হুয়াংহো নদীকে “চীনের দুঃখ” বলা হত। চট্টগ্রাম আনোয়ারা – কর্ণফুলী দুই উপজেলা বন্যহাতির আক্রমণ যেন হুয়াংহো নদী। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ বন্যহাতি দল কেইউপিজেট দেয়াং পাহাড় থেকে সন্ধ্যা লোকালয়ে নেমে তান্ডবের আঘাতে নিহত আর আহতদের সংখ্যা সীমাহীন। স্থানীয় দাবি আরো কতোজন মানুষ নিহত আর আহত হলে বনবিভাগ এবং প্রশাসন বন্যহাতির সারানো জন্য উদ্যােগ গ্রহণ করবে। আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকা অনুসন্ধানে তথ্য উঠে এসেছে বন্যহাতির তান্ডবকে কাজে লাগিয়ে রমরমা সিন্ডিকেট টাকার বাণিজ্য। বন্যহাতিকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে কিছু সরকারি কর্মকর্তা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা – কর্ণফুলী উপজেলা মানুষের আতংকিত নাম বন্যহাতি।
বন্যহাতিগুলো দিনের বেলায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) দেয়াং পাহাড় অবস্থা করে। তবে এবার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে হাতিগুলো দেয়াঙ পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতিগুলো তাড়াতে আধুনিক কোনো প্রযুক্তিও নেই। একাধিক সূত্র জানায়, ২০১২ সালের পর থেকে অন্তত প্রতি বছর আনোয়ারায় ঢুকে পড়ছে বন্যহাতি।
বিগত ১০ বছর যাবৎ দেয়াং পাহাড়ের অবস্থান করা বন্যহাতি দলটি প্রতিদিন সন্ধ্যায় হলে লোকালয়ে নেমে তান্ডব চালিয়ে বেড়াচ্ছে।আগে বন্যহাতি ছিল একটি সাম্প্রতিক গত ৩/৪ মাসের আরো ৩টি বন্যহাতি যোগ হয়েছে।দিনের বেলায় বন্যহাতি গুলো দেয়াং পাহাড়ের অবস্থান করলে সন্ধ্যায় হলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে আনোয়ারা উপজেলায় বৈরাগ,মোহাম্মদপুর, ফকিরখিল, বটতলী, হাজিগাঁও, গুচ্ছগ্রামে এবং কর্ণফুলী উপজেলায় বড়উঠান, দৌলতপুর, দক্ষিণ শাহমীরপুর বন্যহাতিগুলো তান্ডব চালায়।
আনোয়ারায় :: বন্যহাতি তান্ডবে নিহত-
১৩ জুলাই ২০১৮ সালে বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে আবদুর রহমান (৭৫) এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ২৬ জুন ২০১৯ সালে বটতলী ইউনিয়নের পুরাতন গুচ্ছগ্রামে বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট মোমেনা খাতুন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।১৫ জুলাই ২০১৯ সালে বৈরাগ ইউনিয়নের কান্তিরহাট হলিফাপাড়া এলাকায় আকতার হোসেন চৌধুরী (৫৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
১৭ আগস্ট ২০১৯ সালে তৈলারদ্বীপ এলাকার আলী মাষ্টারের বাড়িতে আবদুল মোতালেব বাবুল (৬৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। ৭ জানুয়ারি ২০২০ সালে বটতলী ইউনিয়নের নুর পাড়ার বন্যহাতির আক্রমণে মোহাম্মদ সোলায়মান (৮৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ইং রোববার রাত পৌনে ১টার দিকে বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক গ্রামে বন্যহাতির আক্রমণে রানী দেবী (৪৫) নামের ওই নারী নিহত হন। তিনি ডাক্তার অরুন দাশের স্ত্রী।১১ অক্টোবর, ২০২১ সালে বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্যম গুয়াপঞ্চক গ্রামের মোহাম্মদ উল্যা পাড়া এলাকায় আনুমানিক বয়স ৫০ বছরের মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বন্যহাতি তান্ডব আহত ও ক্ষয়ক্ষতি-
১৭ ডিসেম্বর (শনিবার) রাত সারে ৯ টায় বন্যহাতির পাল বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে ৫ নং ওয়ার্ডে মাওলানা জালাল উদ্দীন বাড়ীতে বন্যহাতি তান্ডবে মোশাররফ আলী বসতবাড়ি দেওয়াল ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ১৩ নভেম্বর (রবিবার) রাতে বৈরাগ ইউনিয়নের মুহাম্মদপুরের শিহাবুল হক চৌধুরী চাষাবাদকৃত কলাবাগান, সবজিসহ নারিকেল চারা খেয়ে পেলে বন্যহাতির দলটি।১৯ জুন (রবিবার) রাত ১১ দিকে বন্যহাতি মধ্যম গুয়াপঞ্চক ৫নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ উল্যা পাড়া এলাকায় মোঃ আব্দুলের বসতবাড়িতে তান্ডব চালায়।
৯ মার্চ (বুধবার) রাত ১২টায় দিকে বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্যম গুয়াপঞ্চক গ্রামের আবদুর রাজ্জাক এবং আরিফের মুদির দোকানের দেয়াল-দরজা ভেঙ্গে চাল,ডাল ও আলুর বস্তা বের করে রাস্তায় নিয়ে নষ্ট করার অভিযোগ। একই রাতে বন্যহাতির তান্ডবের আবুল বসরের বসতঘরের দরজা ভেঙ্গে ধান খেয়ে বিনষ্ট করার অভিযোগ বন্যহাতি বিরুদ্ধে। পহেলা ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত ২টায় মধ্যম গুয়াপঞ্চক ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ রফিকুল ইসলামের মুদির দোকানের দেয়াল ভেঙ্গে ভূসি,ধান,চাল,ডাল,আলুর বস্তা বের করে নষ্ট করে ফেলে।একই রাতে গুয়াপঞ্চক মোহাম্মদ উল্ল্যাপাড়ার মোঃ ওসমান গণির বাড়ির বাউন্ডারির দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে।প্রচুর গাছপালা ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
২১ জুন ২০১৯ সালে বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে আমুর পাড়া এলাকায় শহিদুল এক শিশু আহত হয়।
কর্ণফুলীতেঃ বন্যহাতি আক্রমণে আহত ও নিহত-
বন্যহাতির আক্রমণে ২০১২ সালেও মরিয়ম আশ্রম এলাকায় জুয়েল দাশ নামে এক ছাত্র। ২০ ফব্রুয়ারি ২০ সালে কর্ণফুলী উপজেলায় বড়উঠান ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ শাহমীরপুর মায়া রানী বড়ুয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।১৬ সেপ্টেম্বর,২১ সালে বড়উঠান খিলপাড়া গ্রামের খিলপাড়া মসজিদের ইমাম মাওলানা ইয়ার মোহাম্মদ আনোয়ারী (৪৫) নামের এক ইমাম গুরুতর আহত হয়েছেন।
০৮ ফেব্রুয়ারি ২২, বন্যহাতি আক্রমণে আবদুর সবুরের ছেলে মো. এনাম (২২) ও ননি গোপালের ছেলে সজীব দে (২০)। তারা দুইজনেই আনোয়ারা কোরিয়ান কেপিজেডে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।১২ ফেব্রুয়ারি ২২, বড়উঠান ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে বন্য হাতি তাণ্ডবে পাঁচটি পরিবারের সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- মো. মোরশেদ, মো. নাজিম উদ্দীন, বিটু রানী দে, রুপন চন্দ্র দে ও বাবুল কান্তি দে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ক্ষতিগ্রস্তরা বন্যহাতি বিরুদ্ধে থানা জিডি করতে হলে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত ছবি এবং পরিমাণ নির্ধারণ করে কম্পিউটারের দোকানে গেয়ে ১৫০-২০০ শত টাকা দিয়ে আবেদন লেখতে হয়। তারপর আবেদন কপিটি নিয়ে থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসার কাছে জমা দিতে হবে।ডিউটি অফিসার অভিযোগ ফাইলে জমা রাখবে।তারপর ২-৩ দিন পর পুলিশের একটা টিম ঘটনা স্থানের পরিদর্শন করবে। পুলিশের টিমের তদন্তে আগ পযর্ন্ত বন্যহাতি আক্রাণের ক্ষয়ক্ষতির যেমন ছিল তেমন চিত্র রাখতে হবে। পুলিশের তদন্ত শেষে যাওয়া সময় দিতে হবে বকশিস। ক্ষতিগ্রস্ত যে ব্যক্তি বকশিস কম দিবে। পুলিশের তদন্তের সেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততোই কমে যাবে। তারপর কয়েকদিন পর পুলিশের একটা ফাইনাল তদন্ত ফাইল দিবে। অভিযোগ তদন্তকারী সেই পুলিশ কর্মকর্তা থেকে বকশিসের বিনিময়ে ফাইলটি সংগ্রহ করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুলিশের তদন্ত ফাইনটি সাথে বন বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ফাইল নিয়ে প্রথমে ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কাছ থেকে স্বাক্ষর, ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষর তারপর ইউএনও স্বাক্ষর সর্বশেষ নিতে হবে বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা স্বাক্ষর নিতে হবে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির সবার স্বাক্ষর নেওয়া পর বনবিভাগের অফিসে জমা দিতে হবে।
ভুক্তভোগী মোশাররফ আলী জানান,বন্যহাতির পাল গত ১৭ ডিসেম্বর শনিবার রাত সারে ৯ টার দিকে আমার সেমিপাকা বসতঘরের ১২ ফুট বা ১৫ ফুট বিশিষ্ট বসত ঘরের পাকা দেওয়ান ভেঙ্গে উড়িয়ে দেয়, তাতে একাংশের পাকা স্থানও খুঁড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।পরবর্তীতে হাতি চলে যাওয়ার পরে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করি এবং উত্তরপ ঘটনায় সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ অনুমান ৬০,০০০/- টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ চেয়ে থানায় অভিযোগ করাতে গেলে দায়িত্ব ডিউটি অফিসার এএসআই নুরুন্নাহার আমার সাথে অকথ্য ভাষায় কথা বলে। বন্যহাতি তান্ডবে ক্ষয়ক্ষতি জন্য থানায় অভিযোগ করতে হয় নাকি? আচ্ছা দেন অভিযোগটা দেখি, বিস্তারিত না পড়ে এখানে এতো টাকা ক্ষয়ক্ষতি দেখাচ্ছেন কেনো? এই বলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, অভিযোগটি সাথে ক্ষয়ক্ষতির ছবি নেই কেনো? অভিযোগ নেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী প্রায় ২ ঘন্টা অপেক্ষা পর এএসআই নুরুন্নাহার অভিযোগটি গ্রহণ করেন।তখন ডিউটি অফিসার কক্ষে একাধিক ব্যক্তি এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারপর বন্যহাতির ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পরিদর্শন আসেন এসআই করিম। তদন্তের কার্যক্রম শেষ করে যাওয়া সময় বকশিস দেওয়া হয়।এসআই করিম ২ দিন পড়ে সন্ধ্যা কল দিয়ে ভুক্তভোগী মোশাররফ আলীকে সন্ধ্যায় থানা গিয়ে দেখা করতে বলেন। ভুক্তভোগী সন্ধ্যায় থানা গেলে এসআই করিমের সাক্ষাৎ না পেয়ে এসআই করিমের মোবাইল নাম্বারটা ২০ বারের অধিক কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দের ঘন্টা পর এসআই করিম কল দিয়ে বলে ওনি একটা কাজে ব্যস্থ আছে। আগামীকাল শুক্রবার আসবেন আপনার কাজ ওকে আছে। এই ভাবে ঘুরাতে থাকে। অবশেষে ওসি মহোদয় বিষয়টি সুন্দর একটা সমাধান দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আবু ফয়েজ জানান, বন্যহাতি তান্ডবে আমার মুদি দোকানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। আমি থানায় ২টি জিডি করছি। প্রথমটি তদন্ত আসা পুলিশ কর্মকর্তা ১ হাজার টাকা নিয়েছে।২য় জিডিতে তদন্ত আসা পুলিশ কর্মকর্তা ২ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপর পুলিশের ফাইনাল তদন্তে পড়ে আমাকে একটি ফাইন দে তার জন্য ৩ হাজার টাকা দাবি করে।টাকা কম দিলে আমার ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ একদম কমিয়ে দিবে বলে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি প্রদান করে।অবশেষে ২ হাজার টাকা দিয়ে তদন্তে ফাইলটি নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল জানান, বন্যহাতি আমার বসতবাড়ি তান্ডব চালিয়ে দেয়াল, দরজা, ঘরের সিলিং মালামাল ভেঙ্গে দিয়েছে।সাংবাদিকরা খবর পেয়ে পত্রিকা নিউজ করে।আমি থানায় গিয়ে কম্পিউটার দোকান থেকে অভিযোগ লেখে থানায় গিয়ে জিডি করি। জিডি সময় পুলিশ কর্মকর্তা বললেন ঘটনা স্থান গিয়ে পুলিশ তদন্ত করবো।বাসার জিনিস যেমন আছে তেমন রাখবেন এই বলে ৫০০ টাকা নিয়েছেন ডিউটি অফিসার। ৩ দিন পর এসআই শাহজাহান ঘটনা স্থানে যায়। সাংবাদিক কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন সাংবাদিকেরা কি করবে এগুলো আমাদের কাজ বিস্তারিত দেখে আমি তদন্ত করবো। তারপর চা- নাস্তা খেয়ে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী আরো জানান, আমি গরীর মানুষ। দর্জি কাজ করে কোন রকম সংসার চালায়।আমার কোমরের সমস্যা কারণে ঠিক মতো কাজ করতে পারি না। এসআই শাহজাহান বললেন আমরা যে তদন্ত করতে করছি।সেটার জন্য বকশিস দিতে হবে। তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে। আপনাদের এতোই ক্ষয়ক্ষতির হয়নি। তারপর দেড় হাজার টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে বিরাট ক্ষতি সম্মুখীন হতে হবে বলে জানান এসআই শাহজাহান। ৩ দিন পড়ে ফোন করে বলে আপনার ফাইন সবকিছু ওকে আছে। তদন্ত ফাইটি জন্য অনেক খরচ আছে, আপনি ৩ হাজার টাকা মতো নিয়ে আসিয়েন। দীর্ঘ মিনতির পর ২ হাজার টাকা দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদকটি নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, বন্যহাতি তান্ডবে ক্ষয়ক্ষতি হলে লাভ বেশি।তবে সিস্টেম জানতে হয়। কম্পিউটার দোকান গিয়ে একটা জিডি আবেদন নিয়ে ডিউটি অফিসার দের হাজার টাকা দিলে কাজ শেষ। পুলিশের আর বাড়িতে গেয়ে তদন্ত করতে হয় না। ক্ষয়ক্ষতির যা দিয়েছেন তার পর তদন্ত সাথে মিল পাওয়া গেলে বলে তদন্ত রির্পোট দেওয়া হবে কাজ শেষ। তিনি আরো জানান, বন্যহাতিতে বন্যহাতি আক্রমণ শুধুই লাভ। যারা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা বারবার ক্ষয়ক্ষতির প্রনোদনা পাচ্ছে।
সরেজমিনের পরিদর্শন করে সম্প্রতি এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বন্যহাতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বার বার হয়রানি শিকার হচ্ছে। একটি চক্র বনবিভাগ এবং পুলিশের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় নিয়ে চলতেছে রমরমা টাকার বাণিজ্য। চক্রুটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলবে আমাকে কিছু খরচের টাকা দিলে আপনাদের ক্ষতিপূরণ নেওয়া জন্য যা কিছু করার দরকার আমরা করবো।আপনি শুধু থানায় গিয়ে জিডিটা করলে হবে।বাকিটা আমি সবকিছু ঠিক করে দিব। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, বনবিভাগ কিছু অসাধু কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কল দিয়ে ডেকে নিয়ে বলবে আপনার যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেখাচ্ছেন। তা কখন কৃতপক্ষ দিবে না। একটা কাজ করেন আমি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিব। সরকারের পক্ষ থেকে টাকা চেক আসলে। আপনার নির্ধারিত টাকা গুলো নিয়ে বাকি টাকা গুলো আমাদের দিয়ে দিবেন।এতো আপনারও লাভ হবে সাথে আমারও।
বন্যহাতি আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জিডি তদন্তে জন্য কোন প্রকার টাকা দিতে হয় কি জানতে চাইলে আনোয়ারা থানা অফিসার ইনচার্জ মির্জা মোহাম্মদ হাছান জানান,ভুক্তভোগীরা যদি থানা জিডি করেন, আমাদের পুলিশের টিম ঘটনা স্থানের গিয়ে তদন্ত করে আসবে। তাদেরকে কোন প্রকার টাকা দিতে হবে না। প্রত্যেকটি জিডিতে তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তা ২/৩ হাজার করে নিচ্ছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কারা নিচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্তে মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যহাতি রমরমা ব্যবসা বিষয়ে জানতে চাইলে, শেখ জোবারয় আহমেদ জানান, বন্যহাতি তান্ডবকে কাজে লাগিয়ে কারা রমরমা ব্যবসা করতেছে বিষয়টি আমাদের নলেজে নেই।ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় একটা জিডি করে তদন্তের রির্পোট ভিত্তিতে আমাদের বন বিভাগে সুপারিশ কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরন দেওয়া হয়। কারা বন্যহাতি আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতেছে বিষয়টা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাঁশখালী জলদি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জান জানান,বন্যহাতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তদন্ত সাথে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। বন্যহাতিগুলো ছড়ানো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বন্যহাতি গুলো কখনো ছড়ানো যাবে না। যদি বন্যহাতিগুলো কোন সময় কোন দিকে যায়।তাহলে চলে যাবে আরকি? বন্যহাতি রমরমা ব্যবসায়ের বিষয়ে তিনি জানান এই রকম কোন সুযোগ নেই। প্রমাণে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















