ঢাকায় পরবর্তী হাইকমিশনার হিসাবে ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দিয়েছে পাকিস্তান। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাকলায়েন সাইয়েদাকে বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে প্রস্তাব করেছিল ইসলামাবাদ।
কিন্তু ঢাকা তাকে গ্রহণ করেনি। ওই নারী কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ‘শিষ্টাচার’ লঙ্গনের অভিযোগ উঠার প্রেক্ষিতে এমনটি হয়েছিল।
তখন পাকিস্তানকে বলা হয়েছিল নতুন নাম পাঠাতে। কিন্তু তারা তা করেনি। উল্টো ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসানকে বহিষ্কারের হুমকি, কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়া কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা না দেয়াসহ নানা জটিলতার তৈরি করেছিল।
এমনকি ইসলামাবাদ মিশনে নতুন ভিসা অফিসারের যাওয়া এবং পুরনো ভিসা অফিসারের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ফাইলও আটকে রেখেছিল।
উভয় দেশের সাধারণ নাগরিকদের ভিসা ইস্যুও বন্ধ ছিল অনেক দিন। অবশ্য পরবর্তীতে এ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় ভিসা জটিলতার অবসান ঘটে। কিন্তু সম্পর্ক তলানীতেই থেকে যায়।
পাকিস্তানের পত্রিকা ডন গতকাল মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিউইয়র্ক থেকে ইসলামাবাদ ফিরেই কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফাইল অনুমোদন করেছেন।
যার মধ্যে বাংলাদেশে পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনারের নামও রয়েছে। বর্তমানে কানাডার টরেন্টোতে পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপালনকারী মিস্টার সিদ্দিকীকে হাই কমিশনার হিসাবে গ্রহণে ঢাকায় তার এগ্রিমো পাঠানো হয়েছে কি-না? বা পাঠালেও বাংলাদেশ তাকে গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কি-না? কোনো কিছুই তাৎক্ষনিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইমরান সিদ্দিকী গত বছর কানাডায় একজন সাংবাদিকের সঙ্গে ঝামেলায় খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। এখন দেখার বিষয় ঢাকা চূড়ান্তভাবে তার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ঢাকার অসম্মতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত সাকলায়েন সাইয়েদার পোস্টিংয়ের আদেশ প্রত্যাহার তাকে কেনিয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের পদে আগেই নিয়োগ দিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
ডনের রিপোর্ট মতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা মতে, জাতিসংঘ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্ক ও
জেনেভাসহ গুরুত্ব ডজনের ওপর মিশনের প্রধানের পদে আচমকা ওই পরিবর্তন আসছে।
এর মধ্যে নিউইয়র্কে দীর্ঘ সময় দায়িত্বপালনকারী কূটনীতিক মালিহা লোদির পরবর্তী পোস্টিংয়ে না দিয়েই প্রত্যাহারের বিষয়টি সবচেয়ে সিগনিফিকেন্ট বা তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

























