০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোস্তাফিজের ৯ কোটি আর আইসিসির ক্ষতি ৬ হাজার কোটি!

আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়ে পরে বাদ দেওয়ায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। এই ঘটনায় একদিকে মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি, অন্যদিকে এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেয় কলকাতা। এতে পুরো অর্থ থেকেই বঞ্চিত হন এই টাইগার পেসার। ঘটনার পর বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এর জেরে বাংলাদেশ দল আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয়। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারত ও শ্রীলঙ্কায়।

বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানও শুরুতে পুরো বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিলেও পরে তারা জানায়, শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই তারা বয়কট করবে। এতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের সুনির্দিষ্ট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হলেও সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে রক্ষণশীল হিসাবেও এর মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার ১২০ কোটির বেশি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে প্রতি ১০ সেকেন্ড বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। শুধু এই একটি ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় হয় বলে ধারণা করা হয়। ম্যাচটি না হলে এই বিশাল অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হবে সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীরা।

বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ইতোমধ্যেই লোকসানের কারণে আইসিসির কাছে অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সেই দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য প্রায় ১৩৮ দশমিক ৭ কোটি রুপি।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার সমান।

সব মিলিয়ে একটি খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হওয়া এই সংকট এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক কাঠামোকেই বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ডিএস./

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

মোস্তাফিজের ৯ কোটি আর আইসিসির ক্ষতি ৬ হাজার কোটি!

প্রকাশিত : ০২:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়ে পরে বাদ দেওয়ায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। এই ঘটনায় একদিকে মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি, অন্যদিকে এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেয় কলকাতা। এতে পুরো অর্থ থেকেই বঞ্চিত হন এই টাইগার পেসার। ঘটনার পর বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এর জেরে বাংলাদেশ দল আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয়। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারত ও শ্রীলঙ্কায়।

বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানও শুরুতে পুরো বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিলেও পরে তারা জানায়, শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই তারা বয়কট করবে। এতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের সুনির্দিষ্ট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হলেও সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে রক্ষণশীল হিসাবেও এর মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার ১২০ কোটির বেশি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে প্রতি ১০ সেকেন্ড বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। শুধু এই একটি ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় হয় বলে ধারণা করা হয়। ম্যাচটি না হলে এই বিশাল অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হবে সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীরা।

বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ইতোমধ্যেই লোকসানের কারণে আইসিসির কাছে অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সেই দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য প্রায় ১৩৮ দশমিক ৭ কোটি রুপি।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার সমান।

সব মিলিয়ে একটি খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হওয়া এই সংকট এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক কাঠামোকেই বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ডিএস./