০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

সবার মুখে মেজবাহ উদ্দিন

  • বাবুল হৃদয়
  • প্রকাশিত : ১০:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০
  • 63

ঢাকা অফিসার্স ক্লাব নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সমর্থক পরিবেষ্টিত সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন

ঢাকা অফিসার্স ক্লাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তাদের মর্যাদার লড়াই জমে উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বেইলি রোডে ক্লাব প্রাঙ্গণে ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার ২০২০-২১ সালের জন্য ২২টি পদে নেতা নির্বাচিত হবেন। অফিসার্স ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদাধিকারবলে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম দ্বিবার্ষিক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে কখনো নির্বাচন হয় না। তাই বরাবরের মতো সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদের দিকেই সবার দৃষ্টি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক ক্লাবের প্রশাসনিক প্রধান। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত দুই কর্মকর্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এই দুজনই বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে আছেন। তবে এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মেজবাহ উদ্দিন।

তিনি এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। জনহিতকর কাজ ও সবার সঙ্গে মিশে যাওয়ার  অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে মেজবাহ উদ্দিন সবার কাছেই তুমুল জনপ্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জনসেবামূলক কাজ, সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ নানা ক্ষেত্রে জড়িত থাকায় সবার সঙ্গেই তার হৃদ্যতা। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত। বিসিএস ১১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির সাবেক পিএস, খুলনার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম এর জেলা প্রশাসক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডিসি হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পুরস্কৃত হন মেজবাহ উদ্দিন তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সততা ও নিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত হয়ে আসছেন। কর্মক্ষেত্রে সততা এবং দক্ষতার জন্য একাধিকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায় থেকে পেয়েছেন নানা স্বীকৃতি।

 

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন মেজবাহ উদ্দিন

এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ক্লাবে সবাই শিক্ষিত ভোটার। এখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের পরিচিত। তাই উল্টাপাল্টা তথ্য দিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই। সবাই নিজেদের বিবেচনায় ভোট দেবেন ।’ সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সিনিয়রদের সেবা ও সাধারণ সদস্যদের পাশে থেকে বিনয়ের সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। সেই সূত্রে সদস্যদের অনেকেই আমাকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ক্লাবের সদস্যরা নতুন নেতৃত্ব চাচ্ছেন, তাই প্রার্থী হয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে ক্লাবের আয়-ব্যয়সহ সব কর্মককান্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব। এ ছাড়া সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেব।’

আর সাধারণ সম্পাদক পদে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বিসিএস ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান। তিনি বর্তমান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে তাকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।
অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষের একটি পদের জন্য তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই দুজন। তাঁরা হলেন জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাস। এই পদে অনরূপ্রার্থী হলেন আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।
ভাইস চেয়ারম্যানের তিনটি পদে প্রার্থী ৯ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজনই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খালিদ মাহমুদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল মান্নান, জনপ্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব আনছার আলী খান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোজাম্মেল হক, শ্রম ও কর্মসংস্থানের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মোস্তাক হোসেন, পিএসসি সচিবালয়ের প্রধান মনোবিজ্ঞানী রওশন আরা জামান রুবী ও আনসার ক্যাডারের কর্মকর্তা ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ।

বর্তমানে কর্মরতদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট সৈয়দ ফিরোজ আলমগীর ও পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজিপি) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান।
যুগ্ম সম্পাদকের তিনটি পদের জন্য চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, রাজউকের (সদস্য পরিকল্পনা) আজহারুল ইসলাম খান, সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ্য ড. ফেরদৌসী খান ও ডিএমপির ডিসি (এস্টেট) আসমা সিদ্দিকা মিলি।

ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ ১৪টি। এসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে আছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) জসীম উদ্দীন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন সোহাগ, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আবুল হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ শাহজালাল, বদরুন্নেসা কলেজের সাবেক অধ্যাপক আশরাফুন নেসা রোজী, অতিরিক্ত কর কমিশনার নাশিদ রিজওয়ানা মনির, রাজশাহীর সাবেক ডিসি আমিনুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সাবেক ডিজি মাহ্ফুজার রহমান সরকার, স্থাপত্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান স্থপতি মীর মনজুরুর রহমানরূপ্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মনছুরুল আলম, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সবুর, প্রকৌশলী আবু সাদেক, লেজিসলেটিভ বিভাগের যুগ্ম সচিব জাকেরুল আবেদীন আপেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলওয়ার হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ সাকিব সাদাকাত, সংসদ সচিবালয় পরিচালক (জেলা ও দায়রা জজ) নাছির উদ্দীন সবুজ, আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আখ্তারুজ্জামান, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, দুদকের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ, জনপ্রশাসনের উপসচিব আলমগীর হোসেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার সাহা, জনপ্রশাসনের যুগ্ম সচিব আবিদুর রহমান, রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত, ঢাকা মেডিক্যালের অধ্যাপক আব্দুল হানিফ টাবলু, বিদ্যুৎ বিভাগের উপপ্রধান তানিয়া খান, অপ্রন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব সুরাইয়া পারভীন শেলী, ফিরোজ আহমেদ খান, মৌসুমী হাসান, ডা. নিয়ামুল রোহানী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রত্না পাল, সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিল ও এসইআইপিয়ের মূল্যায়ন সমন্বয়কারী এম এ মজিদ।

অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে আছেন সাবেক সচিব আব্দুল হান্নান। কমিশনের সদস্য হিসেবে আছেন সাবেক সচিব সোহরাব হোসাইন ও বর্তমান জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার ডিসি আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।
উল্লেখ্য অফিসার্স ক্লাবের বর্তমান সদস্য সাত হাজার ৮০ জন। তাঁদের মধ্যে ভোটার পাঁচ হাজার ৪৮৩ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ দশকেরও বেশি পুরনো অফিসার্স ক্লাব সময়ের অগ্রযাত্রায় সিনিয়র কর্মকর্তাদের মিলনস্থল হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট মানদন্ডের ভিত্তিতে যোগ্য বিবেচিত হলে যেকোন বিসিএস অফিসার ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। ক্লাবটি পরিচালনা করে একটি নির্বাহী কমিটি। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব পদাধিকার বলে নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি ২ বছর পরপর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির সদস্যরা নির্বাচিত হন। অফিসার্স ক্লাবের একটি নারী কমিটিও রয়েছে। পদাধিকার বলে এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের স্ত্রী। এই কমিটি সমাজকল্যাণমূলক কাজ ও সামাজিক অনুষ্ঠান করে। সভা, সম্মেলন, বিয়েসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ক্লাবের হলঘর, প্যাভিলিয়ন ও অন্যান্য স্থান ভাড়া দেওয়া হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বামীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত আপসহীন নেত্রী

সবার মুখে মেজবাহ উদ্দিন

প্রকাশিত : ১০:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০

ঢাকা অফিসার্স ক্লাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তাদের মর্যাদার লড়াই জমে উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বেইলি রোডে ক্লাব প্রাঙ্গণে ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার ২০২০-২১ সালের জন্য ২২টি পদে নেতা নির্বাচিত হবেন। অফিসার্স ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদাধিকারবলে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম দ্বিবার্ষিক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে কখনো নির্বাচন হয় না। তাই বরাবরের মতো সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদের দিকেই সবার দৃষ্টি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক ক্লাবের প্রশাসনিক প্রধান। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত দুই কর্মকর্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এই দুজনই বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে আছেন। তবে এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মেজবাহ উদ্দিন।

তিনি এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। জনহিতকর কাজ ও সবার সঙ্গে মিশে যাওয়ার  অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে মেজবাহ উদ্দিন সবার কাছেই তুমুল জনপ্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জনসেবামূলক কাজ, সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ নানা ক্ষেত্রে জড়িত থাকায় সবার সঙ্গেই তার হৃদ্যতা। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত। বিসিএস ১১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির সাবেক পিএস, খুলনার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম এর জেলা প্রশাসক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডিসি হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পুরস্কৃত হন মেজবাহ উদ্দিন তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সততা ও নিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত হয়ে আসছেন। কর্মক্ষেত্রে সততা এবং দক্ষতার জন্য একাধিকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায় থেকে পেয়েছেন নানা স্বীকৃতি।

 

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন মেজবাহ উদ্দিন

এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ক্লাবে সবাই শিক্ষিত ভোটার। এখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের পরিচিত। তাই উল্টাপাল্টা তথ্য দিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই। সবাই নিজেদের বিবেচনায় ভোট দেবেন ।’ সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সিনিয়রদের সেবা ও সাধারণ সদস্যদের পাশে থেকে বিনয়ের সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। সেই সূত্রে সদস্যদের অনেকেই আমাকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ক্লাবের সদস্যরা নতুন নেতৃত্ব চাচ্ছেন, তাই প্রার্থী হয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে ক্লাবের আয়-ব্যয়সহ সব কর্মককান্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব। এ ছাড়া সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেব।’

আর সাধারণ সম্পাদক পদে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বিসিএস ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান। তিনি বর্তমান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে তাকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।
অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষের একটি পদের জন্য তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই দুজন। তাঁরা হলেন জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাস। এই পদে অনরূপ্রার্থী হলেন আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।
ভাইস চেয়ারম্যানের তিনটি পদে প্রার্থী ৯ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজনই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খালিদ মাহমুদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল মান্নান, জনপ্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব আনছার আলী খান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোজাম্মেল হক, শ্রম ও কর্মসংস্থানের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মোস্তাক হোসেন, পিএসসি সচিবালয়ের প্রধান মনোবিজ্ঞানী রওশন আরা জামান রুবী ও আনসার ক্যাডারের কর্মকর্তা ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ।

বর্তমানে কর্মরতদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট সৈয়দ ফিরোজ আলমগীর ও পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজিপি) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান।
যুগ্ম সম্পাদকের তিনটি পদের জন্য চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, রাজউকের (সদস্য পরিকল্পনা) আজহারুল ইসলাম খান, সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ্য ড. ফেরদৌসী খান ও ডিএমপির ডিসি (এস্টেট) আসমা সিদ্দিকা মিলি।

ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ ১৪টি। এসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে আছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) জসীম উদ্দীন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন সোহাগ, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আবুল হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ শাহজালাল, বদরুন্নেসা কলেজের সাবেক অধ্যাপক আশরাফুন নেসা রোজী, অতিরিক্ত কর কমিশনার নাশিদ রিজওয়ানা মনির, রাজশাহীর সাবেক ডিসি আমিনুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সাবেক ডিজি মাহ্ফুজার রহমান সরকার, স্থাপত্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান স্থপতি মীর মনজুরুর রহমানরূপ্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মনছুরুল আলম, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সবুর, প্রকৌশলী আবু সাদেক, লেজিসলেটিভ বিভাগের যুগ্ম সচিব জাকেরুল আবেদীন আপেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলওয়ার হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ সাকিব সাদাকাত, সংসদ সচিবালয় পরিচালক (জেলা ও দায়রা জজ) নাছির উদ্দীন সবুজ, আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আখ্তারুজ্জামান, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, দুদকের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ, জনপ্রশাসনের উপসচিব আলমগীর হোসেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার সাহা, জনপ্রশাসনের যুগ্ম সচিব আবিদুর রহমান, রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত, ঢাকা মেডিক্যালের অধ্যাপক আব্দুল হানিফ টাবলু, বিদ্যুৎ বিভাগের উপপ্রধান তানিয়া খান, অপ্রন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব সুরাইয়া পারভীন শেলী, ফিরোজ আহমেদ খান, মৌসুমী হাসান, ডা. নিয়ামুল রোহানী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রত্না পাল, সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিল ও এসইআইপিয়ের মূল্যায়ন সমন্বয়কারী এম এ মজিদ।

অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে আছেন সাবেক সচিব আব্দুল হান্নান। কমিশনের সদস্য হিসেবে আছেন সাবেক সচিব সোহরাব হোসাইন ও বর্তমান জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার ডিসি আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।
উল্লেখ্য অফিসার্স ক্লাবের বর্তমান সদস্য সাত হাজার ৮০ জন। তাঁদের মধ্যে ভোটার পাঁচ হাজার ৪৮৩ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ দশকেরও বেশি পুরনো অফিসার্স ক্লাব সময়ের অগ্রযাত্রায় সিনিয়র কর্মকর্তাদের মিলনস্থল হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট মানদন্ডের ভিত্তিতে যোগ্য বিবেচিত হলে যেকোন বিসিএস অফিসার ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। ক্লাবটি পরিচালনা করে একটি নির্বাহী কমিটি। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব পদাধিকার বলে নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি ২ বছর পরপর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির সদস্যরা নির্বাচিত হন। অফিসার্স ক্লাবের একটি নারী কমিটিও রয়েছে। পদাধিকার বলে এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের স্ত্রী। এই কমিটি সমাজকল্যাণমূলক কাজ ও সামাজিক অনুষ্ঠান করে। সভা, সম্মেলন, বিয়েসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ক্লাবের হলঘর, প্যাভিলিয়ন ও অন্যান্য স্থান ভাড়া দেওয়া হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ