০৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

সরঞ্জাম দপ্তর ইস্যুতে বারেসাএসাএ’র উপদেষ্টা ও পরিচালকদের বৈঠক : ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স অ্যান্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারেসাএসাএ)-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ের সরঞ্জাম দপ্তর ঘিরে চলমান বিতর্ক, বিশেষ করে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (CCS) দপ্তর স্থানান্তর ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এ সভায়।

সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে সংগঠনের সম্মেলন কক্ষে সভাপতি ফেরদৌস হুদার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সরঞ্জাম বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি, নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, নুরুল করিম, কৃষ্ণ প্রসাদ দাশ গুপ্ত, খন্দকার গোলাম কিবরিয়া এবং আহসান কবির।

এছাড়া সংগঠনের পরিচালকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনায়েত কবির, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি বাবুল, জাকির হোসেন, শাহিন হোসেন, আরিফুর রহমান, জাহিদুল হক জাহিদ, এ কে এম মাহফুজুর রহমান পিপলু, খন্দকার তারিকুল ইসলাম এবং মঈনুল আহসান রাসেল।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম দপ্তর দেশের রেল ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা সরাসরি সাপ্লাই চেইন ও অপারেশনাল কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে এই দপ্তরকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (CCS) দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরঞ্জাম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং এতে দেশের বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সভায় আরও বলা হয়, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিদ্যমান অবকাঠামো, বন্দরনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সরঞ্জাম দপ্তরের কার্যক্রম বর্তমান অবস্থানেই বহাল রাখা যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়েও মতামত প্রদান করেন। তারা বলেন, রেলওয়ের স্বার্থ রক্ষা, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি, যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর পরিসরে মতবিনিময় সভা ও কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বারেসাএসাএ নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং দেশের রেলওয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে কারখানায় সেনাবাহিনীর অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

সরঞ্জাম দপ্তর ইস্যুতে বারেসাএসাএ’র উপদেষ্টা ও পরিচালকদের বৈঠক : ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ

প্রকাশিত : ০৪:৩৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স অ্যান্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারেসাএসাএ)-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ের সরঞ্জাম দপ্তর ঘিরে চলমান বিতর্ক, বিশেষ করে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (CCS) দপ্তর স্থানান্তর ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এ সভায়।

সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে সংগঠনের সম্মেলন কক্ষে সভাপতি ফেরদৌস হুদার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সরঞ্জাম বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি, নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, নুরুল করিম, কৃষ্ণ প্রসাদ দাশ গুপ্ত, খন্দকার গোলাম কিবরিয়া এবং আহসান কবির।

এছাড়া সংগঠনের পরিচালকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনায়েত কবির, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি বাবুল, জাকির হোসেন, শাহিন হোসেন, আরিফুর রহমান, জাহিদুল হক জাহিদ, এ কে এম মাহফুজুর রহমান পিপলু, খন্দকার তারিকুল ইসলাম এবং মঈনুল আহসান রাসেল।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম দপ্তর দেশের রেল ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা সরাসরি সাপ্লাই চেইন ও অপারেশনাল কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে এই দপ্তরকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (CCS) দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরঞ্জাম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং এতে দেশের বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সভায় আরও বলা হয়, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিদ্যমান অবকাঠামো, বন্দরনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সরঞ্জাম দপ্তরের কার্যক্রম বর্তমান অবস্থানেই বহাল রাখা যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়েও মতামত প্রদান করেন। তারা বলেন, রেলওয়ের স্বার্থ রক্ষা, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি, যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর পরিসরে মতবিনিময় সভা ও কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বারেসাএসাএ নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং দেশের রেলওয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

ডিএস./