কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় মৎস চাষীরা দিশে হারা হয়ে পড়েছে। ভারত থেকে বয়ে আসা পাহাড়ী ঢলের তিব্র বৃষ্টিতে হাজার হাজার মাছের ঘের, পুকুর পানিতে তলিয়ে শত কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
কয়েক বছর ধরে তেমন বন্যা না থাকায় হাওর, বাওর, ছোট ছোট খাল বিল ও পুকুরে ব্যাপক হারে মৎস্য চাষ করেন। প্রতিটি পুকুরে মাছে ভরে যায়। হাসি ফোটে মাছ চাষীর মুখে। তাদের চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল, সংসারের চাহিদা মিটিয়ে বাজার জাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখবে। কিন্ত কপালে সইলনা।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল মৎস্য চাষীর বুকে লুকায়ীত স্বপ্ন ভেঙ্গে চৌচির করে দেয়। রৌমারী উপজেলাটি ভারতের আসামের পাদদেশ ঘেষা সীমান্তবর্তি উপজেলা। পশ্চিমে ১৫টি নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত। ব্রম্মপুত্রের কড়াল গ্রাসে নিভু নিভু ছোট্র ভূ`খন্ডটির নাম রৌমারী মুক্তাঞ্চল। নদ-নদী দ্বারা বিধৌত মাছে ভাতে খেয়ে পরে ভালই ছিল এঅঞ্চলের মানুষ। কিন্ত সরকারী সচেতনতার অভাবে কপালে সুখ সইলনা। পরিকল্পিত শক্তিশালী বেরী বাঁধের অভাবে মাঝে মধ্যে এমন ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয় মাত্র ২ দশকে রৌমারী তথা রাজীবপুর উপজেলাটি মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে। তাই এঅঞ্চলের ৪ লাখ মানুষের মাছে ভাতে সুখের জীবন রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধান করা যেতে পারে ।
এ ব্যাপারে বড়াই কান্দী বাতার গ্রাম হেচারী মালিক আদম আলী,মির্জাপাড়া গ্রামের আব্দুস সবুর, শাহজামাল, শুকুর মাহমুদ, অভিযোগ করে বলেন, এ বছরের বন্যায় রৌমারীতে কোন পুকুরে মাছ নেই ,প্রতিটি পুকুরে মাছ পরিপুর্ণ ছিল। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মাছ চাষে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি।
মৎস্য চাষীদের জরিপে জানা যায়, প্রায় ৪ হাজার পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। মৎস চাষীরা ক্ষতি পুষিয়ে পেতে সরকারী সহায়তা কামনা করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম




















