০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পরশুরামে বাড়িতে ফেরি করে বিদ্যুত সংযোগ

সচারাচার যে কোন পণ্য কিংবা সামগ্রী বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা গেলেও এবার ফেরি করে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফেনী পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির পরশুরাম জোনাল অফিস৷ “লাগবে বিদ্যুত্, লাগবে বিদ্যুত্” এভাবেই “আলোর ফেরিওয়ালা” সেজে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কর্তৃপক্ষ৷ ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে একজন সাধারণ গ্রাহক বিদ্যুত্ সংযোগ পাচ্ছেন৷ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অভিনব এ কর্মসূচি সাড়া ফেলে দিয়েছে মানুষের মধ্যে৷ এত সহজ পন্থায় এর আগে কখনো সংযোগ মেলেনি বলে সাধারণ গ্রাহকরা জানিয়েছে৷ গত কয়েক বছর আগেও একটি সংযোগের জন্য একজন গ্রাহককে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো৷ বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনা৷ একদিকে যেমন লোডশেডিং মুক্ত হয়েছে অপর দিকে বেড়েছে গ্রাহক সেবার মান৷ বর্তমান সরকার প্রতিটি বাড়ীতে বিদ্যুত্ পৌছে দিতে বদ্ধপরিকর শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ সেটি প্রমাণ করছে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির “আলোর ফেরিওয়ালা”৷

ব্যাতিক্রমধর্মী সেবামূলক এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফেনী পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি পরশুরাম জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ আলাউদ্দিন ৷ কর্মসূচির আওতায় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভ্যানে মিটার, তার, মই ও প্রয়োজনীয় সরজ্ঞাম নিয়ে ভ্যানের সামনে “আলোর ফেরিওয়ালা” ব্যানার লাগিয়ে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে বিদ্যুত্ লাগবে, বিদ্যুত্ লাগবে প্রচার করার মাধ্যমে খুব সহজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছে৷

কোলা পাড়া গ্রামের এয়ার আহাম্মদ চৌধুরী জানান, বিদ্যুত্ অফিসে ধর্না না দিয়েই মাত্র কয়েক মিনিটেই সংযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি৷ এত অল্প সময়ের মধ্যে এবারই প্রথম বিদ্যুত্ সংযোগ পেলাম বলে জানান, কোলাপাড়া গ্রামের লুত্ফুন্নাহার৷ আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচী অব্যাহত থাকলে আগামীতে কোন গ্রাহককে আর হয়রানী হতে হবে না বলে, চম্পকনগর গ্রামের নতুন গ্রাহক ঈসমাইল হোসেন জানান৷ ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ আলাউদ্দীন জানান, এ ধরণের কর্মসূচি ইতোমধ্যে দেশের দু’একটি জায়গায় শুরু হ েপারে৷ তবে বিদ্যুত্ সুবিধা অতিসহজে মানুষের দৌড় গোড়াই পৌছে দিতে অভিনব এ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে৷ আমি বিদ্যুত্ বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় দেখেছি এক সময় গ্রাহককে সংযোগের জন্য মাসের পর মাস ও বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে৷ ২-৩ হাজার আবেদন পেন্ডিং থাকতে দেখেছি৷ বিদ্যুত্ বিভাগের সেই অবস্থা এখন আর নেই৷ আমুল পরিবর্তন এসেছে সেবা ব্যবস্থাপনায়৷ আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচির মাধ্যমে সংযোগ পাওয়া খুব সহজতর হয়েছে৷ অফিসে এসে কোন গ্রাহককে দিনেরপর দিন হাটতে হবে না৷ মিটারের জন্য কাউকে অপেক্ষা করতে হবে না৷ শুধুমাত্র ওয়ারিং থাকলেই আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচীর মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই একজন গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে৷ এ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রথম দিনেই প্রায় ১০জন গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে এবং পল্লী বিদ্যুতের এ কর্মসূচীকে সাধারণ মানুষ ভূয়শী প্রশংসা করেছেন৷ আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচী চলমান থাকবে বলে পল্লী বিদ্যুতের এ কর্মকর্তা জানান৷

 

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত

পরশুরামে বাড়িতে ফেরি করে বিদ্যুত সংযোগ

প্রকাশিত : ০৬:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯

সচারাচার যে কোন পণ্য কিংবা সামগ্রী বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা গেলেও এবার ফেরি করে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফেনী পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির পরশুরাম জোনাল অফিস৷ “লাগবে বিদ্যুত্, লাগবে বিদ্যুত্” এভাবেই “আলোর ফেরিওয়ালা” সেজে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কর্তৃপক্ষ৷ ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে একজন সাধারণ গ্রাহক বিদ্যুত্ সংযোগ পাচ্ছেন৷ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অভিনব এ কর্মসূচি সাড়া ফেলে দিয়েছে মানুষের মধ্যে৷ এত সহজ পন্থায় এর আগে কখনো সংযোগ মেলেনি বলে সাধারণ গ্রাহকরা জানিয়েছে৷ গত কয়েক বছর আগেও একটি সংযোগের জন্য একজন গ্রাহককে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো৷ বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনা৷ একদিকে যেমন লোডশেডিং মুক্ত হয়েছে অপর দিকে বেড়েছে গ্রাহক সেবার মান৷ বর্তমান সরকার প্রতিটি বাড়ীতে বিদ্যুত্ পৌছে দিতে বদ্ধপরিকর শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ সেটি প্রমাণ করছে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির “আলোর ফেরিওয়ালা”৷

ব্যাতিক্রমধর্মী সেবামূলক এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফেনী পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি পরশুরাম জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ আলাউদ্দিন ৷ কর্মসূচির আওতায় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভ্যানে মিটার, তার, মই ও প্রয়োজনীয় সরজ্ঞাম নিয়ে ভ্যানের সামনে “আলোর ফেরিওয়ালা” ব্যানার লাগিয়ে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে বিদ্যুত্ লাগবে, বিদ্যুত্ লাগবে প্রচার করার মাধ্যমে খুব সহজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছে৷

কোলা পাড়া গ্রামের এয়ার আহাম্মদ চৌধুরী জানান, বিদ্যুত্ অফিসে ধর্না না দিয়েই মাত্র কয়েক মিনিটেই সংযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি৷ এত অল্প সময়ের মধ্যে এবারই প্রথম বিদ্যুত্ সংযোগ পেলাম বলে জানান, কোলাপাড়া গ্রামের লুত্ফুন্নাহার৷ আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচী অব্যাহত থাকলে আগামীতে কোন গ্রাহককে আর হয়রানী হতে হবে না বলে, চম্পকনগর গ্রামের নতুন গ্রাহক ঈসমাইল হোসেন জানান৷ ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ আলাউদ্দীন জানান, এ ধরণের কর্মসূচি ইতোমধ্যে দেশের দু’একটি জায়গায় শুরু হ েপারে৷ তবে বিদ্যুত্ সুবিধা অতিসহজে মানুষের দৌড় গোড়াই পৌছে দিতে অভিনব এ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে৷ আমি বিদ্যুত্ বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় দেখেছি এক সময় গ্রাহককে সংযোগের জন্য মাসের পর মাস ও বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে৷ ২-৩ হাজার আবেদন পেন্ডিং থাকতে দেখেছি৷ বিদ্যুত্ বিভাগের সেই অবস্থা এখন আর নেই৷ আমুল পরিবর্তন এসেছে সেবা ব্যবস্থাপনায়৷ আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচির মাধ্যমে সংযোগ পাওয়া খুব সহজতর হয়েছে৷ অফিসে এসে কোন গ্রাহককে দিনেরপর দিন হাটতে হবে না৷ মিটারের জন্য কাউকে অপেক্ষা করতে হবে না৷ শুধুমাত্র ওয়ারিং থাকলেই আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচীর মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই একজন গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে৷ এ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রথম দিনেই প্রায় ১০জন গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে এবং পল্লী বিদ্যুতের এ কর্মসূচীকে সাধারণ মানুষ ভূয়শী প্রশংসা করেছেন৷ আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচী চলমান থাকবে বলে পল্লী বিদ্যুতের এ কর্মকর্তা জানান৷

 

বিবি/ ইএম