বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ছাগলনাইয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদের সুনামধন্য চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলকে জনগণ আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও দেখতে চায়। সাম্প্রতি দৈনিক “বিজনেস বাংলাদেশের” সঙ্গে আলাপকালে তার অতীত রাজনৈতিক জীবন এবং ভবিষ্যতে এলাকার রাজনীতিতে নিজের অর্জন-পরিকল্পনার কথা জানান। মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, আমি ছাগলনাইয়া উপজেলার মধ্যম শিলুয়া চৌধুরী বাড়িতে ১৯৭৫ সালে জন্ম গ্রহন করি। বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছাগলনাইয়া রাজনৈতিক হাওয়া সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুকুলে ছিল। এখানে দীর্ঘদিন রাজনীতি করে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং এখনও অবস্থানে আছেন তাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতা। তিনি বলেন, স্কুল জীবন থেকে এরকম একটি রাজনৈতিক আবহের মধ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সর্ম্পক্ত হই।
তিনি বলেন, আমার পিতা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী ছিলেন বলে স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়ানোর ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন বাধা পাইনি। আমি ১৯৮৮ সালে ছাগলনাইয়া হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। এরপর ফেনী সরকারি কলেজ পর্যায়ে পড়াশোনার সময় পদ-পদবিতে থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সক্রিয় কর্মী ছিলাম। ১৯৯০ সালে ফেনী সরকারি কলেজ একাদশ শ্রেণির ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৯৩ সালে ফেনী সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৯৫ সালে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে নির্বাচিত হই। ১৯৯৬ সালে ফেনী জেলা ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ১৯৯৭ সালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯৯৮ সালে জেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য ছিলাম। আমি ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। এরপর ধীরে ধীরে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হই। ২০১৪ সালে আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই। এলাকার মানুষ অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আপনাকে কেন এগিয়ে রাখবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, এক একজন নেতার এক এক ধরনের চারিত্রিক গুণ থাকে, সেটা নিতান্তই আলাদা। এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো তাদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশদ ব্যাখ্যায় না গিয়ে আমি বলবো, এলাকার মানুষ চায় আমি যেন তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করেছি। মানুষের সুখেদুখে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। তাই তারা আমাকে দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি ফেনীর গণমানুষের নেতা আলাউদ্দি আহমেদ চৌধুরী নাসিম ভাই ও ফেনীর মাটি-মানুষের আপনজন জননেতা নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি করি। তাই অত্র উপজেলার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে কাজ করি। নেতাকর্মীদের সবসময় কাছে থাকার চেষ্টা করি, তাদের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখি। তারা আমাকে ভালোবাসে বিধায় তারা আমাকে পূনরায় চেয়ারম্যান দেখতে চায়। তিনি বলেন, আমাকে যদি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ভাই ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী উক্ত পদে দেখতে চান আমি নির্বাচন করবো। তবে দল থেকে যাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষ হয়ে কাজ করবো। আমি এতটুকু বলবো, আমি যখন থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই এরপর থেকে আমার উপর এলাকার মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। তারা মনে করে আমি দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান হতে পারলে এলাকার মানুষের আরও বেশি সেবা করতে পারব। মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, একজন স্থানীয় নেতা হিসেবে সব জায়গাতে অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। আমার সেই সুযোগ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ভাই ও আমাদের জেলা আওয়ামীলীগের সুখেদুখের কান্ডারী নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি করে দিয়েছেন।
নিজ দলের অন্য কোনো প্রার্থীর সঙ্গে নিজের কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরে এলাকার মানুষকে চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমি সহযোগিতা করেছি তা অন্য কেউ পারেনি। নিজাম উদ্দিন হাজারীর সুদৃষ্টি ছিল বলেই মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে। সমাজসেবমূলক বিভিন্ন কাজে অবদানের কারণে মানুষ আমাকে তাদের মনে ঠাঁই দিয়েছে। এবার এই এ উপজেলা নির্বাচনে মানুষ পূনরায় তাদের প্রিয় প্রতীক নৌকায় মার্কায় আবারও ভোট দিতে চায়। তাদের দোয়া নিয়ে আমি নির্বাচনে দাঁড়াতে চাই। এই উপজেলায় নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে নৌকা বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ। নিজের এলাকার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল আরও বলেন, ফেনীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি ক্ষমতায় আসার পর এ এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। এখানে রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও সীমান্ত বাজার হয়েছে। তাই এলাকার মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে চায়। আর সেই উন্নয়নের ধারায় নিজেকে আরও সম্পৃক্ত করার জন্যই আগামী উপজেলায় নির্বাচনে জেলা আওয়ামীলীগ ও নেত্রী যদি যোগ্য মনে করেন অবশ্যই জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবো।
বিবি/ ইএম




















