দেবী দুর্গার মর্তে আগমনের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে মহালয়া পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে নেমে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
চণ্ডীপাঠ ছাড়াও মঙ্গলঘাট স্থাপন, চণ্ডীপূজা এবং ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান জানান ভক্তরা। এই দিনটিতেই পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ। এদিন মর্ত্যে দেবীর আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই সূচনা হয় মাতৃপক্ষের। আর সেই মাতৃপক্ষকে বরণ করে নিল রাজধানীসহ বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা ও ভক্তির মাধ্যমে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা। ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা থেকে শুরু হচ্ছে এবারের দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। রাজধানীর বনানী পূজা মণ্ডপে সকালে মহালয়ার আয়োজন করা হয়। গুলশান-বনানী সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবার এই মণ্ডপে পূজা আয়োজনের একযুগ পূর্তি হলো। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ভোরে আরাধনার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহন ছাড়াও এখানে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
সকাল ১১টায় এখানে দেশের বরেণ্য শিল্পীরা তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলবেন নিজেদের শিল্পকর্ম। এছাড়া, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ভোরে পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে মহালয়া উদ্বোধন করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ। এরপরেই সেখানে দেবী আরাধনা করেন ভক্তরা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য আমরা প্রস্তুত। গতকাল মহালয়ার মাধ্যমেই মূলত শুরু হয়ে গেল এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজও শেষের পথে। এখন ৪ তারিখের অপেক্ষা। সবকিছু সুন্দরভাবে হবে বলেই আমরা আশা করছি। গুলশান-বনানী সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুবল চন্দ্র দাস বলেন, মানুষের ভালবাসা ও আস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।
এক যুগ পথ পরিক্রমার এই ক্ষণে আমরা আশা করছি এবারো দর্শনার্থীরা মায়ের দর্শন করতে আসবেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও এলাকাভিত্তিক পূজা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ১০০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীতে ২৩৭টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা, যা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৮ সালে সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মণ্ডপে ও ২০১৭ সালে সারাদেশে ২৯ হাজার ৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও রাজধানীতে ২০১৮-তে ২৩৪টি ও ২০১৭ সালে ২২৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩২ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে।
সব জায়গার তথ্যই আমরা নেয়ার চেষ্টা করছি। এ বছরের সার্বিক পূজা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা ৩০ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদ সম্মেলন করব।





















