আবারও মুন সিনেমা হলকে ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার আলোচিত এ মামলায় মুন সিনেমা হলের মালিক ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ৩০ জুনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে ৮ অক্টোবর এ অর্থ পরিশোধে সম্মত হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
সেই টাকা মূল মালিককে পরিশোধের জন্য সরকারকে দুই মাস সময় দিয়েছিলেন আদালত।
আদালত ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রেখেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আজ সোমবার মামলাটি আবারও আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে একসময়ের মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ছিল ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করা হয় এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয় ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে।
ইতালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করলেও বিষয়টি আটকে যায়। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান একটি সামরিক ফরমান ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, সরকার কোনো সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিও এর আওতায় পড়ে যায়।
এর পর ২০০০ সালে ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে, যেখানে সংবিধানের ওই পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট যে ঐতিহাসিক রায় দেয়, তাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধানবহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে এবং ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন।
এর পর দীর্ঘদিনেও মালিকানা ফিরে না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল কর্তৃপক্ষ তখনকার ভূমি সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে।
সেই অভিযোগের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ১৯৭২ সালে মুন সিনেমা হল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০১ সালে প্রতীকী মূল্য ১ টাকা দরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তা হস্তান্তর করে ডেভেলপারদের কাছে। ডেভেলপাররা মূল সিনেমা হলটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করে এবং নিজেদের অংশ বর্তমান দোকান মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
এ অবস্থায় মুন সিনেমা হল আগের অবস্থায় ফেরত দেয়ার কোনো উপায় নেই জানিয়ে জমির মূল্য ও মুন সিনেমা হলের মূল কাঠামোর মূল্য ধরে এর মালিককে দেয়া যেতে পারে বলে আদালতে মত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
ওই শুনানির পর আপিল বিভাগ সিনেমা হলের জমি, স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের জন্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়। তিনি মুন সিনেমা হল ও এর জায়গার মূল্য ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেন।
ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মুন সিনেমা হলের মালিককে ওই অর্থ তিন কিস্তিতে পরিশোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেন আদালত।
আদেশে বলা হয়, প্রথম কিস্তিতে দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা, পরের দুই মাসের মধ্যে আরও ২৫ কোটি এবং বাকি টাকা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বলে আসছিল, এত টাকা দিতে তারা অপারগ। সরকারকেই এ দায় শোধ করতে হবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরই শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থীদের আজ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান আজ বাসসকে জানান।
তিনি জানান, প্রচারের সময় আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসি ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি ভোটের মাঠে রয়েছে ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি (ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি)। এসব কমিটির কাছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার কাজ শুরু করতে হবে। আর এটা বন্ধ করতে হবে ভোটগ্রহণ শুরু ৩২ ঘণ্টা আগে। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। সে হিসেবে এবার প্রার্থীরা ১৯ দিন প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।
নির্বাচনী পোস্টারের সাইজ দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যানার কোনভাবেই তিন মিটারের বেশি হবে না। পোস্টার রঙ্গিন করা যাবে না। পোস্টারে প্রার্থী ছাড়া দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে। যা দড়িতে ঝুঁলিয়ে প্রচার করতে হবে। ৪’শ বর্গফুট এলাকার বেশি বড় কোন প্যান্ডেল করে প্রচার চালানো যাবে না। কাপড়ের তৈরি ব্যানার করে প্রচার চালানো গেলেও ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবহার করা যাবে না। জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধা হয়, এমন কোন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকবে হবে। প্রচারের অংশ হিসেবে যে কোন প্রকার দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানো দন্ডনীয় অপরাধ।
মাইকে প্রচার চালানো যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পাশাপাশি একই নির্বাচনী এলাকাতে কোন অবস্থাতেই তিনটির বেশি লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী এলাকায় প্রতি ইউনিয়ন আর পৌর এলাকার ওয়ার্ড প্রতি একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না।
মোটর সাইকেলসহ যে কোন মোটরগাড়িতে করে মিছিল, মশাল মিছিল বা শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোন প্রকার বিদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহার নিষিদ্ধ।
প্রচারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অন্য কোন প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনা ব্যক্তি সম্মানহানীকর কিছু করতে পারবে না। উস্কানীমূলক কোন বক্তব্যও দেয়া যাবে না।
প্রচারণায় সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সব সুবিধা ত্যাগ করে প্রচার কাজে অংশ নিতে হবে। কোন ডাক বাংলো, সরকারি গাড়ি ব্যবহারসহ প্রটোকল ছেড়ে এলাকায় যেতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ আইনে অনুমতি থাকায় নিরাপত্তার কারণে প্রটোকল পাবেন। দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে না।
এর আগে গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনা (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। পরে ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৬৭ জন ও বাকি ৪৯৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন ৫৪৩ জন। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২৪৩ জন। এ ছাড়া রোববার উচ্চ আদালতে রিট করে আরও কয়েকজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার রায় পেয়েছেন।
রবিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনে বিকেল ৫টার মধ্যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের দলীয় ও জোটের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা স্ব-স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ওই তালিকার অনুলিপি কমিশনকে দিতে বলা হয়। তাদেরকে দেয়া চিঠিতে দলের প্রধান বা মহাসচিব বা সমমর্যাদার ব্যক্তির স্বাক্ষরে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বলা হয়। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ছাড়া ওই দলের অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে বিএনপিসহ কয়েকটি দল একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। রোববার চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা দেয়ার পর বাকিদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। আজ সোমবার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক দেবেন।
বিবি/জেজে


























