০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

শরিয়তপুরে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ রহমান দেওয়ানের বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাষানটেক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। কোটিপতি এই ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে এখন উঠেপড়ে লেগেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, মীমাংসার নামে অর্থের লোভ দেখানোর পাশাপাশি হামলার ভয়ও দেখানো হচ্ছে তাদের। এক্ষেত্রে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেলের (আইজিপি) ‘আত্মীয়’ পরিচয়ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
২৬ নভেম্বর রোববার ভাষানটেক থানায় ধর্ষণের অভিযোগে এই মামলা দায়ের হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ছয়মাস ধরে ধর্ষণের শিকার হতে থাকা মেয়েটি গত শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) এই ঘটনা তার মাকে জানিয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ছয় মাস আগে ওই স্কুলছাত্রী কোচিং থেকে বাসায় ফেরার পথে রহমান দেওয়ান তার গতিরোধ করেন। তার বাবা একটি মোবাইল ফোন নাম্বার চেয়েছে বলে ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নেন তিনি। এরপর বাসার একটি রুমে বসতে দিয়ে দরজা আটকে দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে ছাত্রীটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন রহমান দেওয়ান। আপত্তিকর এই ভিডিও দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, সেই ভিডিওকে পুঁজি করে রহমান দেওয়ান একাধিকবার ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু শুক্রবার ওই ছাত্রী বিষয়টি তার মাকে জানালে তা প্রকাশ পেয়ে যায়। শুক্রবার এই ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে রহমান দেওয়ান নানাভাবে তার লোকজনদের পাঠিয়ে সমাধানের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
রোববার রাতে ভাষানটেক থানায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবার মামলা দায়েরের সময় সঙ্গে ছিলেন ওই ছাত্রীর চাচী পারভীন বেগম। সেখানেও ছুটে যান রহমান দেওয়ানের লোকজন। ওই সময় পারভীন বেগমকে এই প্রতিবেদক ফোন করলে তা কেড়ে নিয়ে কথা বলতে থাকেন রহমান দেওয়ানের পক্ষের লোক জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি শহীদুল হকের চাচাতো ভাই পরিচয় দেন। আবার কখনো তিনি রহমান দেওয়ানের ভাই সিরাজ দেওয়ানের মেয়ের জামাইয়ের লোক হিসেবেও পরিচয় দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি আইজিপির বেয়াই হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। পারভীনের মুঠোফোনে জয়নাল আবেদীন এই প্রতিবেদককে জানান, তার বাড়ি শরিয়তপুর জেলা সদরে। তিনি আইজিপির ভাই নুরুল হক চেয়ারম্যানের ছেলের বউয়ের চাচা। সেই সূত্রে তিনি আইজিপির বেয়াই।
ছাত্রীর চাচী পারভীন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের মেয়েটি মরতে চাইতো। আমরা তো ওইসব বুঝতাম না। কিন্তু শুক্রবার সে ঘটনাটা বইলা দিলে আমরা অবাক হইয়া যাই। সেদিন থাইক্যা রহমান দেওয়ান বাড়িতে তার লোকজন পাঠাইতাছে। আমাগো টেকার লোভ দেখায়। আমার ভাসুরকে কাউন্সিলর দিয়া মিমাংসার প্রস্তাবও দিছে। মামলা হওয়ার পর থাইক্যা তারা (রহমান দেওয়ানের লোকজন) কইতাছে আমরা নাকি কানমু।’
তিনি দাবি করেন, প্রতিবার ধর্ষণের আগে ওই ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে বলেছেন- তোর বাবা-মাকে বিষয়টি বললে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাব। শুধু তাই নয়, মেরে ফেলে লাশ গুম করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হতো। এসব ভয়ে ছাত্রীও তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়নি।
রাজধানীর দেওয়ানপাড়া এলাকায় রহমান দেওয়ানের ছয়তলা পাকা বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে বলেও জানান পারভীন।
ভাষানটেক থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ প্রিয়.কমকে বলেন, এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং মূল অভিযুক্ত রহমান দেওয়ানকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকতার পরিচয় ব্যবহার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ পরিচয় দিলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। তবে ভয়ভীতি দেখানো হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৭ নভেম্বর সোমবার ভুক্তভোগী মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠপানো হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

শরিয়তপুরে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

প্রকাশিত : ০১:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ রহমান দেওয়ানের বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাষানটেক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। কোটিপতি এই ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে এখন উঠেপড়ে লেগেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, মীমাংসার নামে অর্থের লোভ দেখানোর পাশাপাশি হামলার ভয়ও দেখানো হচ্ছে তাদের। এক্ষেত্রে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেলের (আইজিপি) ‘আত্মীয়’ পরিচয়ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
২৬ নভেম্বর রোববার ভাষানটেক থানায় ধর্ষণের অভিযোগে এই মামলা দায়ের হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ছয়মাস ধরে ধর্ষণের শিকার হতে থাকা মেয়েটি গত শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) এই ঘটনা তার মাকে জানিয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ছয় মাস আগে ওই স্কুলছাত্রী কোচিং থেকে বাসায় ফেরার পথে রহমান দেওয়ান তার গতিরোধ করেন। তার বাবা একটি মোবাইল ফোন নাম্বার চেয়েছে বলে ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নেন তিনি। এরপর বাসার একটি রুমে বসতে দিয়ে দরজা আটকে দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে ছাত্রীটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন রহমান দেওয়ান। আপত্তিকর এই ভিডিও দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, সেই ভিডিওকে পুঁজি করে রহমান দেওয়ান একাধিকবার ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু শুক্রবার ওই ছাত্রী বিষয়টি তার মাকে জানালে তা প্রকাশ পেয়ে যায়। শুক্রবার এই ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে রহমান দেওয়ান নানাভাবে তার লোকজনদের পাঠিয়ে সমাধানের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
রোববার রাতে ভাষানটেক থানায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবার মামলা দায়েরের সময় সঙ্গে ছিলেন ওই ছাত্রীর চাচী পারভীন বেগম। সেখানেও ছুটে যান রহমান দেওয়ানের লোকজন। ওই সময় পারভীন বেগমকে এই প্রতিবেদক ফোন করলে তা কেড়ে নিয়ে কথা বলতে থাকেন রহমান দেওয়ানের পক্ষের লোক জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি শহীদুল হকের চাচাতো ভাই পরিচয় দেন। আবার কখনো তিনি রহমান দেওয়ানের ভাই সিরাজ দেওয়ানের মেয়ের জামাইয়ের লোক হিসেবেও পরিচয় দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি আইজিপির বেয়াই হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। পারভীনের মুঠোফোনে জয়নাল আবেদীন এই প্রতিবেদককে জানান, তার বাড়ি শরিয়তপুর জেলা সদরে। তিনি আইজিপির ভাই নুরুল হক চেয়ারম্যানের ছেলের বউয়ের চাচা। সেই সূত্রে তিনি আইজিপির বেয়াই।
ছাত্রীর চাচী পারভীন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের মেয়েটি মরতে চাইতো। আমরা তো ওইসব বুঝতাম না। কিন্তু শুক্রবার সে ঘটনাটা বইলা দিলে আমরা অবাক হইয়া যাই। সেদিন থাইক্যা রহমান দেওয়ান বাড়িতে তার লোকজন পাঠাইতাছে। আমাগো টেকার লোভ দেখায়। আমার ভাসুরকে কাউন্সিলর দিয়া মিমাংসার প্রস্তাবও দিছে। মামলা হওয়ার পর থাইক্যা তারা (রহমান দেওয়ানের লোকজন) কইতাছে আমরা নাকি কানমু।’
তিনি দাবি করেন, প্রতিবার ধর্ষণের আগে ওই ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে বলেছেন- তোর বাবা-মাকে বিষয়টি বললে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাব। শুধু তাই নয়, মেরে ফেলে লাশ গুম করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হতো। এসব ভয়ে ছাত্রীও তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়নি।
রাজধানীর দেওয়ানপাড়া এলাকায় রহমান দেওয়ানের ছয়তলা পাকা বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে বলেও জানান পারভীন।
ভাষানটেক থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ প্রিয়.কমকে বলেন, এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং মূল অভিযুক্ত রহমান দেওয়ানকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকতার পরিচয় ব্যবহার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ পরিচয় দিলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। তবে ভয়ভীতি দেখানো হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৭ নভেম্বর সোমবার ভুক্তভোগী মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠপানো হবে বলেও জানান তিনি।