০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ ভালুকা মুক্ত দিবস

আজ ৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা মুক্ত দিবস। মুুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদের কাছে ভালুকা ক্যাম্পে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে এ দিনে মুক্ত হয় ভালুকা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর নিয়ে এফজে-১১নং সাব-সেক্টর গড়ে তোলেন বৃটিশ ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ।

শুরুতে ১টি মাত্র রাইফেল ও ৮ জন সদস্য নিয়ে উপজেলার মল্লিকবাড়ী গ্রামে গোপনে এ বাহিনী গঠিত হলেও একের পর এক সফল অভিযানে অল্প সময়ের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বিশাল বাহিনীতে পরিণত হয় আফসার বাহিনী।

ভারতের মেঘালয় থেকে প্রশিক্ষণ ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে আফসার বাহিনী অপ্রতিরোদ্ধ গতিতে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা ভালুকার ঐতিহাসিক ভাওয়ালিয়াবাজু নামক স্থানে শিমুলিয়া নদীর পাড়ে পাক বাহিনীকে পরাস্ত করতে দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টা একটানা যুদ্ধ করে।

এ সময় মল্লিকবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নান নামে ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্র শহীদ হন। ভালুকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনিই প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। দু’দিনের বিরতিহীন যুদ্ধে শতাধিক পাকসেনার মৃত্যু ঘটে। এ সফল অভিযান তৎকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছাড়াও অল-ইন্ডিয়া রেডিও এবং বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আফসার বাহিনীর ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ভালুকা মুক্ত দিবস পালনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আজ ভালুকা মুক্ত দিবস

প্রকাশিত : ০২:২০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

আজ ৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা মুক্ত দিবস। মুুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদের কাছে ভালুকা ক্যাম্পে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে এ দিনে মুক্ত হয় ভালুকা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর নিয়ে এফজে-১১নং সাব-সেক্টর গড়ে তোলেন বৃটিশ ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ।

শুরুতে ১টি মাত্র রাইফেল ও ৮ জন সদস্য নিয়ে উপজেলার মল্লিকবাড়ী গ্রামে গোপনে এ বাহিনী গঠিত হলেও একের পর এক সফল অভিযানে অল্প সময়ের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বিশাল বাহিনীতে পরিণত হয় আফসার বাহিনী।

ভারতের মেঘালয় থেকে প্রশিক্ষণ ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে আফসার বাহিনী অপ্রতিরোদ্ধ গতিতে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা ভালুকার ঐতিহাসিক ভাওয়ালিয়াবাজু নামক স্থানে শিমুলিয়া নদীর পাড়ে পাক বাহিনীকে পরাস্ত করতে দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টা একটানা যুদ্ধ করে।

এ সময় মল্লিকবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নান নামে ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্র শহীদ হন। ভালুকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনিই প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। দু’দিনের বিরতিহীন যুদ্ধে শতাধিক পাকসেনার মৃত্যু ঘটে। এ সফল অভিযান তৎকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছাড়াও অল-ইন্ডিয়া রেডিও এবং বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আফসার বাহিনীর ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ভালুকা মুক্ত দিবস পালনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান