০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীতে ধর্ষণকালে ভিডিওচিত্র ধারণ, গ্রেফতার ২

রাজশাহীতে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার ভিডিওচিত্র ধারণের অপরাধে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতরকৃতরা হলো, জয়পুরহাট জেলার সতিঘাটা এলাকার আবদুল রহিম মোল্লার ছেলে সোহেল রানা ওরফে একরাম (২৫) ও বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর এলাকার মানু কাজির ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩৬)।

এদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের রাজশাহী রিজিওনাল কো-অডিনেটর ও ইসলামী তাকাফুল বীমা ডিভিশনের রাজশাহীর ইনচার্জ পদে কর্মরত আছেন। জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকায় একরাম নগরীর অলোকার মোড়ের প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের রাজশাহী রিজিওনাল অফিসের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, প্রায় ৬ বছর আগে একরামের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সূত্র ধরে একরাম তার প্রেমিকা কলেজছাত্রীকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতো। বিষয়টি কলেজছাত্রীর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে একরামকে নানা ভাবে বুঝিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তারপরেও একরাম কলেজছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের কথা অমান্য করে তার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। পরে এ ব্যাপারে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে মেয়ের পরিবারের লোকজন অভিযোগ দেয়। এ প্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট একরামকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে ডাকা হলে সে ভবিষ্যতে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ রাখবে না বলে অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে। আর অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন।

এরপরও একরাম ওই কলেজছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ইন্সুরেন্স অফিসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের ভিডিও একরাম পরবর্তীতে তার বন্ধু ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে দেখায় ও তার মোবাইলে কপি করে রাখে। শনিবার (৯ডিসেম্বর) মেয়ের পরিবারের লোকজন জানতে পারলে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায় এবং গোপনে সেই ভিডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করে। পরে রবিবার রাতে ধর্ষক একরাম ও ধর্ষণের ঘটনায় সহায়তা প্রদানকারী ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তুলেছে কাস্টমস হাউস চট্রগ্রাম

রাজশাহীতে ধর্ষণকালে ভিডিওচিত্র ধারণ, গ্রেফতার ২

প্রকাশিত : ০৭:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

রাজশাহীতে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার ভিডিওচিত্র ধারণের অপরাধে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতরকৃতরা হলো, জয়পুরহাট জেলার সতিঘাটা এলাকার আবদুল রহিম মোল্লার ছেলে সোহেল রানা ওরফে একরাম (২৫) ও বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর এলাকার মানু কাজির ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩৬)।

এদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের রাজশাহী রিজিওনাল কো-অডিনেটর ও ইসলামী তাকাফুল বীমা ডিভিশনের রাজশাহীর ইনচার্জ পদে কর্মরত আছেন। জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকায় একরাম নগরীর অলোকার মোড়ের প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের রাজশাহী রিজিওনাল অফিসের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, প্রায় ৬ বছর আগে একরামের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সূত্র ধরে একরাম তার প্রেমিকা কলেজছাত্রীকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতো। বিষয়টি কলেজছাত্রীর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে একরামকে নানা ভাবে বুঝিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তারপরেও একরাম কলেজছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের কথা অমান্য করে তার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। পরে এ ব্যাপারে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে মেয়ের পরিবারের লোকজন অভিযোগ দেয়। এ প্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট একরামকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে ডাকা হলে সে ভবিষ্যতে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ রাখবে না বলে অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে। আর অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন।

এরপরও একরাম ওই কলেজছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ইন্সুরেন্স অফিসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের ভিডিও একরাম পরবর্তীতে তার বন্ধু ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে দেখায় ও তার মোবাইলে কপি করে রাখে। শনিবার (৯ডিসেম্বর) মেয়ের পরিবারের লোকজন জানতে পারলে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায় এবং গোপনে সেই ভিডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করে। পরে রবিবার রাতে ধর্ষক একরাম ও ধর্ষণের ঘটনায় সহায়তা প্রদানকারী ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করে।