প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। তারা যেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। তাহলে পরিবারেও তাদের গুরুত্ব বাড়বে। মেয়েদের অধিকার আদায় করতে নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে পরিমিবোধও বাড়াতে হবে। অধিকার আদায় করতে গিয়ে পারিবারিক ঝামেলা যেন না সৃষ্টি হয়।
রবিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এদিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বৃথা যেতে দেইনি দেব না। রোকেয়া স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা জজ হবে, ব্যারিস্টার হবে, বিচারপতি হবে। অাজ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সচিব, মেজর জেনারেল সবই হচ্ছে মেয়েরা। অামরা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। অধিকার কেউ দেয়া না, অধিকার অাদায় করে নিতে হয়। মেয়েদের অধিকার অাদায় করে নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা দেশে নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছি।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ নির্মূলের জন্য ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। উপবৃত্তি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং জেন্ডার সমতায় সরকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে নারীরা আজ কর্মমুখী। বেড়েছে নারীদের কর্মসংস্থান। নারীরা হয়েছে সাবলম্বী।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা অাজ সকল স্তরে সুযোগ পাচ্ছে। নারীরা অাজ পুলিশ, বিজিবি, এসপি, ডিসি, সচিব, বিচারপতি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে নিয়োজিত অাছেন, শান্তি রক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। অাজ প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী, উপনেতা সবাই নারী।
শেখ হাসিনা অারও বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এদেশের নারীসমাজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে।
‘সন্তানের পরিচয়ে মায়ের নাম আমরাই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করেছি। মা জন্ম দেন। মা-ই বোঝেন সন্তান জন্ম দেওয়ার কষ্ট। নারীরা অনেক কষ্টসহিষ্ণু। পুরুষদের গড় আয়ু বর্তমানে ৭১, নারীর ৭৩, গড় ৭২। এ থেকেও স্পষ্ট হয় নারী বেশি কষ্টসহিষ্ণু।’
তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়েছে আমাদের উপমহাদেশের নারীরাই। আমরাই প্রথম প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়েও নারীদের অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবি/জেজে



















