০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাদশা শেরশাহ’র আমলের স্বাক্ষী বটগাছ

নওগাঁর আত্রাইয়ের শাহাগোলা ইউপির আদর্শগ্রামের পূর্ব পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের একটি বটগাছ। সড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির বিশাল শাখা-প্রশাখা।

শিকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। তবে শতবর্শী হলেও বটগাছটি আজো তাজা তরুণ আর চিরসবুজ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এ বটগাছকে ঘিরে নানা রহস্যে ঘেরা গল্প-কাহিনী আর কল্পগাথা। জানা গেছে, বাদশা শেরশাহর শাসনামলে গ্র্যান্ডটাংক রোড নির্মাণকালে আত্রাইয়ের শাহাগোলার আদর্শগ্রামের কাছে এ বটগাছটি রোপণ করা হয়েছিল।

সে সময় এ এলাকায় বিল ছিল। রোদ বৃষ্টির মাঝে কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল ফলাতো। রাখালেরা মাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্য গবাদিপশুকে ছেড়ে দিয়ে ক্লান্ত শরীরে শীতল ছায়ার প্রতিক্ষায় থাকতো।

আর সে কারণেই নাকি এ বটগাছ রোপণ করা হয়েছিলো। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে কৃষক যখন অতিষ্ট ঠিক তখনই একটু শীতল ছায়ার আশায় এ বট বৃক্ষের নীচে জমা হতো।

এ বটবৃক্ষ সম্পর্কে আলাপচারিতায় ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ জানান, আমার জন্মের পর থেকেই এ বটগাছটি দেখে আসছি। এই বটগাছের কত বয়স হবে তা আমরা সঠিকভাবে বলতে পারবো না।

এখন বটগাছের নিচে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম ঘটে। এ বটগাছটি যেন সেই আদিম সনাতন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সারকথা আজো সবার সামনে তুলে ধরে আছে।

তিনি আরো জানান, অযত্ন-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছের অস্তিত্ব নষ্ট হতে চলেছে।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বটগাছটি লোকজন বছরের প্রায় প্রতিদিনই দেখতে আসে। তাদের জন্য বিশ্রাম বা বসার জায়গাটুকু ও এখানে নেই।

এলাকার সচেতনমহল মনে করেন এই বটগাছটি সংরক্ষণ এবং এই স্থানটিতে দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা নিলে এখানে আরো লোকের সমাগম ঘটবে এবং ভবিষ্যতে বর্ষীয়ান এ বটগাছের জন্যই এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

এলাকাবাসীর দাবী এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছটি রক্ষায় যেন প্রশাসনের সু-দৃষ্টি পড়ে এবং তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

বাদশা শেরশাহ’র আমলের স্বাক্ষী বটগাছ

প্রকাশিত : ০৪:১৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

নওগাঁর আত্রাইয়ের শাহাগোলা ইউপির আদর্শগ্রামের পূর্ব পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের একটি বটগাছ। সড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির বিশাল শাখা-প্রশাখা।

শিকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। তবে শতবর্শী হলেও বটগাছটি আজো তাজা তরুণ আর চিরসবুজ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এ বটগাছকে ঘিরে নানা রহস্যে ঘেরা গল্প-কাহিনী আর কল্পগাথা। জানা গেছে, বাদশা শেরশাহর শাসনামলে গ্র্যান্ডটাংক রোড নির্মাণকালে আত্রাইয়ের শাহাগোলার আদর্শগ্রামের কাছে এ বটগাছটি রোপণ করা হয়েছিল।

সে সময় এ এলাকায় বিল ছিল। রোদ বৃষ্টির মাঝে কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল ফলাতো। রাখালেরা মাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্য গবাদিপশুকে ছেড়ে দিয়ে ক্লান্ত শরীরে শীতল ছায়ার প্রতিক্ষায় থাকতো।

আর সে কারণেই নাকি এ বটগাছ রোপণ করা হয়েছিলো। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে কৃষক যখন অতিষ্ট ঠিক তখনই একটু শীতল ছায়ার আশায় এ বট বৃক্ষের নীচে জমা হতো।

এ বটবৃক্ষ সম্পর্কে আলাপচারিতায় ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ জানান, আমার জন্মের পর থেকেই এ বটগাছটি দেখে আসছি। এই বটগাছের কত বয়স হবে তা আমরা সঠিকভাবে বলতে পারবো না।

এখন বটগাছের নিচে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম ঘটে। এ বটগাছটি যেন সেই আদিম সনাতন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সারকথা আজো সবার সামনে তুলে ধরে আছে।

তিনি আরো জানান, অযত্ন-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছের অস্তিত্ব নষ্ট হতে চলেছে।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বটগাছটি লোকজন বছরের প্রায় প্রতিদিনই দেখতে আসে। তাদের জন্য বিশ্রাম বা বসার জায়গাটুকু ও এখানে নেই।

এলাকার সচেতনমহল মনে করেন এই বটগাছটি সংরক্ষণ এবং এই স্থানটিতে দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা নিলে এখানে আরো লোকের সমাগম ঘটবে এবং ভবিষ্যতে বর্ষীয়ান এ বটগাছের জন্যই এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

এলাকাবাসীর দাবী এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছটি রক্ষায় যেন প্রশাসনের সু-দৃষ্টি পড়ে এবং তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান