সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) জন্য কেনা হচ্ছে বিশেষ ধরনের ৩৫টি গাড়ি। এর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরেক ধাপ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
এর মধ্যে অনুদান হিসেবে ৩৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর অনুমোদনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। আগামী ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগে এ সভা বসবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ওই বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় নেই। কিন্তু গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর সম্মতি নেয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পুলিশ।
জাইকার অর্থায়ন প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও জাপান উইংয়ের শহিদুল ইসলাম বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর থেকেই এ দেশে যেসব প্রকল্পে বিদেশিরা কর্মরত বিশেষ করে জাইকার প্রকল্পগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সরকার। এ কার্যক্রমে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৫০ কোটি ইয়েন অনুদান দিয়েছে জাইকা।
এর আগে জাইকা কোস্টগার্ডের জন্য বেশ কিছু বোট অনুদান দিয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় ১০টি আরমোরেড ক্যারিয়ার (বিশেষ ব্র্যান্ডের গাড়ি) ক্রয় করা হবে। এছাড়া ২০টি এসকট ভেহিকেল এবং ৫টি ফ্লাড লাইট ভেহিকেলসহ মোট ৩৫টি গাড়ি কেনা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমিত জনবল, লজিস্টিকস এবং যন্ত্রপাতি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি অপারেশনে সফলতা অর্জন করেছে। এসব অপারেশন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ মধ্যপন্থী ইসলামিক সাংস্কৃতির জন্য বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লালনের পাশাপাশি সহনশীল এবং বহুত্ববাদ হচ্ছে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য, যা এ অঞ্চলের জন্য একটি মডেল। সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠীর কারণে বাংলাদেশের এ অর্জন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
নিরাপত্তা, সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর অর্থায়নের উৎস এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সদস্যদের অনুপ্রেরণা ইত্যাদি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে সন্ত্রাসের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটর পুলিশ (ডিএমপি) সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু ভয়ানক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
আরও বলা হয়, বর্তমানে ডিএমপিতে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হয়। প্রয়োজনীয় যানবাহন ও লজিস্টিকসের অভাবে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আরমোরেড পার্সোনাল কেরিয়ারের (এপিসি) মতো সুসজ্জিত যানবাহনের অভাবে অনেক সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয় না।
নিকট অতীতে দেখা গেছে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ হয়। কিন্তু ডিএমপির ফ্লাড লাইট ভেহিকেলের মতো বিশেষ ধরনের যানবাহন না থাকায় গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও রাতের বেলায় অভিযান পরিচালনা না করে দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত সময় পায়।
তাছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশের যানবাহনের সংখ্যা অপ্রতুল। জাপান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আলোচনা অনুযায়ী জাপান সরকারের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ৩৫টি যানবাহন সরবরাহের মাধ্যমে ডিএমপির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিবি/জেজে

























