ঢাকা সকাল ১১:২৩, সোমবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অপহরণ-গুমের অভিযোগে যশোরে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরে ছেলেকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন একজন নারী।

মঙ্গলবার শহরতলীর শঙ্করপুরের তহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিরা খাতুন যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আমলী আদালতে মামলাটি করেন। বিচারক শাহিনুর রহমান পিটিশনটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এইচ এম শহিদুল ইসলাম, এসআই আমির হোসেন, এসআই হাসানুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাজন গাজী, এএসআই সেলিম মুন্সি, এএসআই বিপ্লব হোসেন, এএসআই সেলিম আহম্মেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. রমজান, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল আবু বক্কার, কনস্টেবল মিজান শেখ, কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, কনস্টেবল রাজিবুল ইসলাম ও কনস্টেবল টোকন হোসেনকে আসামি করা হয়েছে মামলায়।

হিরা খাতুন মামলায় বলেছেন, গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার একমাত্র ছেলে সাইদ ও তার বন্ধু শাওন যশোর শহরের পৌর পার্কে বেড়াতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে সাব্বির হোসেন নামের এক যুবক তাকে মোবাইল ফোনে জানায়- পুলিশ সাইদ ও শাওনকে পৌর পার্ক থেকে আটক করেছে। খবর পেয়ে তিনি পৌর পার্কে যান এবং দেখতে পান পুলিশ সাইদ ও শাওনকে ধরে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দৌড়ে গিয়ে পুলিশের কাছে তার ছেলেকে আটক করার কারণ জানতে চান। কিন্তু পুলিশ জবাব না দিয়ে তাকে থানায় গিয়ে যোগাযোগ করতে বলে।

ওই নারী অভিযোগ করেন, এরপর তিনি থানার সামনে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, কিন্তু তাকে থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। সন্ধ্যা সাতটার দিকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে না পারায় পুলিশ তার ছেলেকে ছাড়েনি। ৭ এপ্রিল তিনি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পারেন ছেলে সাইদ ও শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। এ খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। তবে পুলিশ তাকে কোন সহায়তা করেনি। পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে পুলিশ সাইদ ও শাওন পালিয়ে গেছে মর্মে কোর্টে একটা মামলা করেছে।

এরপর হিরা খাতুন ছেলের সন্ধানে অনেকবার পুলিশের কাছে গেলেও প্রতিবারই পুলিশ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, একপর্যায়ে ছেলের সন্ধান চেয়ে তিনি গত ৩০ মে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু আজও ছেলে ও ছেলের বন্ধুর খোঁজ পাননি তিনি।

বাদি সন্দেহ পোষণ করে বলেন, দুই লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও তাদের লাশ গুম করে ফেলতে পারে। এ জন্য তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেন।

এদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার।
তার দাবি, কুচক্রি মহলের ইন্ধনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই মামলাটি করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ