০৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বুড়িচংয়ের হুমকির মুখে গোমতীর নদী বাঁধ ও কৃষি জমি

কুমিল্লার আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা গোমতী নদীর পাড় এবং বাঁধ থেকে অবাধে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার খবরটি উদ্বেগজনক।গোমতী নদীর দুই পাড় এবং বাঁধের অন্তত অনেকটি স্থান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে নদীর পারের মানুষ ভাঙনের আশঙ্কা করছে। মাটি কাটার ফলে উজাড় হচ্ছে গাছপালা। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। রাত-দিন মাটিবাহী ট্রাকের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। দুই দশক ধরে প্রতিবছর মাটি কাটার এ উৎসব চলে আসছে। অন্যবার ট্রাক্টরে করে ইটভাটা ও বাসাবাড়িতে মাটি কেটে নেওয়া হলেও এবার ট্রাকে করে সওজ বিভাগের সড়কের কাজে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এভাবে মাটি কাটা হচ্ছে অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা জেলা প্রশাসন নির্বিকার।

প্রায়ই দেখা যায়, সড়ক বা বাড়িঘর নির্মাণের কাজে বা ইটভাটায় ইট তৈরির কাজে অনেকে নদীর তীরের মাটি, ফসলি জমির মাটি বা পাহাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন। মাটি কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া ছাড়াই মাটি কাটা চলে।

এর ফলে যেসব ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। নদীর তীর থেকে মাটি কাটার ফলে নদীতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পাহাড় থেকে মাটি কেটে নিলে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে। কোনো ফসলি জমির মাটি কেটে নিলে কয়েক বছরের জন্য সেই জমিতে আর ফসল উৎপাদন হয় না। বছরের পর বছর ধরে এভাবে অনুমোদনহীনভাবে মাটি কাটা চলছে। অথচ তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এটা খুবই দুঃখজনক।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এই দুই আইনে এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনের কোনো প্রয়োগ নেই।
তালাশ বাংলা ডট কম অনুসন্ধানে দেখা গেছে;
প্রভাবশালীদের থাবায় হুমকির মুখে পড়েছে গোমতি পাড়ের কৃষি জমি। ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে চরের মালিকানাধীন জমি বিলীন হয়ে যাচেছ নদীতে। নদীতে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় পাশের কৃষি জমি ও চরকে বেছে নিয়েছে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা। আর মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় জমির মালিকদের কোন অভিযোগ-অনুযোগই পাত্তা দিচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী চালায় তান্ডব। ভুক্তভোগী দুই-এক ব্যক্তি প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দু:সাহস দেখিয়ে মামলা করলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে উল্টো অব্যাহত হুমকির মুখে জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত মামলা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ভূমিদস্যূদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার গোমতি নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কাটা হচ্ছে। নদী চর ও ফসলি জমি থেকে ২০-২৫ ফুট গভীর করে রাত-দিন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে বুড়িচং এলাকার বালিখাড়া, বানতী কাইতরা, রামনগর ও পূর্বহুড়া দিয়ে সবছেয়ে বেশি মাটি কাটা হচ্ছে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত জোরপূর্বক মাটি ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আদর্শ সদর উপজেলার কাজিয়াতলী গ্রামের মৃত ফজলুর রহমান ভূইয়ার পুত্র মো.শওকত ভ্ইূয়া। বালিখাড়া এলাকার ভোক্তভুগী সামছুল হক মাষ্টার,শরিফুল হাছান,জামাল হোসেন,আবু আহাম্মেদ,জব্বার মেম্বার জানান, ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চরের পর আমাদের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনসহ মাটি কাটা হচ্ছে। নদী চর ও ফসলি জমি থেকে ২০-২৫ ফুট গভীর করে রাত-দিন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতে বালু না থাকায় পাশের কৃষি জমি ও চরকে বেছে নিয়েছে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা। বালু ও মাটি দস্যুরা প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আমাদেও জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন । বাঁধা দিতে গেলে অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা করে। আমাদের ফসলী জমি রক্ষা সহ অবিচার থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে বুড়িচং উপজেলার পূর্বহুরা এলাকা দিয়ে আনোয়ার হোসেন ও জামাল উদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত-দিন বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে করে নদীর বাঁধের ভিতরে থাকা চর ও কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। ওই এলাকায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। প্রভাবশালী এই দুই ব্যাক্তি বুড়িচং উপজেলার নানুয়ার বাজার পূর্বহুড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোকশত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং মৃত বজলু মিয়ার ছেলে মো. জামাল উদ্দিন। তাদের নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার পাশাপাশি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী থাকায় ভুক্তভোগী কৃষক ও সম্পত্তির মালিকরা প্রতিবাদ করতে পারছে না।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে নানুয়ার বাজার পূর্বহুড়া সরদার বাড়ির বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম ওই এলাকা দিয়ে মাটি বিক্রির মুলহোতা আনোয়ার হোসেন আনু ও জামাল হোসেনের নামে গত ১৭ মে কুমিল্লার আদালতে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, “বাঁধের ভিতরে গোমতী নদীর পাড়ে আমার পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ২১ শত সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির মধ্যে তিনি বিভিন্ন ফসলের চাষ করতেন। কিন্তু আনোয়ার ও জামাল নামে ওই প্রভাবশালী ভূমি দস্যু তাদের ব্যক্তিগত দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জমির পাঁচ ফিট নিচ থেকে বালু উত্তোলন এবং মাটি কেটে নিচ্ছে। যাহা দিনে-রাতে অব্যাহত রয়েছে।

ওই এলাকার অধিবাসী সফিকুল ইসলাম জানান, মামলা করার পর অভিযুক্তরা আদলতে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে আর মাটি কাটবে না বলে আদালতকে প্রতিশ্রুতি দেন। আমরা আপোষনামা দিয়ে মামলা উঠিয়ে আনি। কিন্তু বর্তমানে আদালতের কথা অমান্য করে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন জানায়, আগে আমরা মাটি ও বালু ব্যবসায় যুক্ত ছিলাম। আদালতের নির্দেশের পর ওই জমি থেকে আর বালু বা মাটি উত্তোনে আমরা জড়িত নই। বর্তমানে ওই জমি থেকে মহিউদ্দিন আর রাসেল নামে দুই ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করছে।তবে ওই এলাকার জমির মালিকের অভিযোগ জামাল হোসেন এবং আনোয়ার হোসেনই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি বিক্রির মুল হোতা।

বুড়িচং এলাকায় গোমতী নদীর তীরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চরের ফসলী জমির মাটি কেটে নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদা আক্তার বলেন, পূর্বহুড়ায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ব্যক্তিগত ভূমি এবং নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো। রাজনৈতিক বিবেচনায় কেউ ছাড় পাবে না।

বিবি/ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বুড়িচংয়ের হুমকির মুখে গোমতীর নদী বাঁধ ও কৃষি জমি

প্রকাশিত : ০৪:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯

কুমিল্লার আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা গোমতী নদীর পাড় এবং বাঁধ থেকে অবাধে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার খবরটি উদ্বেগজনক।গোমতী নদীর দুই পাড় এবং বাঁধের অন্তত অনেকটি স্থান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে নদীর পারের মানুষ ভাঙনের আশঙ্কা করছে। মাটি কাটার ফলে উজাড় হচ্ছে গাছপালা। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। রাত-দিন মাটিবাহী ট্রাকের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। দুই দশক ধরে প্রতিবছর মাটি কাটার এ উৎসব চলে আসছে। অন্যবার ট্রাক্টরে করে ইটভাটা ও বাসাবাড়িতে মাটি কেটে নেওয়া হলেও এবার ট্রাকে করে সওজ বিভাগের সড়কের কাজে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এভাবে মাটি কাটা হচ্ছে অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা জেলা প্রশাসন নির্বিকার।

প্রায়ই দেখা যায়, সড়ক বা বাড়িঘর নির্মাণের কাজে বা ইটভাটায় ইট তৈরির কাজে অনেকে নদীর তীরের মাটি, ফসলি জমির মাটি বা পাহাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন। মাটি কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া ছাড়াই মাটি কাটা চলে।

এর ফলে যেসব ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। নদীর তীর থেকে মাটি কাটার ফলে নদীতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পাহাড় থেকে মাটি কেটে নিলে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে। কোনো ফসলি জমির মাটি কেটে নিলে কয়েক বছরের জন্য সেই জমিতে আর ফসল উৎপাদন হয় না। বছরের পর বছর ধরে এভাবে অনুমোদনহীনভাবে মাটি কাটা চলছে। অথচ তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এটা খুবই দুঃখজনক।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এই দুই আইনে এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনের কোনো প্রয়োগ নেই।
তালাশ বাংলা ডট কম অনুসন্ধানে দেখা গেছে;
প্রভাবশালীদের থাবায় হুমকির মুখে পড়েছে গোমতি পাড়ের কৃষি জমি। ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে চরের মালিকানাধীন জমি বিলীন হয়ে যাচেছ নদীতে। নদীতে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় পাশের কৃষি জমি ও চরকে বেছে নিয়েছে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা। আর মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় জমির মালিকদের কোন অভিযোগ-অনুযোগই পাত্তা দিচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী চালায় তান্ডব। ভুক্তভোগী দুই-এক ব্যক্তি প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দু:সাহস দেখিয়ে মামলা করলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে উল্টো অব্যাহত হুমকির মুখে জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত মামলা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ভূমিদস্যূদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার গোমতি নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কাটা হচ্ছে। নদী চর ও ফসলি জমি থেকে ২০-২৫ ফুট গভীর করে রাত-দিন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে বুড়িচং এলাকার বালিখাড়া, বানতী কাইতরা, রামনগর ও পূর্বহুড়া দিয়ে সবছেয়ে বেশি মাটি কাটা হচ্ছে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত জোরপূর্বক মাটি ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আদর্শ সদর উপজেলার কাজিয়াতলী গ্রামের মৃত ফজলুর রহমান ভূইয়ার পুত্র মো.শওকত ভ্ইূয়া। বালিখাড়া এলাকার ভোক্তভুগী সামছুল হক মাষ্টার,শরিফুল হাছান,জামাল হোসেন,আবু আহাম্মেদ,জব্বার মেম্বার জানান, ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চরের পর আমাদের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনসহ মাটি কাটা হচ্ছে। নদী চর ও ফসলি জমি থেকে ২০-২৫ ফুট গভীর করে রাত-দিন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতে বালু না থাকায় পাশের কৃষি জমি ও চরকে বেছে নিয়েছে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা। বালু ও মাটি দস্যুরা প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আমাদেও জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন । বাঁধা দিতে গেলে অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা করে। আমাদের ফসলী জমি রক্ষা সহ অবিচার থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে বুড়িচং উপজেলার পূর্বহুরা এলাকা দিয়ে আনোয়ার হোসেন ও জামাল উদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত-দিন বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে করে নদীর বাঁধের ভিতরে থাকা চর ও কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। ওই এলাকায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। প্রভাবশালী এই দুই ব্যাক্তি বুড়িচং উপজেলার নানুয়ার বাজার পূর্বহুড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোকশত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং মৃত বজলু মিয়ার ছেলে মো. জামাল উদ্দিন। তাদের নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার পাশাপাশি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী থাকায় ভুক্তভোগী কৃষক ও সম্পত্তির মালিকরা প্রতিবাদ করতে পারছে না।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে নানুয়ার বাজার পূর্বহুড়া সরদার বাড়ির বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম ওই এলাকা দিয়ে মাটি বিক্রির মুলহোতা আনোয়ার হোসেন আনু ও জামাল হোসেনের নামে গত ১৭ মে কুমিল্লার আদালতে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, “বাঁধের ভিতরে গোমতী নদীর পাড়ে আমার পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ২১ শত সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির মধ্যে তিনি বিভিন্ন ফসলের চাষ করতেন। কিন্তু আনোয়ার ও জামাল নামে ওই প্রভাবশালী ভূমি দস্যু তাদের ব্যক্তিগত দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জমির পাঁচ ফিট নিচ থেকে বালু উত্তোলন এবং মাটি কেটে নিচ্ছে। যাহা দিনে-রাতে অব্যাহত রয়েছে।

ওই এলাকার অধিবাসী সফিকুল ইসলাম জানান, মামলা করার পর অভিযুক্তরা আদলতে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে আর মাটি কাটবে না বলে আদালতকে প্রতিশ্রুতি দেন। আমরা আপোষনামা দিয়ে মামলা উঠিয়ে আনি। কিন্তু বর্তমানে আদালতের কথা অমান্য করে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন জানায়, আগে আমরা মাটি ও বালু ব্যবসায় যুক্ত ছিলাম। আদালতের নির্দেশের পর ওই জমি থেকে আর বালু বা মাটি উত্তোনে আমরা জড়িত নই। বর্তমানে ওই জমি থেকে মহিউদ্দিন আর রাসেল নামে দুই ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করছে।তবে ওই এলাকার জমির মালিকের অভিযোগ জামাল হোসেন এবং আনোয়ার হোসেনই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি বিক্রির মুল হোতা।

বুড়িচং এলাকায় গোমতী নদীর তীরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চরের ফসলী জমির মাটি কেটে নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদা আক্তার বলেন, পূর্বহুড়ায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ব্যক্তিগত ভূমি এবং নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো। রাজনৈতিক বিবেচনায় কেউ ছাড় পাবে না।

বিবি/ইএম