দেশজুড়ে কারফিউ জারির পরও শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় এক ব্যক্তি হত্যার শিকার হয়েছে। সোমবার রাতে ৪৫ বছর বয়সী ওই মুসলিম কাঠমিস্ত্রীকে তার নিজের কারখানায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে একদল দাঙ্গাবাজ। সে দেশের গির্জা ও হোটেলে সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। রবিবার এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সেখানে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়।
কিছু জায়গায় মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সহিংসতায় একজন মারা গেছে। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন শহরে দাঙ্গাকারীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।
ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জা ও অভিজাত হোটেলে একযোগে জঙ্গীদের হামলার ঘটনায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। হামলার পর থেকেই দেশটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত অংশগুলোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উচ্ছৃঙ্খল জনতা দ্বিতীয় দিনের মতো মসজিদগুলোতে হামলা চালিয়েছে, তাদের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তছনছ করেছে।
উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের মারাউয়িলি হাসপাতাল থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছুরিকাহত ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মৃত্যু হয়।
এদিকে দেশের সকলকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহ। তিনি বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে গত মাসের ভয়াবহ এই হামলার তদন্ত কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে সাত ঘন্টা ধরে বলবৎ ছিল এই রাত্রিকালীন কারফিউ। তবে কারফিউ ভেঙেই সেখানে সহিংস তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। পুলিশ প্রধান চান্দানা উইকরামরত্নে এক টেলিভিশন ভাষণে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করবে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকে এক ব্যক্তির দেয়া বিতর্কিত একটি পোস্টের পর খ্রিষ্টান-প্রধান শহর চিলৌতে মুসলিমদের কিছু দোকান ও মসজিদে আক্রমণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া ৩৮ বছর বয়সী সেই মুসলিম ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হয়। এই হামলার পর দেশজুড়ে এই মুসলিমবিরোধী সহিংস উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রীলংকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত শহর কিনিয়ামায় একটি মসজিদের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মসজিদের ভবনের তল্লাশির দাবি জানিয়ে জনতা সেখানেও পুলিশী অভিযানের দাবি উঠালে তারই এক পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার আগে মসজিদের কাছে একটি জলাশয়ে অস্ত্র আছে কিনা সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হেট্টিপোলা শহরেও তিনটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দাঙ্গা-হাঙ্গামা আরো ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ আরো কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
শ্রীলংকার ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার সিংহভাগই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। সেখান প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ মুসলিম।
বিবি/জেজে























