সিরিয়া ও ইরাকে আটক হওয়া আইএস জঙ্গিদের ইউরোপে অবমুক্ত করে দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আড়াই হাজার জঙ্গি সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক রয়েছে। তাদের নিজ দেশে ফেরাতে হবে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার জেরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জোট গঠনের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জোটে যোগ দেয়ার ওয়াশিংটনের এক আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মান ও স্পেন।
এ কারণে দেশ দুটির সঙ্গে ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এসডিএফের হাতে প্রায় ১৩ হাজার সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি আটক রয়েছে বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা দুই হাজার। বাকি ১১ হাজার নারী ও শিশু। ২০১৯ সালের মার্চে সিরিয়ায় আইএসের শেষ ঘাঁটি ভেঙে পড়ার পর তাদের আটক করা হয়।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে লড়াই শুরু করে আইএস। রাকা শহরকে রাজধানী করে ‘খেলাফত’ ঘোষণা করে। এরপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানে ২০১৭ সালে ইরাকে পতন হয় আইএসের।
এরপর ইরাক ও সিরিয়ায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিরোধ-যুদ্ধে পাঁচ বছর পর কথিত সেই খেলাফত সংকুচিত হয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে সিরিয়ার ইউফ্রেটিস নদীর এক বাঁকে। সর্বশেষ গত মার্চে তাদের কথিত খেলাফতের পুরোপুরি পতন ঘটে।
এদিক পরমাণু চুক্তির কয়েকটি প্রতিশ্রুতি থেকে আরও একধাপ সরে আসছে ইরান। শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। বলেছেন, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে পরমাণু চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার শিগগিরই তৃতীয় পদক্ষেপ নেবে তেহরান। চার বছর আগে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত গত বছর চুক্তি থেকে একতরফাভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর থেকে চুক্তির অন্য পক্ষগুলোকে ইরান বারবার হুশিয়ারি দিয়ে আসছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে তাদের অর্থনীতি রক্ষা না করলে তারাও চুক্তি মেনে চলবে না। কিন্তু যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উপায় বের করতে পারেনি।
জারিফ বলেন, ‘আমরা বলেছি, অন্যরা সম্পূর্ণভাবে চুক্তির বাস্তবায়ন না করলে একইভাবে চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব না। এবং আমাদের পদক্ষেপ অবশ্যই চুক্তির শর্ত মেনেই হবে।’ পরমাণু চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার অংশ হিসেবে ইরান ইতিমধ্যে পাঁচ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ শুরু করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি গত মাসে জানান, পরমাণু সমঝোতায় ৩.৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা আর মানবে না তার দেশ।
বিজনেস বাংলাদেশ-/এমকেএস























