০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরে কাঁচামরিচের ঝাঁলে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। গত বুধবারে যে কাঁচা মরিচ শহরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। সেই একই কাঁচা মরিচ গতকাল বুহস্পতিবার প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যার প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে। আর ভোক্তারা বলছেন, দিনকে দিন সবজিসহ সব ধরনের কাঁচা তরিতরকারির দাম বাড়ছে লাগামছাড়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার মাদারীপুর শহরের কয়েকটি কাঁচা বাজার এবং পাইকারী কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ক্ষেতে কাঁচা মরিচের পরিমাণ রয়েছে কম। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যা হওয়ায় কৃষকদের অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে গেছে। কিছু এলাকায় পুরো ক্ষেত রয়েছে পানির নিচে। ফলে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশের বন্যা পরিস্থিতিরও প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে।

পুরান বাজার,নতুন শহর বাজার , চৌরাস্তার বাজার , কুলপদ্দি বাজার ,মাদ্রা ইটেরপুল বাজার, চরমুগরিয়া বাজার, লেকেরপাড় বাজার, মস্তফাপুর বাজারে গোপালপুর বাজারে বগুড়ার মরিচ (জিয়া ঝাল) কেজি প্রতি মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। আর টেকেরহাট পাইকারী কাঁচা বাজারে প্রতি পালা (৫ কেজি) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়।পুরানবাজার কাঁচা মালের আড়তেও প্রতি পালা বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়। তবে দুই আড়তে একই দামের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্য জেলা থেকে আমদানি করার জন্য দাম একই রয়েছে।

পুরান বাজারের এক ক্রেতা মোঃ সামচুল হক বেপারী বলেন, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচ কিনলাম ১৫ টাকা পোয়া। আর আজ কিনলাম ১৫ টাকায় ১০০গ্রাম। কোথায় যাব। পুরান বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী মো. সরোয়ার হোসেন জানান, কাঁচা মাল শুকিয়ে কমে যায়, পচে যায়। ফলে ঘাটতি পড়ে। সে হিসেবে দাম পাইকারী থেকে খুচরা বাজারে তেমন বাড়তি নেই। ব্যবসায়ীরা খরিদ্দার ধরে রাখতে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে।
মাদারীপুর পুরানবাজার কাঁচা মালের সরদার আড়তের মালিক মো. ফোরকান সরদার জানান, বুধবার পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচ‘ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। আর স্থানীয় মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। পুরানবাজার পাইকারী কাঁচা বাজারের বাণিজ্য ভান্ডারের জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখন মরিচ আসছে বগুড়া থেকে। কিন্তু সেসব এলাকায় এখন বন্যা কবলিত। ফলে দাম বেশি আবার সরবরাহও কম রয়েছে। মাদারীপুর বাজার মনিটারিং কর্মকর্তা হাজী শফিক স্বপন জানান,শহরের বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম বাড়তি। ৯ জুলাই যে মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ কেজি দরে। সেই মানের কাঁচা মরিচ ১২০ জুলাই বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা দরে।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

মাদারীপুরে কাঁচামরিচের ঝাঁলে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

প্রকাশিত : ০৫:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। গত বুধবারে যে কাঁচা মরিচ শহরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। সেই একই কাঁচা মরিচ গতকাল বুহস্পতিবার প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যার প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে। আর ভোক্তারা বলছেন, দিনকে দিন সবজিসহ সব ধরনের কাঁচা তরিতরকারির দাম বাড়ছে লাগামছাড়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার মাদারীপুর শহরের কয়েকটি কাঁচা বাজার এবং পাইকারী কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ক্ষেতে কাঁচা মরিচের পরিমাণ রয়েছে কম। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যা হওয়ায় কৃষকদের অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে গেছে। কিছু এলাকায় পুরো ক্ষেত রয়েছে পানির নিচে। ফলে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশের বন্যা পরিস্থিতিরও প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে।

পুরান বাজার,নতুন শহর বাজার , চৌরাস্তার বাজার , কুলপদ্দি বাজার ,মাদ্রা ইটেরপুল বাজার, চরমুগরিয়া বাজার, লেকেরপাড় বাজার, মস্তফাপুর বাজারে গোপালপুর বাজারে বগুড়ার মরিচ (জিয়া ঝাল) কেজি প্রতি মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। আর টেকেরহাট পাইকারী কাঁচা বাজারে প্রতি পালা (৫ কেজি) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়।পুরানবাজার কাঁচা মালের আড়তেও প্রতি পালা বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়। তবে দুই আড়তে একই দামের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্য জেলা থেকে আমদানি করার জন্য দাম একই রয়েছে।

পুরান বাজারের এক ক্রেতা মোঃ সামচুল হক বেপারী বলেন, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচ কিনলাম ১৫ টাকা পোয়া। আর আজ কিনলাম ১৫ টাকায় ১০০গ্রাম। কোথায় যাব। পুরান বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী মো. সরোয়ার হোসেন জানান, কাঁচা মাল শুকিয়ে কমে যায়, পচে যায়। ফলে ঘাটতি পড়ে। সে হিসেবে দাম পাইকারী থেকে খুচরা বাজারে তেমন বাড়তি নেই। ব্যবসায়ীরা খরিদ্দার ধরে রাখতে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে।
মাদারীপুর পুরানবাজার কাঁচা মালের সরদার আড়তের মালিক মো. ফোরকান সরদার জানান, বুধবার পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচ‘ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। আর স্থানীয় মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। পুরানবাজার পাইকারী কাঁচা বাজারের বাণিজ্য ভান্ডারের জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখন মরিচ আসছে বগুড়া থেকে। কিন্তু সেসব এলাকায় এখন বন্যা কবলিত। ফলে দাম বেশি আবার সরবরাহও কম রয়েছে। মাদারীপুর বাজার মনিটারিং কর্মকর্তা হাজী শফিক স্বপন জানান,শহরের বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম বাড়তি। ৯ জুলাই যে মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ কেজি দরে। সেই মানের কাঁচা মরিচ ১২০ জুলাই বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা দরে।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম