রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রকৌশলীগণ উন্নয়নের কারিগর। তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা ও চেতনায় থাকতে হবে দূরদর্শিতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ বলেন, আগামী ২০৫০ এবং ২১০০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেমন হওয়া উচিত বা বাংলাদেশ কোন স্তরে পৌঁছাবে, তা বিবেচনায় রেখেই প্রকৌশলীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আজকের নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করবে। তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও জ্ঞানকে এ লক্ষ্যে কাজে লাগাতে হবে।
বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ, এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশে আছে বিপুল মানবসম্পদ, উর্বর কৃষিভূমি ও সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ। জনবহুল এই দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পিত উপায়ে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র এখন মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এ মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে আমাদের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা হয়। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দেশের গণতন্ত্র আজ মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
মো. আবদুল হামিদ বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল তা আজও আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১সহ শতবছর মেয়াদী ব-দ্বীপ ২১০০ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আজকের শিক্ষিত তরুণরাই এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করেন। ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশ নেন।
সমাবর্তনে সনদ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন স্নাতক পর্যায়ের ২ হাজার ১৪৮ জন, মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৭৯ জন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ২ জন ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনকারী ২ জন। এছাড়া, সেরা মেধাবী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক লাভ করেন ৪ জন। তারা হলেন- ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ই এম কে ইকবাল আহামেদ, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের রুবায়া আফসার, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সঞ্চয় বড়ুয়া এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাশেদুর রহমান।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

















