সিভিল পোশাক পরিহিত পুলিশ পরিচয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী যশোর শহরে দাপিয়ে বেড়ােচ্ছ। তবে এখনো পর্যন্ত এসব ছিনতাইকারীর লাগাম টেনে ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী । গত এক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক জায়গায় প্র্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তরা এসব ছিনতায়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সম্প্রতি এসব অপরাধীদের ধরতে কোতয়ালী থানা ও ডিবির কয়েকটি দল মাঠে নামলেও এখনো এসব অপরাধীদের কাউকে আটক করতে পারেনি। ইতোমধ্যে এসব অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোদ ডিসির বাংলোর সামনেও নাজির শংকরপুর এলাকার শেখ হাসিনা আইটি পার্কের গেটের সামনে এসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে শহরের ৪টি স্থানে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর জেলা পুলিশের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। কিছু কার্যত কোনো লাভ হয়নি। পুলিশ কাউকে আটক তো দূরে থাক, সন্দেহ পর্যন্ত করতে পারেনি। ওই ঘটনার পর ফের পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।
যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী নাফিজ ইমতিয়ার অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি ডিসির বাংলোর সামনে দিয়ে পায়ে হেঁটে শহরের দিকে আসছিলেন। বাংলোর গেটের সামনে পৌঁছনো মাত্র একটি লাল রঙের হোন্ডা ব্রান্ডের মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তার গতি পথরোধ করে। তাদের কাছে হ্যান্ডক্যাপ, ওয়াকিটকি এবং পিস্তল ছিল। নাফিজ ইমতিয়াজকে থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে দুর্বৃত্তরা বলে, কিছুক্ষণ আগে আমার মোবাইলে তুমি ফোন করেছো কেন? তোমার মোবাইলটা দেখি বলে হাতে নেয়।
এরপর আচমকা কয়েকটি থাপ্পড় মেরে বলে, তোর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তুই থানায় আয় এই বলে তার ব্যবহৃত স্যামসং ব্রান্ডের মোবাইল ফোনসেটটি নিয়ে চলে যায়। নাফিস তাদের কথামতো থানায় যায়। কিছু সেখানে গিয়ে তাদের চেহারার কোনো পুলিশ পাননি। সে পুলিশ পরিচয়দানকারীদের পরিচয় জানার সুযোগও পায়নি বললেন এ যুবক।
সরকারি এমএম কলেজের অপার অর্ঘ্য মন্ডল জানায়, নাজির শংকরপুর শেখ হাসিনা আইটি পার্কের সামনে পুলিশ পরিচয়ে তার গতিপথ রোধ করে তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এবং বলে সন্ধার মধ্যে তুই থানায় এসে দেখা করবি। তোর নামে অনেক অভিযোগ আছে বলে মটরসাইকেল নিয়ে সটকে পড়ে। এসময়ে পুলিশ বলে তিনি কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। সে শহরের বেজপাড়া সুধির বাবুর কাঠগোলা এলাকার অশোক কুমার মন্ডলের ছেলে। সে আরো জানান, কিছুক্ষণ পরই ওই চক্রটি চলে যায় শহরের নাজির শংকরপুর শেখ হাসিনা আইটি পার্কের গেটের সামনে।
যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম রাব্বির ও মাহির রায়হানের কাছ থেকে চক্রটি একই ভাবে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। মাহির রায়হান বাঘারপাড়া উপজেলার তেঘরি গ্রামের গোলাম ফকিরের ছেলে। প্রতারকদ্বয় দুইজনের উদ্দেশ্যে বলে- কেন তার ফোনে কল করা হয়েছে। তাদের মোবাইল দুইটি পকেট থেকে বের করার চেষ্টা করে। এসময় রাব্বি সত্যি পুলিশ মনে করেন এবং কোনো মাদক দিতে পারে কি-না এই ভেবে তাদের একজনকে বলেন, আপনার হাতের মধ্যে কিছু আছে কি-না আগে দেখাতে হবে।
এ কথা শোনার পরই তাদের দুইজনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়। এরপর দুইজনের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয় এবং একটি ইজিবাইক ডেকে বলে তোদের অ্যারেস্ট করা হলো থানায় চল। পরে তাদের না নিয়ে তারা মোটসাইকেলে দ্রুত চলে যায়। কিছু সময় পরে ওই দু’ছাত্র কোতয়ালী থানায় গিয়ে তাদের কোন হোদিসই পায়নি।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে শহরের ৪টি স্থানে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী দুর্বৃত্তরা হাঙ্ক ব্রান্ডের মোটরসাইকেল, ওয়াকিটকি, পিস্তল ও হ্যান্ডক্যাম্প নিয়ে ছিনতাই করেছিল। ওই ঘটনা পত্রপত্রিকায় আসার পর পুলিশ বেশ তৎপর হয়। কিছু কার্যত কিছু করতে পারেনি। কয়েক দিন যাবত ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ছিনতাইকারীদের ধরতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে পুলিশকে সহযোগীতা করুন। তাহলে এসব অপরাধীদের ধরতে পুলিশের পক্ষে সুবিধা হয় বলে তিনি জানান।
বিষয়টি নিয়ে যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আনছার উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনার পর থেকে বিষয়টি তারা গুরুত্বসহ কারে দেখছে। ইতোমধ্যে সেই সব অপরাধীদের ধরতে ঘটনা¯স্থলের কিছু ফুটেজ নিয়ে পুলিশের বিশেষ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
বিবি/রেআ





















