০৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

১০৩ টাকায় পুলিশে চাকুরী পেয়ে স্বপ্ন পূরণ হলো দরিদ্র মেয়ে রুনার

রুনা খাতুনের ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিলো দেশ ও জনগনের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যায় কিভাবে সেই চিন্তা করতেন রুনা। নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নেন যে কোন বাহিনীতে চাকুরী নিয়ে জনগণের সেবা করবেন। তার মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ড্রেস খুব পছন্দ করতো রুনা। তাই পুলিশে চাকুরী করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একটি চাকুরী তার খুব প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তাকে চাকুরী দিবে কে? চাকুরী নিতে অনেক টাকা লাগে। এবার জানতে পারেন টাঙ্গাইলে পুলিশ কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হবে। এতে কোন টাকা লাগবে না। তাই এক শত টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও ৩ টাকার ফরম কিনে চাকুরী আবেদন করেন। গত ১ জুলাই টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে চাকুরী জন্য লাইনে দাড়ায় রুনা খাতুন। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ২জুলাই লিখিত অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। গত রোববার রাতে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে যখন চুরান্ত ফলাফলে রুনার নাম ঘোষনা হয়, তখন আনন্দে আত্মহারা রুনা খান। শুধু রুনা খাতুন নয় রাতে ফলাফল ঘোষণার পর চুরান্ত ফলে উত্তীর্ণ বেশিরভাগ প্রার্থীর আনন্দে চোখ ভিজে যায়। কেউ কেঁদে ফেলেন, আবার কেউ পুলিশ কর্মকর্তাদের সালামও করেন।

রুনা খাতুন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতি বলাটা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে। ২০১৬ সালে সূতী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০১৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোপালপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর রুনা খাতুন বলেন, আমার বাবা রিক্সা ও ভ্যান চালান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারনে মা এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করেন না। এতে কোন মতে তাদের সংসার চলে। রুনা লেখা পড়ার খরচ যোগাতে নিজে টিউশনি করতেন। সেখান থেকে যে আয় হতো তা দিয়ে ছোট ভাই রবিউল আওয়ালের লেখা পড়া চালাতেন। তাই তার খুব প্রয়োজন ছিলো চাকুরীটির। বিনা পয়সায় চাকুরী পেয়ে তিনি খুব খুশি। টাকা ছাড়া চাকুরী হবে, এটা কখনও ভাবতেও পারিনি। তাই নিয়োগ বোর্ডের সকল কর্মকর্তাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

রুনা খাতুন আরো বলেন, ছোট বেলা থেকে ইচ্ছে ছিলো কোন বাহিনীতে চাকুরী নিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করবো। তার মধ্যে পুলিশের ড্রেসটা আমার কাছে খুব ভাল লাগতো। তাই পুলিশে চাকুরী পেয়ে আমার খুব ভাল লাগছে।

রুনা খাতুনের মা অভিরন বেগম বলেন, আমার স্বপ্ন ছিলো আমার মেয়েকে পুলিশ অফিসার বানানো। সেই স্বপ্ন আল্লাহর রহমতে ও টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সংসারে আর কোন অভাব অনটন থাকবে না।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানিয়েছেন এবার শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে টাঙ্গাইলে ১৩৬ জনকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। পরীক্ষার খরচ বাবদ মাত্র একশ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও তিন টাকার ফরমের দাম ছাড়া তাদের আর কোন টাকা লাগেনি। গত ১ জুলাই ৭ হাজার নারী-পুরুষ কনস্টেবলে চাকুরী নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়ায়। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ৭৩৩ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনিত করা হয়। ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষার জন্য ২৫৩ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সাধারণ পুরুষ ৮১ জন, সাধারন নারী ২৭ জন, পুরুষ মুক্তি ১৫ জন, নারী মুক্তি ৫ জন, পুলিশ পোষ্য পুরুষ ৫ জন, পুলিশ পোষ্য নারী ১ জন, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি পুরুষ ২ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের এক মাস আগে ঘোষনা দিয়েছিলাম ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকুরী দিবো। সেই কথা আমরা রাখতে পেরেছি।

বিবি/ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১০৩ টাকায় পুলিশে চাকুরী পেয়ে স্বপ্ন পূরণ হলো দরিদ্র মেয়ে রুনার

প্রকাশিত : ০৮:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

রুনা খাতুনের ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিলো দেশ ও জনগনের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যায় কিভাবে সেই চিন্তা করতেন রুনা। নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নেন যে কোন বাহিনীতে চাকুরী নিয়ে জনগণের সেবা করবেন। তার মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ড্রেস খুব পছন্দ করতো রুনা। তাই পুলিশে চাকুরী করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একটি চাকুরী তার খুব প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তাকে চাকুরী দিবে কে? চাকুরী নিতে অনেক টাকা লাগে। এবার জানতে পারেন টাঙ্গাইলে পুলিশ কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হবে। এতে কোন টাকা লাগবে না। তাই এক শত টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও ৩ টাকার ফরম কিনে চাকুরী আবেদন করেন। গত ১ জুলাই টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে চাকুরী জন্য লাইনে দাড়ায় রুনা খাতুন। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ২জুলাই লিখিত অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। গত রোববার রাতে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে যখন চুরান্ত ফলাফলে রুনার নাম ঘোষনা হয়, তখন আনন্দে আত্মহারা রুনা খান। শুধু রুনা খাতুন নয় রাতে ফলাফল ঘোষণার পর চুরান্ত ফলে উত্তীর্ণ বেশিরভাগ প্রার্থীর আনন্দে চোখ ভিজে যায়। কেউ কেঁদে ফেলেন, আবার কেউ পুলিশ কর্মকর্তাদের সালামও করেন।

রুনা খাতুন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতি বলাটা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে। ২০১৬ সালে সূতী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০১৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোপালপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর রুনা খাতুন বলেন, আমার বাবা রিক্সা ও ভ্যান চালান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারনে মা এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করেন না। এতে কোন মতে তাদের সংসার চলে। রুনা লেখা পড়ার খরচ যোগাতে নিজে টিউশনি করতেন। সেখান থেকে যে আয় হতো তা দিয়ে ছোট ভাই রবিউল আওয়ালের লেখা পড়া চালাতেন। তাই তার খুব প্রয়োজন ছিলো চাকুরীটির। বিনা পয়সায় চাকুরী পেয়ে তিনি খুব খুশি। টাকা ছাড়া চাকুরী হবে, এটা কখনও ভাবতেও পারিনি। তাই নিয়োগ বোর্ডের সকল কর্মকর্তাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

রুনা খাতুন আরো বলেন, ছোট বেলা থেকে ইচ্ছে ছিলো কোন বাহিনীতে চাকুরী নিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করবো। তার মধ্যে পুলিশের ড্রেসটা আমার কাছে খুব ভাল লাগতো। তাই পুলিশে চাকুরী পেয়ে আমার খুব ভাল লাগছে।

রুনা খাতুনের মা অভিরন বেগম বলেন, আমার স্বপ্ন ছিলো আমার মেয়েকে পুলিশ অফিসার বানানো। সেই স্বপ্ন আল্লাহর রহমতে ও টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সংসারে আর কোন অভাব অনটন থাকবে না।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানিয়েছেন এবার শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে টাঙ্গাইলে ১৩৬ জনকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। পরীক্ষার খরচ বাবদ মাত্র একশ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও তিন টাকার ফরমের দাম ছাড়া তাদের আর কোন টাকা লাগেনি। গত ১ জুলাই ৭ হাজার নারী-পুরুষ কনস্টেবলে চাকুরী নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়ায়। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ৭৩৩ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনিত করা হয়। ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষার জন্য ২৫৩ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সাধারণ পুরুষ ৮১ জন, সাধারন নারী ২৭ জন, পুরুষ মুক্তি ১৫ জন, নারী মুক্তি ৫ জন, পুলিশ পোষ্য পুরুষ ৫ জন, পুলিশ পোষ্য নারী ১ জন, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি পুরুষ ২ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের এক মাস আগে ঘোষনা দিয়েছিলাম ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকুরী দিবো। সেই কথা আমরা রাখতে পেরেছি।

বিবি/ইমরান