অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচিত ছাত্রদল। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে কমিটির মেয়াদও। এখন চলছে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা। নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতারা তদবিরও শুরু করেছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। সংগঠনের ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাদেরই নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন তা নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং গ্রহণযোগ্য নেতাদের হাতেই সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক, এমনটাই প্রত্যাশা নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাদের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সহ-সভাপতি জহির রায়হান আহমেদ, সহ-সভাপতি মঞ্জরুল আলম রিয়াদ, খোরশেদ আলম সোহেল, তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মোঃ কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বেশ কয়েকজন থাকলেও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন খোরশেদ আলম সোহেল। তিনি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সভাপতি পদ প্রত্যাশী জহির রায়হান আহমেদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যারা বিগত সময়ে রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ক্ষেত্রে অগ্রভাগে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন এমন ত্যাগী কর্মীদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা উচিত। যাদের আন্দোলন সংগ্রামে কোনো ভূমিকা ছিল না, তাদেরকে নয়, ত্যাগী নেতাকর্মীদের দল যথাযথ মূল্যায়ন করবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।
সভাপতি পদ প্রত্যাশী তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, যেহেতু কমিটির মেয়াদ দুই বছর হয়েছে, তাই স্বাভাবিক ভাবে সংগঠনের গতিশীল রক্ষায় নতুন কমিটি অবশ্যই হবে। কিন্তু সেটি নির্ধারণ করবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি যাকে যেখানে দেবেন সে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন, এর ব্যত্যয় ঘটবে না।
সভাপতি পদপ্রত্যাশী মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, কমিটি গঠনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় নিয়মিত নতুন কমিটি হবে, হওয়া উচিত। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটির জন্য অপেক্ষা করছেন।
তিনি বলেন, সংগঠন যদি শীর্ষ পদে দায়িত্ব দিলে, শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এবং শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে নিষ্ঠা ত্যাগের সমন্বয়ে কাজ করতে আমি প্রস্তুত। সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে আমার নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে। এখন সুযোগের অপেক্ষা।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আকতার শুভ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বেশ কয়েকজন থাকলেও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনও করেছেন তিনি।
নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী রাজু আহমেদ এনপিবি নিউজকে বলেন, নতুন কমিটি একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। বিগত সময়ে যারা আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিল। তাদেরকে দিয়ে কমিটি দিলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা খুশি হবে। সংগঠন এবং সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যে কোনো সময় কমিটি হতে পারে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। যদিও দুই বছর মেয়াদের এই কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে।
ডিএস./

























