ঢাকা বিকাল ৩:৩৪, বৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যেসব গুণের প্রার্থী চান তৃণমূল আ. লীগ নেতারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল টাকার মালিক এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সখ্য আছে, এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে- তা হবে আত্মঘাতী। প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে সমাজে যাদের ক্লিন ইমেজ, রাজনৈতিক ঐতিহ্য, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব, জনসম্পৃক্ততা আছে এবং সর্বোপরি রাজনীতিকদের মধ্য থেকে। সেইসঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে তৃণমূলের পছন্দ ও মতামতকে।এমন অভিমত তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের।
বিভিন্ন জেলার নেতারা জানান, তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হলে প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের মতো তৃণমূলের নেতারাও মনে করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে হলে দলটিকে নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি বলে বিবেচিত তৃণমূলের নেতারা বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ২০০৮ সালে সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হওয়ায় বিজয়ী হয়ে এসেছেন দলীয় প্রার্থীরা। সেই নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়েও তেমন ভাবতে হয়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি না আসায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়ে এসেছেন অনেক প্রার্থী। ফলে প্রার্থীদের বিষয়টি তেমন আমলে নেওয়া হয়নি। তৃণমূল নেতারা বলছেন, এবার গণজোয়ার নেই, বিএনপিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে দলকে বিশেষভাবে যত্নশীল ও সচেতন হতে হবে। যার-তার হাতে নৌকা তুলে দিলে লক্ষ্য পূরণ হবে না।
তবে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর তৃণমূল নেতাদের আস্থা রয়েছে। তাদের মতে, শেখ হাসিনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবসময় খোঁজ-খবর রাখেন। সুতরাং যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি তিনি ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। তাই তার পছন্দের প্রতি তৃণমূল নেতাদের আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়েছেন তারা। তবে অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি সেই আস্থা-বিশ্বাস স্থাপন করতে দ্বিধা আছে তাদের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই তৃণমূলের পছন্দকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে অগণিত নেতাকর্মী। দলে কারও অবদানই কম নয়। ফলে মনোনয়ন একজনকে দেওয়া হলে অন্যজন নাখোশ হন।’
রাজ্জাক বলেন, ‘এবার অবশ্য চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘তৃণমূলের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যোগ্যতার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় থাকবে।’
প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল রহমান ফারুক বলেন, ‘সংগঠনের জন্যে কতটুকু ত্যাগ রয়েছে, সমাজে ক্লিন ইমেজ রয়েছে কিনা, সাংগঠনিক দক্ষতা কতটুকু, আদর্শের প্রতি কতখানি অনুগত, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে এসব গুণগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। টাকা আছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সখ্য ও পরিচয় আছে, শুধু এই দুটি গুণে মনোনয়ন দেওয়া হলে লক্ষ্য ব্যর্থ হবে আওয়ামী লীগের।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এবারের নির্বাচন হবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। তাই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারবে, এমন যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে।’
ফারুক আরও বলেন, ‘রাজনীতিক লোক মনোনয়ন পেলে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) জন্যে, দলের জন্যে ভালো হবে।’
আগামীতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া উচিত প্রশ্নে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘অবশ্যই রাজনীতিক। আর তৃণমূলের নেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেত্রী দেবেন।’
ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোমিন টুলু বলেন, ‘আসলে আমাদের জেলায় নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশী নাই। কারণ, যে চার জন এমপি এই জেলায় আছেন, তারা নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য। এলাকাতেও তারা জনপ্রিয়। সুতরাং নতুন প্রার্থীর আর দরকার নাই। নেত্রী আগামীতে অবশ্যই এ চার জনকে মনোনয়ন দেবেন।’
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘গত আট বছরে যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হলে দল ভালো করবে।’
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আবারও আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ