ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানোর একদিন পর ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এর আগে তারা পুরো একদিন দূতাবাস প্রাঙ্গণ চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে এবং সেখানে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক হামলা চালায়।
এই হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২০ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
গত রোববার ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানপন্থী এই বাহিনীর কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা চালায় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো। ওই হামলায় ইরান সমর্থিত কাতায়েব হেজবুল্লাহ বা পিএমই ‘র ২৫ যোদ্ধা নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়।
মার্কিন বিমান হামলায় নিহতদের জানাজায় যোগ দিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাগদাদে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার মানুষ। এরপর তারা বাগদাদের গ্রিনে জোনে অবিস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দিকে এগিয়ে যায় এবং দূতাবাস ভবনটি ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা বাইরে থেকে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে।
এক পর্যায়ে দূতাবাসের প্রধান ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর তারা দূতাবাসের অভ্যর্থণা অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। তারা মার্কিন সেনাদের ইরাক ছেড়ে যাওয়ারও দাবি করে। বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
এসময় দূতাবাসের অভ্যন্তরে থাকা নিরাপত্তা সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে কমপক্ষে ২০ বিক্ষোভকারী আহত হন বলে জানিয়েছে পিএমই। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন ধরে দূতাবাস অবরোধ করে রাখে ক্রুদ্ধ বিক্ষোভকারীরা।
পরে বুধবার বিক্ষোভকারীদের মার্কিন দূতাবাস থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য উদ্যোগী হয় আধা সামরিক বাহিনী পিএম ‘র নেতারা। এসময় পিএমইউ এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলে, ‘তোমরা তোমাদের বার্তা প্রকাশ করেছ। এখন তোমরা চলে যাও।’
দলের হাই কমান্ড থেকে এই নির্দেশ পাওয়ার পরই বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের সামনে থেকে তাঁবুগুলো খুলে ফেলে এবং গ্রিন জোন এলাকা ছাড়তে শুরু করে।
এ সম্পর্কে বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে পিএমইউ জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায় আদেল আব্দুল মাহদির অনুরোধ পাওয়ার পরই তারা অবরোধকারী জনতাকে অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন।
আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বুধবার এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলা’বলে উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে তিনি ইরাকের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

























