটি করে বেঁধে নেয়া যেতে পারে। গায়ে জড়ানো সার্ফটি ইচ্ছা করলে মাথায় বেঁধে বা একটা বেণী আকৃতি করে চুলে পেঁচিয়ে নিতে পারেন। নিজের ব্যক্তিত্ব ও পোশাকের সাথে মিল রেখে একটু অন্নরকম, নতুনত্ব সাজে দেখতে কার না ভাললাগে। যা শীতের সাজগোজ, ভাললাগা আর আমেজটাকে আরো বেশি উপভোগ্য করবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ