সম্প্রতি মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতাদের আলোচনাকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ(এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের বাড়িতে প্রত্যাবসনে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মেইন্ত থু’র নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন নিয়ে আলোচনা করতে কক্সবাজারে আশ্রয় শিবিরে আসে।
এইচআরডব্লিউ’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নির্বাহী মিনাক্ষি গাঙ্গুলি বলেন, ‘১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন দ্বারা রোহিঙ্গাদের নিজদেশেই রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও ব্যবহার করছে না।
তারা বলছে ‘শরণার্থী’। এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে, মিয়ানমার সরকার এই জাতিগোষ্ঠিকে স্বীকৃতি না দেয়ার দীর্ঘদিনের অনিচ্ছা থেকে সরে আসে নি।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারেরর ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন, নেপিদোকে এটি নিশ্চিত করতে হবে, রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারবে, সেখানে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে, চলা-ফেরার স্বাধীনতা থাকবে এবং তারা সেবাখাতে প্রবেশসহ নিজেদের জীবন নতুন করে শুরু করতে পারবে।’
রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে প্রমাণ দিয়েছি আমাদের পূর্বপূরুষ বার্মিজ ছিলেন। তাহলে কেন আমাদের পুনরায় ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড করতে হবে, যেখানে কি না আমাদের কেবল বিদেশী বলে গণ্য করা হবে?’
২০১২ সাল থেকে জাতিগত দাঙ্গা ও সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হচ্ছেন অনেক রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ তাদের বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী বলে উল্লেখ করেছে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, ২০১৭ সালে আগস্টে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলো ৪ লাখ রোহিঙ্গা।
অন্টারিও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ওআইডিএ) জানায়, ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের অভিযানে ২৪ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন, ৩৪ হাজার রোহিঙ্গাকে আগুনে ফেলা হয় ও ১ লাখ ১৪ হাজার জন মারধরের শিকার হন। তারা আরো জানায়, ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ও পুলিশের ধর্ষণের শিকার হন, ১ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় ও ১ লাখ ১৩ হাজার বসতবাড়ি বিনষ্ট করা হয়। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
বিবি/কেএইচ/

























