ঢাকা বিকাল ৪:৪৯, সোমবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অধিবাসীরা পাচ্ছে জমির খতিয়ান

জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলায় থাকা বিলুপ্ত ৫৫টি ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশি নাগরিকদের মাঝে জমির চুড়ান্ত খতিয়ান বিতরণ কার্যক্রম চলছে। গত ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ফলে এখন থেকে আর বিলুপ্ত ছিটমহলে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো বাধা থাকবেনা। সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশপচাই পরিবর্তন হয়ে ধাইরখাতা মৌজার অধীনে ২৬৯টি খতিয়ান সংযুক্ত ও বোয়ালমারী বাঁশপচাই পরিবর্তন হয়ে বনগ্রাম মৌজার অধীনে ৪৭৯টি খতিয়ান সংযুক্ত করা হয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত উত্তর গোতামারী ১৩৫ ও উত্তর গোতামারী ১৩৬ নম্বর ছিটমহল দুইটির জমি উত্তর গোতামারী মৌজার অধীনে মোট ২৮৯টি মূল খতিয়ান সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব খতিয়ান ইতোমধ্যে বতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম জানান, উপজেলার পাটগ্রাম পৌরসভা এবং দহগ্রাম ব্যতীত ৭টি ইউনিয়নের মোট ২১টি মৌজার অধীনে ৪ হাজার ২৭৬টি মূল খতিয়ান সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব বিলুপ্ত ছিলমহলের অধিবাসীরা জমি ভোগ দখল করলেও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারতেন না। কারণ আগে তাদের জমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় ক্রয়-বিক্রয় বা কোথাও রেজিষ্ট্রি হতো না। এসব বাংলাদেশি লোকজনের নামে জমির মালিকানা স্বরূপ মূল খতিয়ান দেওয়া হচ্ছে। এখন তাদের জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে আর কোনো বাঁধা নেই। এমন কি ব্যাংক ঋণ পেতেও কোনো সমস্যা হবে না।’ লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আহসান হাবীব বলেন, ‘১২ নভেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশিদের মধ্যে জমির মূল খতিয়ান ও নকশা বিতরণ অব্যাহত থাকবে। জেলার সদর উপজেলায় ৭৪৮টি, হাতীবান্ধায় ২৮৯টি ও পাটগ্রামে ৪ হাজার ২৭৬টি খতিয়ান বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে’। তিনি বলেন, এইসব খতিয়ানে যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে তাহলে তা সংশোধন করে সরকারিভাবে চুড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের দিন থেকে দুই বছরের মধ্যে কারো কোনো সমস্যা বা আপত্তি থাকলে তা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে নালিশ করে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি স্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৬৭ বছর পর ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় হলে সরকার বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসরত লোকজনের ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।এতোদিন এসব অধিবাসীর জমির মালিকানা ছিল না। তবে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিটমহল বিনিময় হলে এসব ভূ-খন্ডে বসবাসকারী অধিবাসীরা নিজের পরিচয় পান। এরপর তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। এবার পেলেন জমির মালিকানা। সদর উপজেলার বিলুপ্ত বাঁশপচাই ছিটমহলের বাসিন্দা হারুন অর রশীদ বলেন, ‘জমির খতিয়ান হাতে পেয়ে আমরা খুব খুশি। এতোদিন আমাদের জমি থাকলেও কাগজ ছিল না। তাই ক্রয়-বিক্রয় করতে পারি নাই। ছিটমহল বিনিময় হওয়ায় আমরা দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছি। এবার পেলাম জমির কাগজ। আর উন্নয়ন তো হচ্ছেই’।

এ বিভাগের আরও সংবাদ