নরসিংদীতে শীতের আগমনে গ্রামাঞ্চলসহ শহরাঞ্চলগুলোতে হঠাৎই কুয়াশা পরায় বাড়ছে শিশুদের বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ। এতে করে বাড়ছে জেলাভিত্তিক দুটি হাসাপাতালের রোগীদের সংখ্যা। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এ ছাড়া শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ নানা পেশার মানুষ। শুক্রবার মধ্যরাতে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা শুয়ে আছেন। কাঁথার ওপর পাতলা কম্বল গায়ে দিয়েও শীত নিবারণ করতে পারছেন না তিনি। একটু উষ্ণতা পেতে তাঁর কম্বল ঘেঁষে ঘুমিয়ে আছে একটি বিড়াল। নরসিংদী রায়পুরা উপজেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. হানিবুল বাহার বলেন, শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গড়ে প্রতিদিন শিশু ওয়ার্ডে প্রায় ১০-২০ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের দুলালপুর এলাকার বাসিন্দা সালমা আক্তার (৩০) বলেন, আমার চার বছরের সন্তানকে নিয়ে দুই সাপ্তাহ যাবত ঠান্ডা জনিত রোগের কারনে হাসপাতালে ভর্তি করে রেখেছি।
শীতজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। নরসিংদীর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃআমিরুল ইসলাম আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, এই হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশু, ডায়রিয়ায় ৩ জন, অন্যান্য রোগে ২ জন ভর্তি হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ বাড়ছে।
এদিকে নরসিংদীর সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সুলতানা পারবিন আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, কোমলমতি শিশুদেরকে নিয়ে কুয়াশার মধ্যে বাইরে বের হওয়ার কারণে শিশুদের বাড়ছে ঠান্ডজনিত রোগ। তাই অভিবাভকদের শিশুদের গরম কাপড় ব্যবহার করা ও তিন দিনের বাইরে গেলে স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ও নিকটস্থ কোন হাসপাতালে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিবি/ ইএম















