ঢাকা সন্ধ্যা ৭:২৫, বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধ

সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে নেয়া হবে কি-না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। এ মামলার প্রসিকিউটর আবুল কালাম আযাদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবুল কালাম আযাদ, প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল, সুলতান মাহমুদ সীমন, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নিসহ প্রসিকিউশনের অন্য সদস্যরা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের সহযোগিতা না করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে কুমিল্লায় মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়া শহীদুল্লাহ্ (৭৫) গত বছরের ২ আগস্ট গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দাউদকান্দিতে হত্যা, আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২১ মার্চ তার বিরুদ্ধে পূর্নাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করে প্রসিকিউশন দাখিল করে। শহীদুল্লাহ্ ১৯৬২ সালে প্রথমে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। এরপর ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ১৯৬৭ সালে কমিশন্ডপ্রাপ্ত হয়ে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হন।

এরপর ১৯৬৯ সালে ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৭০ সালে তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পোস্টিং দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ক্যাপ্টেন শহিদুল্লাহ্?কে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে তার নিজ এলাকা কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পাঠানো হয়। তার নেতৃত্বে কুমিল্লা সেনানিবাসের ১৪০/১৫০ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিয়ে সেখানকার স্কুল ও ডাকবাংলোয় সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এরপর ওই এলাকায় অন্যায় আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুন্ঠন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন শহিদুল্লাহ্? ও তার বাহিনী।

শহীদুল্লাহ্’র বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ:

প্রথম অভিযোগে: ১৯৭১ সালের ৭ জুন শহীদুল্লাহ্ পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর ৮/১০ জন সদস্যসহ দাউদকান্দি বাজারে হোমিও ওষুধের দোকানে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ডা. হাবিবুর রহমানকে আটক করে দাউদকান্দি সেনা ক্যাম্পে নির্যাতন করেন। পরে দাউদকান্দি ফেরিঘাট সংলগ্ন গোমতি নদীতে নিয়ে হত্যা করে মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৬ জুন শহীদুল্লাহ্ পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর ৪০/৫০ জন সদস্যসহ দাউদকান্দির উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি ও গোলাপেরচর গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ নিরস্ত্র ২০ জনকে অন্যায় আটক করে নির্যাতন, ৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করেন। আটককৃত ২০ জনের মধ্যে ৬ জনকে ছেড়ে দেন। আটককৃত ১৪ জনকে দাউদকান্দি সেনা ক্যাম্পে নেয়ার পথে গোলাপেরচর টেকে এনে লাইনে দাঁড় করান। লাইন থেকে একজনকে বের করে ৫০/৬০ হাত দূরে গোমতী নদীর কিনারে নিয়ে শহীদুল্লাহ্ একজনকে গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহ নদীর কিনারে ফেলে দেন। আটককৃত ১৩ জনকে নিয়ে নৌকাযোগে দাউদকান্দি ক্যাম্পে এনে নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধাদের খবরা-খবর দিতে এবং হত্যার ঘটনা কাউকে না জানানোর শর্তে সন্ধ্যার আগে ছেড়ে দেন।

তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২১ জুলাই শহিদুল্লাহ্ পাক সেনাদের নিয়ে দাউদকান্দি বাজারে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ নিরস্ত্র ড্রাইভার কালা মিয়াকে আটক ও নির্যাতন করে সেনাদের গাড়িতে তুলে চান্দিনা হাসপাতালের পেছনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহ খালে ফেলে দেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ