বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের আওতায় থাকা এলাকার আওতা বাড়িয়ে ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বরেন্দ্র এলাকা বলতে আপাতত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সকল জেলাকে বুঝাবে। অর্থ্যাৎ বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগ নিয়ে গঠিত হবে এই বরেন্দ্র এলাকা। যা আগে ছোট পরিসরে ছিল। কাজের পরিধি বৃদ্ধি করতেই এ এরিয়া বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ সরকারি সিদ্ধান্ত মতে একটি রেজুলেশন দ্বারা পরিচালিত হতো। এর কোন আইন ছিল না। এজন্য এ আইন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনে বলা হয়েছে, বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে সরকার যতটুকু ঘোষণা করবে সেটুকুই হবে বরেন্দ্র এলাকা। আইনের ধারা ৩ এ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেখানে একটি উপদেষ্টা পরিষদ ও পরিচালনা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত হবে উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টা কমিটির সাথে স্থানীয় সকল সংসদ সদস্যরা যুক্ত থাকবেন। কৃষি সচিব, অর্থ সচিব, পানিসম্পদ সচিব, পরিবেশ সচিব, বিদ্যূৎ সচিব, দুই বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি এ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পুলিশ কমিশনার, আরডিএ এর মহাপরিচালক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এ উপদেষ্টা পষিদের সদস্য হিসেবে থাকবেন। বিএমডিএ এর নির্বাহী পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শফিউল আলম জানান, এছাড়াও ১১ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া এ আইনে। সেখানে চেয়ারম্যান থাকবেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিজে। এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি, কৃষি ও পানিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কমিশনার মনোনিত প্রতিনিধি, পুলিশের ডিআইজি কর্তৃক মনোনিত প্রতিনিধিরা এই পরিচালনা পরিষদের সদস্য হবেন।
অন্যদিকে প্রতি বছরের ১২ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (আইসিটি) দিবস পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। শফিউল আলম বলেন, প্রতি বছরের ১২ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আনে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেয়। সে হিসেবে ১২ ডিসেম্বরকে আইসিটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনেক। হিসেব করলে দেখা যাবে, সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দিক দিয়ে আমরা ৭ বা ৮তম অবস্থানে আছি।

























